Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখতে পারবে তৃণমূল? কঠিন হয়েছে লড়াই

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

৭০ ও ৩০ নিয়ে প্রচুর চর্চা হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সংখ্যালঘু ভোটের সিংহভাগ তৃণমূল পাবে, এটা ধরে নিয়েই বিজেপি পাল্টা রণকৌশল ঠিক করেছে ৭০ শতাংশ অর্থাৎ হিন্দু ভোটকে নিয়ে। মঙ্গলবার তৃতীয় দফার নির্বাচনে তৃণমূলের ভাল ফল করার কথা। এদিনের ভোটে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বেশ কয়েকটি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। গত লোকসভায় ফলের ভিত্তিতে এই জেলার ৩১টি আসনেই এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। তাই মঙ্গলবার ক্যানিং পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, মগরাহাট পশ্চিম, মগরাহাট পূর্ব প্রভৃতি সংখ্যালঘু কেন্দ্র অধ্যুষিত এলাকায় বাড়তি নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

একইভাবে উলুবেড়িয়া উত্তর শ্যামপুর, বাগনান, আমতা, জাঙ্গিপাড়া, খানাকুল প্রভৃতি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটে তৃণমূল সংখ্যালঘু ভোটকে অন্যতম প্রধান টার্গেট করেছে। কিন্তু এদিনের নির্বাচনে শুধু বিজেপি নয়, সংযুক্ত মোর্চা তৃণমূলের কাছে অন্যতম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার কারণ বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম, কংগ্রেসের পাশাপাশি আইএসএফ কড়া টক্কর দিচ্ছে। তাই সকাল থেকে দেখা গিয়েছে মগরাহাট পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব প্রভৃতি কেন্দ্রে আইএসএফের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে তৃণমূল।

মগরাহাট পশ্চিমের আইএসএফ প্রার্থী মইদুল ইসলাম মোল্লা ধরনায় বসেছেন। তাঁর অভিযোগ বুথ এজেন্টকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ধরনায় বসেছেন তিনি। ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রেও বেশ কয়েকটি বুঝে আইএসএফ সমর্থকদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। এক আইএসএফ এজেন্টকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে।

আরো পড়ুন : শুরু তৃতীয় দফা ভোট, প্রচারে ঝড় তুলতে উত্তরবঙ্গে মোদি-মমতা

প্রথম দুটি পর্বের নির্বাচনে আব্বাস সিদ্দিকীর দলের তেমন ভূমিকা ছিল না। কিন্তু তাঁদের মজবুত সংগঠন রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। তাই মঙ্গলবার ভোট শুরুর আগে থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে আইএসএফ- এর স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় অসংখ্য বুথে। উল্লেখ্য আজ যে সমস্ত কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে অতীতে বিভিন্ন সময় সেখানে প্রচুর হিংসার ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি অঞ্চল সন্ত্রাস কবলিত এলাকা বলে পরিচিত।

বাম আমলের পর তৃণমূলের বিরুদ্ধেও একইভাবে সেখানে সন্ত্রাস করার অভিযোগ উঠেছে বারবার। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয় দফার নির্বাচনের আগে প্রত্যেকটি জনসভা থেকে তীব্র আক্রমণ করেছেন আব্বাস সিদ্দিকীকে। বলেছেন ওদের একটা ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে ভোট দেওয়া। অর্থাৎ দলনেত্রী পরিষ্কার বুঝতে পেরেছেন এই দফার নির্বাচনে আইএসএফ তৃণমূলের কাছে কাঁটা হয়ে উঠতে পারে। যদি আব্বাসের দল উল্লেখযোগ্য ভোট টেনে নিতে পারে, সেক্ষেত্রে বহু আসনের ফলাফল নিমেষে বদলে যাবে।

তাই তৃতীয় দফা নির্বাচনে আইএসএফ অবশ্যই একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। এদিন সকাল থেকেই দেখা গিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিভিন্ন বুথে আইএসএফ সর্মথকরা দল বেঁধে ভোট দিতে গিয়েছেন। সেখানে অনেক জায়গায় ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তাই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অশান্তি আরও বড় আকার নেয় কিনা সেদিকে চোখ থাকবে রাজনৈতিক মহলের।