Nepal Flood: ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ হড়পা বানের পর নেপালে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত। মৃতের সংখ্যা ৭৩৪, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার। ভারত-সহ একাধিক দেশের বিশেষজ্ঞ ও ত্রাণ সহায়তায় চলছে উদ্ধার, মৃতদেহ শনাক্তকরণ এবং দুর্গত মানুষের কাছে জরুরি সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ।
প্রথম কলকাতা ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালের ভোতে কোশি নদীতে ২৬ আগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের পরও অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান জোরকদমে চলছে। ৩০ আগস্ট শনিবার দুপুর ২টায় নেপালের বিদেশ সচিবের সাংবাদিক বৈঠকে বিপর্যয়ের সর্বশেষ সরকারি পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। নেপাল সরকার জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় প্রায় ১৯ হাজার নিরাপত্তাকর্মী এবং ১৬টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। নিখোঁজ নেপালি ও বিদেশি নাগরিকদের খোঁজ, আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার এবং দুর্গতদের জরুরি সহায়তাই এখন সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকার।
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪, এখনও নিখোঁজ প্রায় ২৪৯৮ (Nepal Flood)
নেপালের বিদেশ সচিব জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত দুর্গত এলাকাগুলি থেকে ৭৩৪টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ২৪৯৮ জনের (Nepal Flood) এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার করা হয়েছে ৮১৮৬ জনেরও বেশি মানুষকে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ২৬১ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। একই সঙ্গে ৪০০-রও বেশি বিদেশি নাগরিক এখনও নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে।
নেপাল সরকার স্পষ্ট করেছে, অনুসন্ধান ও যাচাইয়ের কাজ চলতে থাকায় মৃত, নিখোঁজ এবং ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। সরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে পাওয়া যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী সংখ্যা জানানো হবে। সাধারণ মানুষ এবং দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করা কোনও তথ্য প্রকাশ বা প্রচার না করার জন্যও আবেদন জানিয়েছে সরকার।
আরও পড়ুন : নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়, কাদায় চলছে উদ্ধারকাজ, কবে ফিরবেন নিখোঁজ ভারতীয়রা?
১৯ হাজার নিরাপত্তাকর্মী, ১৬টি হেলিকপ্টারে চলছে উদ্ধার (Nepal Flood)
ভোতে কোশি বিপর্যয়ের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নেপাল সরকার নিজেদের হাতে থাকা সমস্ত প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগিয়েছে। দুর্গত এলাকায় প্রায় ১৯ হাজার নিরাপত্তাকর্মী এবং ১৬টি হেলিকপ্টার (Nepal Flood) মোতায়েন করা হয়েছে। অনুসন্ধান, উদ্ধার, ত্রাণ এবং পুনরুদ্ধারের কাজকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা এবং চিতওয়ান জেলায় নিরাপত্তাকর্মী, প্রাদেশিক ও স্থানীয় প্রশাসন, চিকিৎসাকর্মী এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। দুর্গত এলাকায় যাঁদের জরুরি সাহায্যের প্রয়োজন, তাঁদের কাছে পৌঁছনো এবং নিখোঁজদের সন্ধান করাই এই দলগুলির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ত্রাণের ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা, খাবার, নিরাপদ পানীয় জল, অস্থায়ী আশ্রয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ভারত-সহ তিন দেশের বিশেষজ্ঞ (Nepal Flood)
ভোতে কোশি বিপর্যয়ে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের জন্য বিশেষায়িত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নেপাল সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভারত, চিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সুড়ঙ্গ উদ্ধারের বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো হচ্ছে।
ভারত থেকে ১১ সদস্যের বিশেষায়িত সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল এবং চিন থেকে ৯ সদস্যের দল কাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরাও এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় বিশেষ প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগানো হচ্ছে।
মৃতদেহ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় বায়ুরোধী ব্যাগও নেপালে পৌঁছেছে এবং আরও সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মৃতদেহ শনাক্তকরণের কাজে সহায়তার জন্য ভারত থেকে ১৮ সদস্যের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল নেপালে পৌঁছেছে। দলটি বিশেষ করে ডিএনএ বিশ্লেষণের কাজে সহায়তা করছে।
বিদেশি নাগরিকদের জন্য জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ (Nepal Flood)
বিপর্যয়ে বহু বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকায় নেপালের বিদেশ মন্ত্রকে একটি বিশেষ জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে। এই নিয়ন্ত্রণকক্ষ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। নেপালের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও যাচাই করা তথ্য নিয়মিত আদানপ্রদান করছেন এবং পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় সহায়তা, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, নদী ব্যবস্থা এবং ভাটির দিকে বন্যার ঝুঁকিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বর্ষাকাল এবং নতুন করে বন্যার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ভারতের সাহায্য-সহ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা (Nepal Flood)
নেপাল জানিয়েছে, এই কঠিন সময়ে প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখা হচ্ছে। ভারত, চিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইতিমধ্যেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেছে। পাশাপাশি আমেরিকা, জাপান, কাতার, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশ ও সহযোগী সংস্থার কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে।
নেপাল জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতির আরও মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিবেশী ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সাহায্য চাওয়া হবে।
পুনর্গঠনের জন্যও আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজন হবে (Nepal Flood)
বিপর্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, বাড়িঘর, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত মূল্যায়নের কাজ চলছে। নেপাল সরকার জানিয়েছে, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনের বিস্তারিত হিসাব তৈরি হওয়ার পর নির্দিষ্ট সহায়তার বিষয় জানানো হবে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্ধার, অনুসন্ধান এবং ত্রাণ অভিযানের সমন্বয় ও তদারকিতে যুক্ত রয়েছেন। ২৬ আগস্ট তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং ২৮ আগস্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। নেপালের বিদেশমন্ত্রী ভারত, চিন, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভেনেজুয়েলা এবং আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।
শনাক্ত করা কঠিন মৃতদেহের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা? (Nepal Flood)
দীর্ঘ সময় জলে থাকার কারণে যেসব মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে যেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত বা পচন ধরেছে, সেগুলিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম মেনে সাময়িক ভাবে সমাধিস্থ করা হচ্ছে। তবে সমাধিস্থ করার আগে প্রতিটি মৃতদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে চিকিৎসা দল। পরে পরিবারের সঙ্গে পরিচয় মিলিয়ে দেখার ক্ষেত্রে এই নমুনা কাজে লাগবে। প্রয়োজন হলে ধর্মীয় রীতি পালনের জন্য মৃতদেহ পুনরায় তোলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নেপাল সরকার আরও জানিয়েছে, দেশটি আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন কিছু ভুল খবর সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়েছে। সরকারের বক্তব্য, বর্তমান উদ্ধার ও ত্রাণ পর্যায়ে নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে সুড়ঙ্গ উদ্ধার ও অন্যান্য বিশেষায়িত কাজে। তবে পুনর্গঠনের পর্যায়ে আরও বড় মাত্রায় আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদানের আবেদন (Nepal Flood)
এই ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপাল সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ (Nepal Flood) তহবিল রয়েছে। দেশ-বিদেশে থাকা নেপালি এবং বিদেশি নাগরিকেরা এই তহবিলে অনুদান দিতে পারবেন। তবে অনুদান দেওয়ার আগে সঠিক হিসাব, কিউআর সংকেত এবং সংযোগের সত্যতা যাচাই করে নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে নেপাল সরকার।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পরিস্থিতির নতুন তথ্য সরকারি ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যম ও পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে জানানো হবে।
আরও দেখুন :













