।। প্রথম কলকাতা ।।
Trisha Mallik: বহুদিন পর কোনো বাঙালি মহিলা ফুটবলারের জন্য এমন উত্তেজনা ময়দানে। বাঙালি তরুণীর স্কিলে কাঁপছে ময়দান। তাঁর ডিফেন্স চেরা পাশে লেখা থাকে গোলের ঠিকানা। ইস্ট বেঙ্গলের ক্যাপ্টেন তৃষা মল্লিক। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় হিট। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাঁর ফ্যান ফলোয়ার। যে কোনও সিনেমাকেও হার মানাবে তৃষার লড়াই। তাঁর উত্থানের কাহিনী শুনলে চোখে জল আসবে আপনার।
প্রতিকূলতার সঙ্গে যাঁরা দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করছেন তাঁদের কাছে অনুপ্রেরণার আর এক নাম তৃষা। মেয়ে মানেই তাকে ঘরে আগলে রাখার দিন আর নেই। নাচ গান আঁকার পাশাপাশি ফুটবলের মতো বডি কনটাক্ট গেমে আপনার মেয়েটিও হয়ে উঠতে পারেন সমান পারদর্শী। তার উদাহরণ তৈরি করেছেন তৃষা।চলুন দেখে নেওয়া যাক যাবতীয় প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে তৃষার স্বপ্ন উড়ানের কাহিনী।
দত্তপুকুরের মেয়ে তৃষা। খুব সাধারণভাবে তার বেড়ে ওঠা। টালির চালের ছোট্ট একটা ঘর। দারিদ্রের সঙ্গে কঠিন লড়াই। সব দিন খাবারও জোটে না ঠিকঠাক। তার ফাঁকেই ফুটবলের সঙ্গে বন্ধুত্ব। আর সেখান থেকেই আজ ইস্ট বেঙ্গলের মহিলা ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন। নিয়মিত ময়দানে ঝড় তুলছেন তৃষা মল্লিক। কুড়ি বছর বয়সী এই ফুটবলার সোশ্যাল মিডিয়াতে বেস্ট ভাইরাল। ফেসবুক থেকে শুরু করে ইনস্টাগ্রামে প্রচুর ফলোয়ার রয়েছে তার। হু হু বাড়ছে তার ফলোয়ারস। কিন্তু জানেন, কতটা লড়াই করে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছেন তৃষা? কলকাতার ময়দানে সাড়া ফেলে দিয়েছেন এই তরুণী। এখন টক অফ দা টাউন তৃষা। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম মরশুমে ময়দান কাঁপাচ্ছেন তিনি। ক্যাপ্টেন হিসেবে এসেই সফল। তাঁর নেতৃত্বে ভালো ছন্দে ধরা দিয়েছে লাল হলুদ। সম্প্রতি মহামেডানকেও হারিয়েছে তারা। ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা তো আছেনই। পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরাও এই তরুণী ফুটবলারকে ফলো করছেন। তার খেলার তারিফ করছেন।
দত্ত পুকুর স্টেশন থেকে ঢিল ছড়া দূরত্বে, স্কুল পাড়ার বাসিন্দা তৃষা মল্লিক। গত দুবছর ধরে লাল হলুদে খেলছেন। আবার ক্যাপ্টেন হওয়ার পর থেকে সাফল্য এনে দিচ্ছে ক্লাবকে। ব্রাজিলের অন্ধ ভক্ত তিনি। ঘরে ঢুকলেই দেখা যাবে দেওয়ালে ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের ছবি। থার্মোকলের ওপর ইংরেজিতে লেখা আই লাভ ইউ ফুটবল। শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা। বাড়ির পাশে মাঠে ছেলেদের সঙ্গে দাপিয়ে ফুটবল খেলতো মেয়েটি। গরিবের ঘরের মেয়ের হাত পা ভাঙলে তো সর্বনাশ! চিকিৎসার খরচ আসবে কোথা থেকে! মায়ের বকুনি খাওয়া ছিল রুটিন ব্যাপার। কিন্তু তাকে যে টানে মাঠের সবুজ ঘাস। তার শয়নে স্বপনেও ফুটবল। তাই মায়ের শাসন উপেক্ষা করেই প্রত্যেক দিন খেলা চলতো।
তারপর এলো সেই দিন। স্কুল ফুটবলে নিজেকে উজাড় করে দিল মেয়েটি। বুকে জড়িয়ে ধরলেন দিদিমণিরা। তাঁরাই মাকে বলেন, ফুটবল খেলুক তৃষা। তাতেই সে সফল হবে। চান্স পান জেলা দলে।এরপর প্রতিনিধিত্ব করেন রাজ্য দলের। স্বপ্ন দেখেছেন লাল হলুদ জার্সি পরার। আজ সেই স্বপ্ন সফল। দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে আজ ইস্টবেঙ্গলের মতো দেশের প্রথম সারির মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক তিনি। বর্তমানে একটি কলেজে অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তার সঙ্গে সমান তালে চলছে খেলাধূলা।

