Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বামের ভোট রামে দেওয়ার কথা কেন বলতে হল শুভেন্দুকে? মমতার বিরুদ্ধে জয় হাসিল কি সহজ নয়?


।। ময়ুখ বসু ।।


বিজেপির সভায় দাঁড়িয়ে কোনও রাখঢাক না করে প্রকাশ্যেই বামভোট চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী। কেন? তাহলে কি তিনি বিজেপিতে গিয়ে বুঝে গিয়েছেন, শুধু গেরুয়া ভোটব্যাংকের ভরসায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জয় হাসিল করা সম্ভব হবে না! এই সন্দেহ আজ দানা বাঁধতে শুরু করেছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। সম্প্রতি প্রায় প্রতিটি জনসভাতে গিয়ে বামভোট ভিক্ষা করছেন শুভেন্দু অধিকারী। কোনও রাখঢাক না রেখেই তিনি বলছেন, বামে থাকলে ভোট দিন রামে। ভোটের পর আবার বামফ্রন্ট করবেন। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গেলে বাম ভোট যে প্রয়োজন তা হয়তো বুঝে গিয়েছেন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই কারনেই বাম ভোট রামে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের ধারনা, বাংলায় পরিবর্তন আনতে গেলে শুধুমাত্র বিজেপির ভোটব্যাংকে সম্ভব হবে না। সেখানে দাঁড়িয়ে বামপন্থীদের ভোটব্যাংকের একটি বড়ো অংশ যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকেরও। তবে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকের হিসাবে কাটাকুটির অংকে মিলিয়ে দিতে পারলেও বাম ভোটের একটা বড়ো অংশ যদি গেরুয়া পকেটে না ঢোকে তাহলে বাংলা জয়ের পথ মসৃণ হবে না বিজেপির কাছে। আর এই সরল সত্যিটা হয়তো অনুধাবন করেই শুভেন্দু বাম ভোটকে রামে আহ্বান করছেন। শুভেন্দু সাফ দাবি করেছেন, বিজেপি ছাড়া বাংলায় তৃণমূলকে কেউ হারাতে পারবে না। তাই বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসকে এককাট্টা হয়ে তৃণমূল বিরোধীতার প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার খোলা ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু। একদা বামদুর্গ বলে খ্যাত কেশপুর, চন্দ্রকোনা এবং গড়বেতায় গিয়েও বামভোটকে রামভোটে আনার ডাক দেন তিনি।

আরো পড়ুন : অমিত শাহের ছেলের বিয়েতে ঢুকে বলবো রাম নাম সত্য হে ,দেবাংশুর পোস্ট ঘিরে কমেন্টসের ছড়াছড়ি

আর এখানেই উঠে এসেছে প্রশ্ন। শুভেন্দুর ডাকে কি বাংলার বামপন্থীরা বা কংগ্রেসীরা বিজেপিতে ভোট দেবেন? উল্লেখ্য, বাম ও কংগ্রেসী মহলে শুভেন্দুর যথেষ্ট গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। তৃণমূল ছাড়ার পর শুভেন্দুকে কংগ্রেসে আসার জন্য খোলা আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছিলেন রাজ্য প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। ফলে শুভেন্দুর এই ডাকে কি সাড়া দেবে রাজ্যেরবাম ও কংগ্রেসীরা? রাজ্যের বাম ও কংগ্রেস একইসঙ্গে তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধীতার মেরুতে দাঁড়িয়ে আক্রমণের পারদ চড়াচ্ছে। উলটে সিপিএম চাইছে তাদের যে সমস্ত ভোটব্যাংক ইতিমধ্যে গেরুয়া শিবিরে ঢুকে গিয়েছে সেই ভোটব্যাংককে ফেরত নিয়ে আসতে। সেখানে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর আহ্বানে কতোটা কাজ দেবে? রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারনা, তৃণমূল যাতে ভোট ভাগাভাগির সুযোগ নিয়ে বেরিয়ে না যায় তারজন্যই এখন থেকে বাম ভোটে রামে দেওয়ার ডাক দিয়ে চলেছেন শুভেন্দু।

সেখানে দাঁড়িয়ে বামপন্থীরা কোন পথে বেছে নেবেন? তাদের একক শক্তির জেরে তারা যে বাংলা দখল করতে পারবে না একথা দিনের আলোর মতোই পরিস্কার। সেক্ষেত্রে তারা প্রাধান্য দেবে কোন পথকে। তৃণমূল বিরোধীতা নাকি বিজেপি বিরোধীতা? সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির সবথেকে বড়ো প্রশ্ন। অন্যদিকে কংগ্রেসের জাতীয় স্তরে বড়ো প্রতিপক্ষই হলো বিজেপি। ফলে তারা রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিজেপির সঙ্গে পথ হাটবেন কি না তা নিয়েও বড়োসড়ো ধন্দ রয়েছে। আর বাম, কংগ্রেসের ভোটব্যাংক না এলে বিজেপিকে নিজেদের ভোট ব্যাংকের জোরেই লড়তে হবে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। আর সেই লড়াইতে নানা রাজনৈতিক সমীকরনের মাধ্যমে বিজেপি তাদের সাফল্যের সিঁড়ি টপকাতে পারবে কি না সেটাই দেখার।