Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

তু্ই ঘুষখোর, তু্ই তোলাবাজ, শুভেন্দুকে নাম ধরে ধরে আক্রমণ অভিষেকের

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

কিছুদিন আগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari)প্রথমবারের জন্য সরাসরি নাম করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোলাবাজ বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন অভিষেক। এই ঘটনার পর রবিবার কুলতলিতে জনসভা করলেন তৃণমূল যুব সভাপতি। সেখান থেকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন শুভেন্দুকে। সরাসরি তুইতোকারি করে শুভেন্দুকে ঘুষখোর এবং তোলাবাজ বলে আক্রমণ করেছেন তিনি। এতদিন অভিষেক নাম না করে শুভেন্দুকে বহুবার করেছেন। কিন্তু আজ তিনি যে ভাষায়, যে ভঙ্গিতে এবং আক্রমণাত্মকভাবে শুভেন্দুকে নিশানা করেছেন, তাতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এদিন তৃণমূল যুব সভাপতি বলেন,” সুদীপ্ত সেন সারদা কাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত। তিনি একটি চিঠি দিয়েছেন ব্যাঙ্কশাল কোর্টের প্রধান বিচারককে। তাতে লিখেছেন শুভেন্দু অধিকারীকে ৬ কোটি টাকা দিয়েছেন।

আরো লিখেছেন যে, যেদিন তিনি কলকাতা থেকে ফেরার হয়ে গিয়েছিলেন তার আগের দিন রাতে সুদীপ্তর অফিসে গিয়ে শুভেন্দু টাকা নিয়ে এসেছিলেন। তাহলে বুঝুন কে তোলাবাজ।” এরপরই সুর চড়িয়ে অভিষেক সরাসরি শুভেন্দুকে নাম করে বলেন, “তুই একটা তোলাবাজ এবং ঘুষখোর। আমার ক্ষমতা আছে তোর নাম করে বলছি। জনতার দরবারে তোকে চ্যালেঞ্জ করছি। তুই প্রমাণ কর যে আমি তোলাবাজ। তোকে টিভির পর্দায় দেখা গেছে টাকা নিতে। আর তুই বলছিস আমি তোলাবাজ? আমি তোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছি তুই প্রমাণ কর তুই তোলাবাজি করিসনি। সিবিআই এর ভয়ে বিজেপিতে গেছিস। আমি যদি তোলাবাজি করি, সামান্যতম দুর্নীতি করি তাহলে আমি ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে মৃত্যুবরণ করব। সেই চ্যালেঞ্জ তুই নিতে পারবি? বুকের পাটা নেই তোদের।

যা করার করবি। আমার বিরুদ্ধে মামলা কর তোদের যদি ক্ষমতা থাকে। আমি পঞ্চাশটা টিভি ক্যামেরার সামনে তোর নাম করে বলছি, শুভেন্দু ঘুষখোর।” স্বাভাবিকভাবেই অভিষেক এইমাত্রায় আজ আক্রমণ শানাবেন, সেটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। এর পাশাপাশি বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে নাম করে তিনি বলেন,” আমি ভাববাচ্যে কথা বলি না। আমি আবারও বলছি দিলীপ ঘোষ একজন গুন্ডা। কৈলাস বিজয়বর্গীয় বহিরাগত। অমিত শাহ বহিরাগত।” তাঁদের পাশাপাশি বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও নিশানা করেছেন তিনি। অভিষেক বলেন,” আমাকে নাকি উনি জিতিয়েছিলেন। তিন বছর ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। তিনি যখন দায়িত্বে ছিলেন তখন আমি ৭০ হাজার ভোটে জিতেছি‌। আর যখন আমার হয়ে নামেননি তখন আমার মার্জিন আড়াই লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। একহাতে সিগারেট টানতে টানতে তোয়ালে জড়িয়ে টাকা নিয়েছিলে।

সেটা টিভির পর্দায় দেখা গেছে। আর মুখে বলছ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেব। তোমার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করতে পারতাম”। উল্লেখ্য বিজেপিতে যাওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) বহুবার নাম না করে তৃণমূলের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোলাবাজ ভাইপো বলে আক্রমণ করেছেন। তবে কিছুদিন আগে তিনি সরাসরি নাম করে তাঁকে তোলাবাজ বলেছেন। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে শুভেন্দুকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন অভিষেক। এই ঘটনার পর অভিষেক রবিবার সভা করলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা কুলতলিতে। দিন দুয়েক আগে এই জেলার রায়দিঘিতে জনসভা করেছেন বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তৃণমূল যুব সভাপতি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তাঁরা।

আরো পড়ুন : মমতাই অনুপ্রেরণা ,তৃণমূলে অভিনেত্রী কৌশানি ও পিয়া

অর্থাৎ অভিষেক আজ তাঁদের সকলকে আক্রমণ করবেন, এটা একপ্রকার প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু তিনি তাঁর আক্রমণের মাত্রা একেবারে উচ্চগ্রামে নিয়ে গিয়েছেন এদিন। একটা সময় কুলতলি এসইউসিআইয়ের দুর্গ ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তারা সেখানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখলে বোঝা যাবে এখানেও বিজেপি কতটা ভোট বৃদ্ধি হয়েছে। এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল গত লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ৮ হাজারের কিছু বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল। এখানে লড়াইটা প্রায় সমানে সমানে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অভিষেক এদিন সেই ঘটনার কথা তুলে ধরে বলেছেন, সামনের বিধানসভা নির্বাচনে কুলতলি থেকে তৃণমূল ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জিতবে। এর পাশাপাশি তৃণমূলের বিভিন্ন উন্নয়নের দিক তিনি তুলে ধরেছেন জনসভায়।