প্রথম কলকাতা : মাত্র ১ টাকায় পরোটা-তরকারি।প্রায় ৩৫ বছর ধরে দামে এতটুকুও পরিবর্তন আসেনি। আজকাল আদৌ কি কিছু পাওয়া যায় এক টাকায়? সঙ্গে এবার তরকারি ফ্রি, বিশ্বাস হচ্ছে না তো? এইরকমই অবিশ্বাস্য ভাবে মাত্র ১ টাকায় পরোটা-তরকারি পাওয়া যায় শ্রীরামপুর বেলটিং বাজারের মানিকদার দোকানে। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কীভাবে এক টাকায় পরোটা বিক্রি করে আসছেন মানিকবাবু? এক টাকায় পরোটা বিক্রি করে আদৌ কি কিছু লাভ হয়? দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ তাঁর কাছে ছুটে আসেন এই এক টাকার পরোটা খেতে। ভাবা যায়! চারিদিকে বাজার দর যখন আকাশ ছোঁয়া, তখন মাত্র এক টাকাতেই পেট ভরছে বহু মানুষের। শুরু থেকেই দামে কোনও পরিবর্তন আসেনি। তবে যেহেতু জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গিয়েছে, তাই পরোটার সাইজ একটু ছোট হয়ে গিয়েছে। তাতে কি, মাত্র ১০ টাকা দিলেই পাওয়া যাবে ১০ পিস পরোটা। সকালের জলখাবারে তাতে দিব্যি পেট ভরে যায়।
হুগলির শ্রীরামপুর বাস স্ট্যান্ডের পাশে বেলটিং বাজারে মানিক সরকারের এই পরোটার দোকান। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে দোকানদারি করছেন মানিক ও তাঁর ভাই সঞ্জয় সরকার। গত সাড়ে তিন দশকে পৃথিবী আমূল বদলে গেলেও এখানে থমকেই রয়েছে পরোটার দাম। সকাল ৭টা থেকে ভিড় লেগে যায় ১ টাকার পরোটা খাওয়ার জন্য। পুলিশকর্মী থেকে রিকশা চালক। পথচারী থেকে অফিসযাত্রী, সকলের পছন্দের জলখাবারের জায়গা এই মানিকদার দোকান। প্রতিদিন প্রায় ২৫০০ থেকে ২৬০০ পিস পরোটা বাড়ি থেকেই বানিয়ে আনেন মানিকবাবু ও তাঁর ভাই। তরকারি অবশ্য তৈরি করেন দোকানে। কিন্তু কীভাবে সম্ভব মাত্র ১ টাকায় পরোটা বিক্রি করা?
প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৮০০ পরোটা শুধু পার্সেলেই যায়। সকাল ১১টার মধ্যেই সব পরোটা শেষ হয়ে যায়। প্রতিদিন খদ্দের সামলাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় মানিক বাবুদের। তবু এটাই ভালোবাসার পেশা। হ্যাঁ লাভ হয়তো খুব বেশি থাকে না তবে মানুষের ভালবাসা পান অফুরন্ত। আর সেই কারণেই মানিকদার কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। এই পরোটা বিক্রি তার রোজনামচা হয়ে গিয়েছে। এলাকার বহু গরীব মানুষের পেট ভরে এই খাবারেই। ভ্যানচালক থেকে মাছ বিক্রেতা সবাই সকাল হলেই হাজির হয়ে যান মানিকবাবুর দোকানের পরোটা খেতে। এক টাকায় কি হয় বলুন তো! বড়জোর একটা লজেন্স! আর সেই টাকাতেই যদি পেট ভরা খাবার পাওয়া যায় তাহলে ক্ষতি কি! তবে কেউ যদি পরোটা না পেয়ে ফিরে যান তাহলে মানিকবাবুর কিন্তু মন খারাপ হয়। দিনের শেষে বলে ওঠেন, ইস আজকেও কত মানুষ না খেয়ে ফিরে গেলেন!

