Bharat Tex 2026: ভারতের বস্ত্রশিল্পকে বিশ্বজুড়ে বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত চার দিনের আন্তর্জাতিক বস্ত্র প্রদর্শনী ভারত টেক্স ২০২৬ সফলভাবে শেষ হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এবারের প্রদর্শনীতে ১৪,৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে। পাশাপাশি চার দিনে ১ লক্ষ ১৫ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী মেলায় অংশ নেন, যার মধ্যে ১১ হাজারের বেশি ছিলেন দেশি-বিদেশি ক্রেতা।
ভারত টেক্স ট্রেড ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নারায়ণ গোয়েঙ্কা জানান, ক্ষুদ্র তন্তু উৎপাদক থেকে শুরু করে সুতা, কাপড়, পোশাক এবং গৃহসজ্জার সামগ্রী—সমগ্র বস্ত্রশিল্পের মূল্য শৃঙ্খল এক ছাদের নিচে উঠে এসেছে। তাঁর কথায়, “এটি শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের জন্য একটি বড় সাফল্য।”
চার দিনে নজিরবিহীন সাড়া
সহ-চেয়ারম্যান ভদ্রেশ দোরিয়া প্রদর্শনীর পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান—
চার দিনে মোট ১,১৫,০০০-এর বেশি দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
১১,০০০-এর বেশি ক্রেতা অংশ নেন, যার মধ্যে প্রায় ৬,০০০ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতা।
বিশ্বের ১৩৮টি দেশ থেকে প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
১,৬১৭টি সংস্থা প্রদর্শনীতে অংশ নেয়।
অংশগ্রহণকারী সংস্থার প্রায় ৭০ শতাংশই ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগ।
৯০৫টি প্রথমবারের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পায়।
২৮,৫০০-এর বেশি পূর্বনির্ধারিত ব্যবসায়িক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১০০টিরও বেশি সরকার-সরকার ও ব্যবসা-সরকার বৈঠক আয়োজন করা হয়।
মোট ১৪,৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়।
আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারী সংস্থার ৭৫ শতাংশই আগের সংস্করণেও অংশ নিয়েছিল, যা এই প্রদর্শনীর প্রতি শিল্পমহলের আস্থার প্রতিফলন।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ
তুরস্কের শতবর্ষী বস্ত্রপ্রতিষ্ঠান সানকো গ্রুপের প্রতিনিধি ফাতিহ জানান, বহু বছর ধরেই তাঁরা ভারত থেকে কাঁচামাল কিনছেন। এবার তাঁরা ভারতে পুনর্ব্যবহৃত তন্তু উৎপাদনে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বস্ত্রশিল্প পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহৃত উপাদানের ওপর নির্ভর করবে, আর সেই সম্ভাবনা ভারতের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি।
ভারতীয় সংস্থাগুলির ইতিবাচক অভিজ্ঞতা
লিনেন কাপড় ও পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থার প্রতিনিধি অতুল আগরওয়াল বলেন, মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ভারত টেক্স সমগ্র বস্ত্রশিল্পের একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, এবারের ক্রেতাদের মান অত্যন্ত ভালো ছিল এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি যুক্ত হলে প্রদর্শনী আরও কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, জয়পুরের ব্লক প্রিন্ট ও ডিজিটাল প্রিন্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যাব্রিক গোল্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা জানান, ভারত টেক্স তাঁদের ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, পেরুসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নতুন ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছে।
শুধু সংখ্যা নয়, তৈরি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব
সহ-চেয়ারম্যান ভদ্রেশ দোরিয়ার মতে, ভারত টেক্সের প্রকৃত সাফল্য শুধু দর্শনার্থী বা বিনিয়োগের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। এই মেলায় ভারতীয় উৎপাদক, রপ্তানিকারক, স্টার্টআপ, কারুশিল্পী এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগের প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছে, সেটিই ভবিষ্যতে ভারতের বস্ত্রশিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।
ভারতের বস্ত্রশিল্পের জন্য নতুন দিগন্ত
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত টেক্স ২০২৬ প্রমাণ করেছে যে ভারত শুধু বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বস্ত্র উৎপাদকই নয়, বরং ভবিষ্যতের টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী বস্ত্রশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। বিপুল আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, রেকর্ডসংখ্যক ব্যবসায়িক বৈঠক এবং হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আগামী দিনে ভারতের বস্ত্রশিল্পে নতুন কর্মসংস্থান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে।
#BharatTex2026 #IndianTextiles #TextileIndustry #Investment #GlobalTrade #MSME #MadeInIndia #Exports #BusinessNews #Manufacturing
