Kolkata International Bookfair 2027: কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২৭-কে আরও বৃহত্তর পরিসরে এবং সুসংগঠিতভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গঠিত হল নতুন পরামর্শদাতা কমিটি। ২১ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১টায় নবান্নের চতুর্দশ তলার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বৈঠকে আগামী বইমেলার আয়োজন, ব্যবস্থাপনা, অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রসঙ্গত ২০২৭ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ৫০ তম বর্ষ অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের প্রধান সচিবও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার আয়োজক থাকবে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড। তাদের সঙ্গে সহযোগিতায় থাকবে ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টার এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট। পুরো আয়োজনকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশ দেবে নবগঠিত পরামর্শদাতা পর্ষদ। এই পর্ষদের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দূরদর্শনের পরামর্শদাতা সম্পাদক প্রসেনজিৎ বক্সীকে। আগামী বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত।
বইমেলার পরামর্শদাতা পর্ষদে কারা থাকছেন
বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২৭-এর পরামর্শদাতা পর্ষদে প্রকাশনা, বই বিক্রি, সাহিত্য, শিক্ষা, সমাজসেবা, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে। তালিকায় রামকৃষ্ণ মিশন ও ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিনিধিও রয়েছেন। রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্বোধন পত্রিকার প্রকাশনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বামী আর্যেশানন্দ এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রকাশনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বামী সরস্বতানন্দ মহারাজ পর্ষদের সদস্য হয়েছেন।
প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ডের প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন দেবজ্যোতি দত্ত, অনিল আচার্য, মিলিন্দ দে এবং রাজকুমার বর্মন। সমাজকর্মী তনুজা চক্রবর্তী, আইনজীবী ও দেশের ডাক পত্রিকার সম্পাদক দেবজিৎ সরকার, সমাজকর্মী সপ্তর্ষি চৌধুরী এবং শিক্ষিকা ওফেলিয়া সিংহাও এই পর্ষদের সদস্য।
এছাড়াও রয়েছেন দূরদর্শনের পরামর্শদাতা সম্পাদক প্রসেনজিৎ বক্সী, গ্রন্থ বিকাশ পরিষদের অনির্বাণ দে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. অরিন্দম ভট্টাচার্য, কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বস্তিকার সুকেশ মণ্ডল, ভিএইচ বার্তার জয়ন্ত বিশ্বাস, প্রাবন্ধিক ড. রবিরঞ্জন সেন, লেখক ড. মোহিত রায়, ভারতীয় জনবার্তার অমিতাভ রায় এবং সেকুলার ফাউন্ডেশনের আইনজীবী ওসমান গনি।
পর্ষদে আরও রয়েছেন ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারের অধিকর্তা আশিস গিরি। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন। ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, মাকাইআস এবং রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ফাউন্ডেশনের একজন করে প্রতিনিধিকেও পর্ষদে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে মোট ২৪টি সদস্যপদ বা প্রতিনিধিত্বের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রসেনজিৎ বক্সীর হাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
নতুন পরামর্শদাতা পর্ষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, প্রসেনজিৎ বক্সীকে পর্ষদের আহ্বায়ক করা। বৈঠকের নথি অনুযায়ী, তিনি দূরদর্শনের পরামর্শদাতা সম্পাদক হিসেবে পর্ষদে রয়েছেন এবং একই সঙ্গে পর্ষদের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করবেন।
পর্ষদ প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত বৈঠক করবে। বইমেলার আয়োজনকে আরও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন হলে গিল্ডের অন্যান্য সদস্য এবং আয়োজকদেরও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো যাবে। অর্থাৎ, পর্ষদ শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে থাকবে না; প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় ও পরামর্শ দেওয়ার সুযোগও থাকবে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইমেলার বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা উপ-কমিটিগুলিও প্রয়োজন অনুসারে পরামর্শদাতা পর্ষদের সদস্যদের নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে। ফলে বইমেলার মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা এবং পরামর্শদাতা পর্ষদের মধ্যে সরাসরি সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
পর্ষদের বৈঠক ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারে অথবা পর্ষদ যে কোনও উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্ধারণ করবে সেখানে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই ব্যবস্থার ফলে আগামী বইমেলার প্রস্তুতি শুধু একটি নির্দিষ্ট আয়োজক সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকাশনা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, সমাজসেবা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষের পরামর্শের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়েছে।
