Sikkim Tunnel Collapse: সিকিমে ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নামচি জেলার সামারডুং এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি সুড়ঙ্গে আচমকা ধস নামায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধসের জেরে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং ভিতরে একাধিক শ্রমিক আটকে পড়েন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও বহু শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৭ জন শ্রমিক ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে অনুমান করা হলেও, পরে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের সংখ্যা এবং নিখোঁজদের হিসাবের ভিত্তিতে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। উদ্ধারকারীদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। ফলে একদিকে ধস সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা, অন্যদিকে গ্যাসের ঝুঁকি—দুই চ্যালেঞ্জের মুখে চলছে উদ্ধার অভিযান।
নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে আচমকা ধস, মুহূর্তে বন্ধ প্রবেশপথ
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল প্রায় ৩টা ৪০ মিনিট নাগাদ সুড়ঙ্গ ধসের খবর পাওয়া যায়। ঘটনাটি ঘটে নামচি জেলার সামারডুং এলাকায়, যেখানে তিস্তা ষষ্ঠ পর্যায়ের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল।
নির্মাণকাজ চলাকালীন আচমকা সুড়ঙ্গের একটি অংশে বড়সড় ধস নামে। ধসের কারণে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভিতরে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা এবং তাঁদের বাইরে বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান ছিল, প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ২১ জন এবং জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের ৬ জন কর্মী সুড়ঙ্গের ভিতরে থাকতে পারেন। তবে ঠিক কতজন শ্রমিক দুর্ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে ছিলেন, তা এখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়।
পরবর্তীতে ১২ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এখনও বহু শ্রমিকের খোঁজ মেলেনি বলে আশঙ্কা। ফলে উদ্ধার অভিযান যত দ্রুত সম্ভব সম্পূর্ণ করার চেষ্টা চলছে।
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ এবং আটকে পড়া শ্রমিকদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্মাণ সংস্থা, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকারী দল—সব পক্ষের কাছ থেকেই শ্রমিকদের উপস্থিতির তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
মিথেন গ্যাসের আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা
সুড়ঙ্গে ধস নামার পর উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাসের আশঙ্কা। প্রশাসনের ধারণা, ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরে ধসের কারণে সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রাকৃতিকভাবে মিথেন গ্যাস নির্গত হতে পারে।
এই গ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সুড়ঙ্গের মতো বদ্ধ জায়গায় গ্যাসের মাত্রা বেড়ে গেলে সেখানে কাজ করা উদ্ধারকারীদের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কারও মাথা ঘুরেছে, আবার কেউ অজ্ঞানও হয়ে পড়েছেন বলে খবর।
ফলে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্যাসের উপস্থিতি যাচাই করে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ধাপে ধাপে সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা চলছে।
উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা গ্যাস প্রতিরোধী মুখোশ এবং অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভিতরের বাতাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের মতে, মিথেন গ্যাসের সম্ভাব্য উপস্থিতি, সুড়ঙ্গের সংকীর্ণ পথ, ধসের কারণে তৈরি হওয়া বাধা এবং কম দৃশ্যমানতা—সব মিলিয়ে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দলকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে। দ্রুত উদ্ধার করতে গিয়ে উদ্ধারকারীদের জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে নামল একাধিক সংস্থা, পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বিশেষজ্ঞ দল
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জেলা পুলিশ এবং দমকল বাহিনী।
আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করতে একাধিক দল একসঙ্গে কাজ করছে। ধসের কারণে সুড়ঙ্গের যে অংশ বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেখানে পৌঁছনোর জন্য ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে।
তবে গ্যাসের আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকাজে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বিশেষ গ্যাস-সুরক্ষা সরঞ্জাম-সহ একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্সও মোতায়েন রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলাকালীন কোনও শ্রমিককে বের করে আনা সম্ভব হলে দ্রুত তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে চিকিৎসা পরিষেবাও।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হল সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনা। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে যতটা সম্ভব নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলগুলি ধাপে ধাপে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। কারণ একদিকে ধসের কারণে সুড়ঙ্গের কাঠামো দুর্বল হয়ে থাকতে পারে, অন্যদিকে গ্যাসের উপস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে।
তিস্তা ষষ্ঠ পর্যায়ের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল
দুর্ঘটনাটি যে সুড়ঙ্গে ঘটেছে, সেটি তিস্তা ষষ্ঠ পর্যায়ের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে।
নামচি জেলার সামারডুং এলাকায় এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল। নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গটি প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে এবং প্রকল্পটি জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
সুড়ঙ্গ নির্মাণের মতো কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ি এলাকায় ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরের গঠন, জলস্তর, গ্যাসের উপস্থিতি এবং ভূমির স্থায়িত্ব—সবকিছুর উপর নির্মাণকাজের নিরাপত্তা নির্ভর করে।
এই দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কী কারণে আচমকা এত বড় ধস নামল। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করার পর সুড়ঙ্গের ভিতরের পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। ধসের কারণ, ভূগর্ভস্থ পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য গ্যাস নির্গমনের উৎস—সবকিছু নিয়ে তদন্ত করা হতে পারে।
মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা, নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের সংখ্যা নিয়েও এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৭ জন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে অনুমান করা হয়েছিল। পরে ১২ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা যায়। ফলে এখনও অন্তত ১৮ জনের মতো শ্রমিক ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, শ্রমিকদের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী এই হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
এই মুহূর্তে উদ্ধারকারী দলের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল নিখোঁজ শ্রমিকদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং তাঁদের কাছে পৌঁছনো। সুড়ঙ্গের ভিতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ায় প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।
মিথেন গ্যাসের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারীদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ উদ্ধার অভিযান চলাকালীন কোনও উদ্ধারকারী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সিকিম রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এই মুহূর্তে সিকিমের পাহাড়ি এলাকায় একটাই উদ্বেগ—সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের কত দ্রুত নিরাপদে বাইরে আনা সম্ভব হবে। তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনদের ফিরে আসার আশায়।
উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি স্পষ্ট হবে না। মৃতের সংখ্যা, নিখোঁজ শ্রমিকের সংখ্যা এবং ধসের সঠিক কারণ—সবকিছুই তদন্ত ও উদ্ধারকাজের অগ্রগতির পর আরও পরিষ্কার হবে।
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় একটাই—সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে উদ্ধার করা। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি সেই লক্ষ্যেই জোরকদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
#SikkimTunnelCollapse #SikkimTunnelAccident #SikkimNews #TunnelCollapse #TunnelRescue #RescueOperation #Namchi #NHPC #TeestaStageVI #MethaneGas #IndiaNews #BreakingNews #SikkimDisaster

