FCRA Amendment Bill 2026: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ১২ আগস্ট লোকসভায় বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা বা তা পেশ হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিল নিয়ে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে পারেন বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
এই সম্ভাবনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্য, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলির মধ্যে উদ্বেগ ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মিজোরাম সরকার জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিলের বর্তমান খসড়ায় এমন কিছু ধারা রয়েছে, যা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
কী এই বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন?
এই আইন মূলত বিদেশ থেকে কোনও ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ বা অনুদান গ্রহণ এবং তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারের দাবি, এর উদ্দেশ্য দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষা, পাশাপাশি বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা।
কী কী পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে?
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলির উপর আরও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া—
কোনও সংস্থার বিদেশি অনুদান গ্রহণের অনুমতি বাতিল, সমর্পণ বা মেয়াদ শেষ হলে তাদের অর্থ ও সম্পদের দেখভালের জন্য কেন্দ্র মনোনীত কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করতে পারবে।
বিদেশি অনুদানের ব্যবহার এবং সম্পদের ব্যবস্থাপনায় সরকারের তদারকি আরও বাড়তে পারে।
নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও কঠোর করার প্রস্তাবও রয়েছে।
কেন আপত্তি মিজোরামের?
মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনীর কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্যের প্রধান গির্জা সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে।
সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজ্য সরকার এবং গির্জা সংগঠনগুলি যৌথভাবে কেন্দ্রের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেবে। সেখানে সংশোধনী বিলে পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে। বর্তমান খসড়া অপরিবর্তিত থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তাদের মত।
সংসদে কী হতে পারে?
সংসদের চলতি অধিবেশনে এই বিল নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। সংসদের অচলাবস্থার মধ্যেও ১২ আগস্ট বিলটি লোকসভায় আলোচনার জন্য আসতে পারে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিল?
এই সংশোধনী কার্যকর হলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সংগঠনের কাজের ধরনে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সরকারের মতে, এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন বিধিনিষেধের ফলে কিছু সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
এখন নজর ১২ আগস্টের লোকসভা অধিবেশনের দিকে। সেদিন বিলটি উপস্থাপিত বা আলোচিত হলে এর চূড়ান্ত রূপ এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলবে।
#FCRAAmendmentBill2026 #AmitShah #LokSabha #FCRA #ForeignFunding #Parliament #IndiaPolitics #Mizoram #HomeMinistry

