Chhattisgarh Maoist Policy: দীর্ঘদিন ধরে নকশাল দমনে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান, গ্রেপ্তার এবং আইনি পদক্ষেপের পথেই এগিয়েছে ছত্তিশগড় সরকার। তবে এবার সেই কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। রাজ্যের নকশাল-বিরোধী নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব মাওবাদী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন বা প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলি আইনি প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে নকশালমুক্ত গ্রামগুলিকে উন্নয়নের জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণাও করা হয়েছে।
খুনের অভিযোগ না থাকলে মামলা প্রত্যাহারের পথে সরকার
ছত্তিশগড়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় শর্মা প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি এমন মাওবাদী অভিযুক্তদের তালিকা প্রস্তুত করতে, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও খুন বা প্রাণহানির অভিযোগ নেই।
এই তালিকা তৈরির পর আইন দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বিশেষ আইনি কমিটি গঠন করা হবে। সরকারি আইনজীবী এবং সরকারি কৌঁসুলিদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি প্রতিটি মামলার নথি খতিয়ে দেখবে। আইনের দৃষ্টিতে মামলা প্রত্যাহার করা সম্ভব হলে সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, এই কাজ যাতে দীর্ঘসূত্রিতার শিকার না হয়, তার জন্য প্রতি সপ্তাহে জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে পর্যালোচনা বৈঠক হবে। সেখানে প্রশাসন, পুলিশ এবং আইন বিভাগের আধিকারিকরা মামলাগুলির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করবেন।
আদিবাসী পরিবারগুলির দীর্ঘদিনের দাবি
এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বন্দি আদিবাসী গ্রামবাসীদের পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবির।
বহু পরিবার অভিযোগ করেছে, তাঁদের স্বজনদের বিরুদ্ধে কোনও প্রত্যক্ষ অপরাধের প্রমাণ না থাকলেও শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে বা মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে বছরের পর বছর ধরে কারাগারে থাকতে হচ্ছে।
বিজাপুরের বিধায়ক বিক্রম মাণ্ডবী জানিয়েছেন, বহু নিরীহ আদিবাসী এখনও বিচার শেষ না হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বন্দি রয়েছেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় শর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য প্রায় ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করেছেন। তাঁদের মূল দাবি, সমস্ত অমীমাংসিত মামলার দ্রুত পর্যালোচনা করে নিরপরাধদের মুক্তি দেওয়া হোক।
নকশালমুক্ত গ্রাম পিছু এক কোটি টাকা
সরকারের নতুন নীতির অন্যতম আকর্ষণীয় ঘোষণা হল নকশালমুক্ত গ্রামগুলিকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান।
যে গ্রামগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের “নকশালমুক্ত” ঘোষণা করবে এবং সেই মর্মে প্রস্তাব পাশ করবে, সেই প্রতিটি গ্রামকে এক কোটি টাকা করে উন্নয়ন অনুদান দেওয়া হবে।
এই অর্থ ব্যয় করা হবে—
রাস্তা নির্মাণ,
পানীয় জলের ব্যবস্থা,
বিদ্যুৎ পরিষেবা,
স্বাস্থ্যকেন্দ্র,
বিদ্যালয়,
কর্মসংস্থান সৃষ্টি,
কৃষি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো প্রকল্পে।
প্রথম পর্যায়ে ৫০টি গ্রাম এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।
এর মধ্যে—
সুকমা জেলার ২০টি গ্রাম,
বিজাপুর জেলার ২০টি গ্রাম,
নারায়ণপুর জেলার ১০টি গ্রাম।
সরকারের মতে, উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষকে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।
স্বাধীনতা দিবসে বিশেষ কর্মসূচি
সরকার আরও ঘোষণা করেছে, আগামী ১৫ আগস্ট যেসব গ্রাম নিজেদের নকশালমুক্ত ঘোষণা করবে, সেখানে বিশেষভাবে তিরঙ্গা যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শান্তি ও উন্নয়নের বার্তা দেওয়া হবে।
সরকারের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
পুনর্বাসনে জোর
সরকার শুধু মামলা প্রত্যাহারের বিষয়েই নয়,পুনর্বাসনেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মাওবাদী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং সরকারের আত্মসমর্পণ নীতির আওতায় মূলস্রোতে ফেরা ব্যক্তিদের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-র বিশেষ বিধানের আওতায় বাড়ি দেওয়া হবে। এছাড়া আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের জন্য ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনাও এক মাসের মধ্যে তাঁদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শহিদদের স্মরণে স্মারক নির্মাণ
নকশাল হামলায় শহিদ হওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং নিহত সাধারণ নাগরিকদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে হামলাপ্রবণ এলাকায় স্মারক সৌধ নির্মাণের সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারের মতে, এই স্মারক ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নকশাল হিংসার মূল্য সম্পর্কে সচেতন করবে এবং শান্তির গুরুত্ব তুলে ধরবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী
একদিকে যেমন পুনর্বাসন ও উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—
মাওবাদীদের লুট করা অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করতে,
নকশালবিরোধী অভিযানের সময় কোনও আগ্নেয়াস্ত্র যাতে ঘটনাস্থলে ফেলে না আসা হয়, তা নিশ্চিত করতে,
প্রতিবেশী রাজ্যগুলির পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যৌথ অভিযান চালাতে।
সরকারের লক্ষ্য কী?
ছত্তিশগড় সরকারের মতে, শুধুমাত্র অস্ত্রের মাধ্যমে নকশাল সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই নিরাপত্তা, উন্নয়ন, পুনর্বাসন এবং আইনি সহায়তা—এই চারটি দিককে সমান গুরুত্ব দিয়েই নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারের আশা, নিরপরাধ বা কম গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের আইনি স্বস্তি দেওয়া, নকশালমুক্ত গ্রামগুলিতে উন্নয়নের গতি বাড়ানো এবং আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে আগামী দিনে নকশাল প্রভাব আরও দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
#Chhattisgarh #MaoistPolicy #NaxalFreeVillages #IndiaNews #InternalSecurity #TribalDevelopment #MaoistRehabilitation #BreakingNews #IndianPolitics

