Suvendu Adhikari: সাংবাদিকদের সামাজিক সুরক্ষা, বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং নতুন সরকারের প্রথম ১১০ দিনের কাজ—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যে যেমন সাংবাদিকদের জন্য স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা সম্প্রসারণের কথা উঠে এসেছে, তেমনই পুরনো পেনশন ব্যবস্থায় থাকা সাংবাদিকদের মাসিক অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণাও করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আবেদন যাচাই করে ধাপে ধাপে যোগ্য মানুষকে সুবিধার আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে একটি বিষয়—সরকার পরিবর্তনের পর অল্প সময়ের মধ্যে সব প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ১১০ দিন হয়েছে এবং বহু প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক যাচাই, তালিকা তৈরি ও বাস্তবায়নের জন্য সময় প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে একাধিক প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও মানুষকে সরকারি সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের জন্য আয়ুষ্মান ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা সম্প্রসারণ
সাংবাদিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল স্বাস্থ্যসুরক্ষা। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের সাংবাদিকদের আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা আয়ুষ্মান ভারতে সব সাংবাদিককে যুক্ত করব।”
তবে শুধু কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার আওতায় যুক্ত করার কথাই নয়, কোনও সাংবাদিক নির্দিষ্ট যোগ্যতার কারণে সেখানে আটকে গেলে রাজ্যের স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁকে সুরক্ষার আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রে একাধিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।
এখানেই শেষ নয়। সাংবাদিকদের জন্য পুরনো পেনশন ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের ব্যবস্থায় ১৫৪ জন সাংবাদিককে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে পেনশন দেওয়া হত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ১৫৪ জন সাংবাদিককেই এখনও পর্যন্ত ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
এরপর তিনি ঘোষণা করেন, আগস্ট মাস থেকে ওই সাংবাদিকদের মাসিক পেনশন বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আর এই আগস্ট মাস থেকে তারা পাঁচ হাজার টাকা করে পাবে।”
এর পাশাপাশি আরও সাংবাদিককে এই ধরনের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, আবেদন করার সুযোগ থাকবে এবং আবেদনগুলি যাচাই করার জন্য একটি বাছাই কমিটি কাজ করবে।
পেনশন থেকে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা, বাড়ছে সামাজিক সুরক্ষার পরিধি
সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও রাজ্যের অর্থের সমন্বয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা দেওয়া হত। বর্তমান সরকার সেই ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের তথ্য হালনাগাদ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “আগস্ট মাস থেকে তারা দেড় হাজার টাকা করে পাবেন। আমাদের অঙ্গীকার ছিল দু’হাজার টাকা, সেটা আমরা করব।”
এই ঘোষণার তাৎপর্য হল, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে থাকা পুরনো সুবিধাভোগীদের পাশাপাশি নতুন আবেদনকারীদেরও ধাপে ধাপে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে জমা পড়া বহু আবেদন বর্তমানে যাচাই করা হচ্ছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক আবেদন প্রশাসনিকভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করার কাজ চলছে। অর্থাৎ সরকারের বক্তব্যে সরাসরি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি আবেদন যাচাই এবং যোগ্যতা নির্ধারণের প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই অবস্থায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে প্রবীণ, বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
“১১০ দিনে সব চাইলে হয় না”—কাজের সময়সীমা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
নতুন সরকারের কাজের অগ্রগতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ১১০ দিনের সময়সীমার প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ১১০ দিন হয়েছে। এত অল্প সময়ে প্রতিটি প্রকল্পের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১১০ দিনে সব চাইলে হয় না। ওটা তো একটা বড় কাজ।”
তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—একটি প্রকল্প ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই তার সম্পূর্ণ সুবিধা প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছে যায় না। প্রথমে প্রকল্প চালু করতে হয়, তারপর আবেদন গ্রহণ, তথ্য যাচাই, তালিকা তৈরি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সুবিধাভোগীদের যুক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, “লঞ্চিং তো হয় প্রকল্পের, তারপরে আস্তে আস্তে প্রকল্পে যুক্ত হয়।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মূলত নতুন সরকারের কাজের জন্য আরও সময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
অর্থাৎ ১১০ দিনের হিসাবকে তিনি চূড়ান্ত কাজের পরিমাপ হিসেবে না দেখে একটি চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায় হিসেবে তুলে ধরেছেন।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও অন্যান্য জনকল্যাণ প্রকল্প নিয়ে কী অবস্থান?
জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার প্রসঙ্গ তুলেছেন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আবাসন এবং অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পে কে সুবিধা পাচ্ছেন, কে পাচ্ছেন না—এই প্রশ্ন ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তারও জবাব দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিদের ধাপে ধাপে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। তিনি দাবি করেছেন, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সুবিধা বণ্টনের অভিযোগের জবাব দিতে তিনি তালিকা ও তথ্য সামনে আনবেন।
নন্দীগ্রামের একটি গ্রামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, সেখানে হিন্দু ও মুসলিম সুবিধাভোগীদের সংখ্যা নিয়ে তিনি বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করবেন। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদ, মালদহ-সহ বিভিন্ন এলাকার তথ্যও খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যে ছিল, “আমি বের করব তালিকা। কী করেছেন আপনি মুর্শিদাবাদ, মালদহ, গোটা রাজ্যে। এক একটা করে বের করব আমি।”
এখানে অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সংখ্যাগুলি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উত্থাপিত দাবি। সরকারি নথি বা স্বাধীন যাচাই ছাড়া এগুলিকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল যোগ্যতা এবং সুবিধা বণ্টনের প্রক্রিয়া। তিনি জানিয়েছেন, যাঁরা যোগ্য, তাঁরা ধাপে ধাপে সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ প্রকল্পের আওতায় নতুন সুবিধাভোগী যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি চলমান থাকবে।
স্বাস্থ্য, সাংবাদিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণ—সরকারের সামনে একাধিক অগ্রাধিকার
মুখ্যমন্ত্রীর সামগ্রিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, সাংবাদিকদের সামাজিক ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা। দ্বিতীয়ত, প্রবীণ, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি। তৃতীয়ত, বিভিন্ন জনকল্যাণ প্রকল্পে নতুন সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা। চতুর্থত, নতুন সরকারের প্রথম ১১০ দিনের কাজের ব্যাখ্যা দেওয়া।
সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ১৫৪ জনের পেনশন ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার ঘোষণা সরাসরি আর্থিক সুবিধার সঙ্গে যুক্ত। তার পাশাপাশি সব সাংবাদিককে আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ স্বাস্থ্যসুরক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
অন্যদিকে সামাজিক ভাতার ক্ষেত্রে আগস্ট থেকে দেড় হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা এবং ভবিষ্যতে ২ হাজার টাকার অঙ্গীকারও সরকারের সামাজিক সুরক্ষা নীতির অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।
#SuvenduAdhikari #AnnapurnaBhandar #AwasYojana #WestBengalPolitics #BengalPolitics #WestBengalGovernment #WelfareSchemes #AdaniHospital #NewTownHospital #PoliticalNews













