Har Ghar Tiranga West Bengal: দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে কেন্দ্র সরকারের ‘ঘর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি জেলা, মহকুমা, ব্লক, পুরসভা এবং কলকাতা পুরসভা এলাকায় মোট ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হবে।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে সমস্ত সরকারি দফতর, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, যুব সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজ্যজুড়ে তিরঙ্গা র্যালি, পদযাত্রা, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি, দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, কুইজ, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা এবং স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে জাতীয় পতাকার তিন রঙের আলোকসজ্জায় সাজানো হবে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিল্পসংস্থা, হোটেল, বিপণিবিতান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদপত্র, বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে এই কর্মসূচির ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১০ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ৩টায় কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশ থেকে একটি বিশাল তিরঙ্গা র্যালি বের হবে। এই কর্মসূচিতে মন্ত্রী, সরকারি আধিকারিক, বিশিষ্ট নাগরিক এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারের দাবি, এই র্যালিতে অন্তত ৫০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
রাজ্যের ২২টি জেলা, কলকাতা পুরসভা, ৪৬টি মহকুমা, ৩৪২টি ব্লক এবং ১৬১টি পুরসভায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে আরও জানানো হয়, ভবানীপুর বিধানসভা এলাকাতেও পৃথকভাবে ৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় শরৎ বসু রোড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত একটি তিরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সেখানে উপস্থিত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, কেন্দ্র সরকারের যে নির্দেশিকা রয়েছে, সেই নির্দেশিকা মেনেই মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে সমস্ত সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে ‘ঘর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ করছে। পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে ৫ আগস্ট থেকে ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১০ আগস্টের কেন্দ্রীয় তিরঙ্গা র্যালির মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