দেবজিৎ সরকার-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্তি
নতুন পর্ষদের তালিকায় বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দেবজিৎ সরকারের নামও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বৈঠকের নথিতে তাঁকে আইনজীবী এবং দেশের ডাক পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি সংবাদপত্র সম্পাদনার অভিজ্ঞতাকেও পর্ষদের পরিসরে কাজে লাগানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে বৈঠকের সরকারি নথিতে তাঁকে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কোনও দাবি না করে নথিতে উল্লেখিত পেশাগত পরিচয়কেই ভিত্তি করা হচ্ছে।
একইভাবে পর্ষদে কবি, লেখক, অধ্যাপক, সমাজকর্মী, শিক্ষিকা, আইনজীবী, সাংবাদিকতা ও প্রকাশনা জগতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার মতো বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এক জায়গায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে বলেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট।
প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ডের চার প্রতিনিধি—দেবজ্যোতি দত্ত, অনিল আচার্য, মিলিন্দ দে এবং রাজকুমার বর্মন—বই প্রকাশনা ও বিক্রয় ব্যবস্থার বাস্তব অভিজ্ঞতা পর্ষদে নিয়ে আসবেন। অন্যদিকে রামকৃষ্ণ মিশন ও ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিনিধিত্ব বইমেলার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করবে।
২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি বইমেলা, জায়গা নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা
বৈঠকে আগামী কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার সময়সীমাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে।
বইমেলার মাঠ হিসেবে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক ব্যবহারের জন্য ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে জায়গা বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে বলে বৈঠকে প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ডের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। নথি অনুযায়ী, নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরের মন্ত্রীর কাছে এই আবেদন করা হয়েছে। গিল্ডকে বিষয়টি নিয়ে নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ এবং অনুসরণ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বইমেলার জায়গা নির্বাচন যে গোটা আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়, তা বৈঠকের এই সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যায়। কারণ বইমেলার মতো বৃহৎ জনসমাগমের অনুষ্ঠানের জন্য পরিকাঠামো, যাতায়াত, নিরাপত্তা, স্টল ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য পরিষেবার পরিকল্পনা আগেভাগেই করতে হয়। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠ বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত করা আগামী প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
বৃহত্তর অংশগ্রহণ ও সমন্বয়ের লক্ষ্য
বৈঠকের শুরুতেই জানানো হয়েছিল, আগামী বইমেলায় আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং আগের আয়োজনগুলিতে উঠে আসা বিভিন্ন ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যেই পরামর্শদাতা পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন পর্ষদ গঠনের পিছনে মূল ভাবনা হল বইমেলার আয়োজনকে আরও সমন্বিত এবং অংশগ্রহণমূলক করা।
বৈঠকে রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্বোধন থেকে স্বামী আর্যেশানন্দ এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রণব থেকে স্বামী সরস্বতানন্দ মহারাজ নিজেদের পরামর্শও দেন। তাঁদের মতামতের পরেই পর্ষদের কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
আগামী দিনে পর্ষদ প্রয়োজন অনুযায়ী বৈঠক করবে এবং প্রয়োজনে আরও সদস্য বা আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারবে। বইমেলার বিভিন্ন উপ-কমিটিতে পর্ষদের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ফলে বইমেলার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে পরিচালনাগত নানা বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত সরাসরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে।
২০২৭ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলাকে ঘিরে প্রস্তুতির প্রাথমিক কাঠামো এখন স্পষ্ট। একদিকে প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ডের নেতৃত্বে আয়োজন, অন্যদিকে ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টার ও ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের সহযোগিতা এবং তার উপরে একটি বহুমুখী পরামর্শদাতা পর্ষদ—এই তিন স্তরের কাঠামোতেই এগোবে আগামী বইমেলার প্রস্তুতি। সেই পর্ষদের আহ্বায়ক হিসেবে প্রসেনজিৎ বক্সীর দায়িত্ব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নথি অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই বইমেলার প্রস্তুতিতে এখন মূল লক্ষ্য থাকবে সমন্বয়, অংশগ্রহণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
#KolkataInternationalBookfair2027 #KolkataBookFair #BookFair2027 #PrasenjitBakshi #DebjitSarkar #Doordarshan #BookFair #WestBengal













