Journalist Protest: সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে এবার রাজপথে নামলেন সাংবাদিকরা। শুক্রবারের মিছিলকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলা ও নিগ্রহের অভিযোগ ওঠার পরই তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। ঘটনার পর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছিল। সেই প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় আজ সাংবাদিকদের একাধিক প্রতিনিধি পথে নেমে স্পষ্ট বার্তা দিলেন—সংবাদমাধ্যমের উপর আঘাত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
শুধু শারীরিক হামলা নয়, সাংবাদিকদের উপর মানসিক চাপ, মামলা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠে এসেছে সাংবাদিকদের বক্তব্যে। তাঁদের দাবি, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। অন্যদিকে, এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনকে নিয়ে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে অভিযুক্তদের নীরবতা ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে সরব সংবাদমাধ্যম
শুক্রবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই সংবাদমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সাংবাদিকদের অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন কয়েকজন দুষ্কৃতী সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলা চালান। এই ঘটনায় একাধিক সাংবাদিক আক্রান্ত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর সাংবাদিক মহলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়। প্রেস ক্লাবের তরফেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। সাংবাদিকদের বক্তব্য, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কোনও সাংবাদিক যদি আক্রান্ত হন, তাহলে সেটি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির উপর হামলা নয়, বরং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কাজের উপরও আঘাত।
এই কারণেই আজকের প্রতিবাদকে অনেক সাংবাদিক বৃহত্তর গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরবেন এবং সেই কাজ করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়লে তাঁরা নীরব থাকবেন না।
‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে কাজ করতে দিতে হবে’, প্রতিবাদে সাংবাদিকদের বার্তা
প্রতিবাদ মিছিলে সাংবাদিকদের একাংশ স্পষ্ট করে বলেন, সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা প্রশাসনেরও দায়িত্ব। কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিশিষ্ট সাংবাদিক সুব্রত আচার্যের বক্তব্যেও উঠে আসে অতীতে সাংবাদিকদের উপর বিভিন্ন ধরনের চাপের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, শারীরিক হামলার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মানসিক ভাবে চাপে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি সরকারের সমালোচনা করার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার অভিযোগও তিনি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, বাড়িতে নোটিস পাঠানো বা বিভিন্নভাবে চাপ তৈরি করার সংস্কৃতিও বন্ধ হওয়া দরকার। তাঁর মতে, সংবাদমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে গণতন্ত্রের কাঠামোই দুর্বল হয়ে পড়ে।
‘সাংবাদিকরা সহজলভ্য নয়’, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বিশিষ্ট সাংবাদিক ঋতব্রত ভট্টাচার্য বলেন, রাজনৈতিক দলগুলির মিছিল বা কর্মসূচিতে সবসময় কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি ঢুকে পড়তে পারেন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলিরও কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠলে দলীয় স্তরেও তার জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলা আসলে গণতন্ত্রের উপর হামলারই সমান। কারণ সাংবাদিকরা সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেন এবং বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন। সেই কাজ করতে গিয়ে যদি তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
প্রতিবাদে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, অতীতে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনের কারণে অনেক সময় সম্মিলিত প্রতিবাদ গড়ে ওঠেনি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে। সাংবাদিকদের উপর হামলা হলে দল-মত নির্বিশেষে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে প্রতিবাদ করবেন—এমন বার্তাই উঠে এসেছে আজকের কর্মসূচি থেকে।
গ্রেফতারদের নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল কলকাতা পুলিশ
এদিকে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের কয়েকজনকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্তদের কয়েকজনকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। সাংবাদিকদের তরফেও তাঁদের কাছে একাধিক প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল, তাঁরা নিট পরীক্ষা দিয়েছেন কি না। তবে সেই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর অভিযুক্তদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে অভিযুক্তদের নীরব থাকা ঘটনাটিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। যদিও তদন্ত এখনও চলছে, তাই এই মুহূর্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখা যাবে না। তদন্তের পরেই ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।
প্রতিবাদ চলবে, আক্রান্ত হলে আবারও পথে নামার হুঁশিয়ারি
আজকের কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই প্রতিবাদকে তাঁরা এক দিনের কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন না। সাংবাদিকদের উপর হামলা হলে ভবিষ্যতেও তাঁরা পথে নামবেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের একাংশের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের কলম থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কোনওভাবেই সফল হবে না। সাংবাদিকরা তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন এবং সত্য তুলে ধরবেন। সেই কাজে বাধা দেওয়া হলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ আরও জোরদার হবে।
তাঁদের দাবি, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলিকেও নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের আচরণের বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই থাকতেই পারে, কিন্তু সেই লড়াইয়ের মধ্যে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা যেন কোনওভাবেই বিপন্ন না হয়।
আজকের মিছিল তাই শুধু একটি হামলার প্রতিবাদ নয়, বরং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কতদূর এগোয়, আদালতে অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয় এবং প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়—এখন সেদিকেই নজর। তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যে বার্তা আজ রাজপথে দেওয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের উপর হামলা হলে প্রতিবাদ থামবে না, বরং আরও সংগঠিত হবে।
#JournalistProtest #JournalistSafety #MediaAttack #PressFreedom #FreedomOfPress #JournalistRights #KolkataNews #MediaFreedom #JournalistSecurity

