US Iran Conflict: মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, “ইরানকে ভালো আচরণ করতেই হবে।” তাঁর এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে।
কেন নতুন করে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র?
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করছিল। সেই কারণেই ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নজরদারি কেন্দ্র এবং সামরিক কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সেই সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া, যা আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।
কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে?
মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী—
হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত গ্রেটার তুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সেখানে সংরক্ষিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে।
পাশাপাশি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসে সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, বুধবার দিনের বেলায় দুই দফায় এই হামলা চালানো হয় এবং দ্বিতীয় দফার অভিযান প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে।
ইরানের রাজধানীতে কী ঘটেছে?
হামলার সময় রাজধানী তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে।
এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আহভাজ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় একটি হাসপাতাল খালি করে রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
পাল্টা কী করল ইরান?
ইরানও পাল্টা জবাব দিয়েছে।
তেহরানের দাবি—
বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
পাশাপাশি জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা করা হয়েছে।
তবে জর্ডনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আটটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। এতে কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ট্রাম্প কী বললেন?
মঙ্গলবার রাতেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি আগামী সপ্তাহে আবার আলোচনায় না ফেরে, তাহলে দেশটির সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।
বুধবার সাংবাদিকরা জানতে চান, তিনি কি কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেবেন?
জবাবে ট্রাম্প বলেন,
“আমি সময়সীমা দিতে পছন্দ করি না। তবে তারা সব জানে। তাদের ভালো আচরণ করতেই হবে।”
পরে একটি প্রতিরক্ষা সম্মেলনেও তিনি বলেন,
“ইরান এখন মোটেও সুখে নেই। তারা খুব দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। তারা আমাদের পদক্ষেপ মোটেও পছন্দ করছে না।”
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী হয় নতুন সমঝোতা হবে, নয়তো সামরিক অভিযান আরও জোরদার হতে পারে।
ইরানের অবস্থান কী?
ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জানিয়েছেন, যদি এই সমঝোতা থেকে ইরানের কোনও লাভ না হয়, তাহলে সেটি মেনে চলারও কোনও কারণ নেই।
তিনি বলেন,
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় থাকবে।
আলোচনা এবং যুদ্ধ—দুটোই ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা সংঘাতকে তিনি “অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই” বলেও উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে কেন এত টানাপোড়েন?
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ জারি করেছে। ফলে কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের বন্দর বা উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে পারছে না।
এই অবরোধই দুই দেশের মধ্যে নতুন উত্তেজনার অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি
মার্কিন অবরোধের জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে,
যদি যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থান থেকে না সরে, তাহলে এমন আরও তেল ও গ্যাস রপ্তানি পথ বন্ধ করা হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।
তবে কোন কোন রুট বন্ধ করা হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিল ইরান
উত্তেজনার মধ্যেই একটি ইতিবাচক ঘটনাও সামনে এসেছে।
ট্রাম্প জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আটক থাকা এক মার্কিন নারী নাগরিককে ইরান মুক্তি দিয়েছে।
তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,
“তিনি এখন নিরাপদে ইরানের বাইরে আছেন এবং সুস্থ রয়েছেন। এই সদিচ্ছার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধন্যবাদ জানায়।”
ওই নারীর আইনজীবীও জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে রয়েছেন।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে—
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে।
তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির উপরও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আবারও এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কাও সমানভাবে বাড়ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে এখন নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের।
#USIranConflict #DonaldTrump #Iran #MiddleEast #StraitOfHormuz #BreakingNews #Airstrikes #GlobalSecurity

