Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বৈশালীকে কেন বহিস্কার করতে হল? দলকে প্রশ্ন রাজীবের, ইঙ্গিত কি তবে অন্য?

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।


বৈশালী ডালমিয়াকে তৃণমূল থেকে বহিস্কার পরার পর এই প্রথম বৈশাখীর হয়ে মুখ খুললেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, , বৈশালী ডালমিয়ার বহিস্কার অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা, মনে হয় না বৈশালী ডালমিয়া এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যার জন্য দল থেকে তাঁকে বহিস্কার করতে হলো। এরকম কিছু সতীর্থ ও সহকর্মী রয়েছেন, যারা এমন মন্তব্য করছেন। তাদের কাউকে সতর্কও করা হলো না। মানুষ সবটাই দেখছেন। মানুষই বিচার করবেন। মূলত, রাজীবের এই মন্তব্য তার অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajiv Banerjee) মন্ত্রীত্ব থেকে ইস্তফা দিলেও এখনও তৃণমূলের বিধায়ক হিসাবে রয়ে গিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে রাজীবকে দলে ধরে রাখার জন্য চেষ্টার কসুর করছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। তথাপি এখনও কার্যত বেসুরো বাজছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, সম্ভবত রাজীবের বিজেপিতে (bjp) যোগদান স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তবে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কি রাজনৈতিক অবস্থান নেবেন তা এখনও পর্যন্ত তিনি নিজে স্পষ্ট করেননি। তিনি বারবারই মানুষের পাশে থেকে কাজ করার বার্তা দিয়ে চলেছেন। এদিকে সামনেই একুশের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতা যদি গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তাহলে যে তা তৃণমূলের কাছে শুভেন্দু পরবর্তী সময়ের আরও একটা বড়ো ধাক্কা হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য।

আরো পড়ুন : কাটমানি চাওয়ার অভিযোগে আবারও অস্বস্তিতে শাসক দল

কারন, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তীর মুখকে দলে আটকানো না গেলে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে তৃণমূলকে (tmc)। বিশেষ করে মন্ত্রী ছাড়ার পর চোখের জল ফেলে এভাবে তিনি তৃণমূলের দিকে গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সেই অভিযোগের সুর বাজছে তৃণমূলের অনেকের গলাতেই। ফলে রাজীবকে নিয়ে বেশ খানিকটা সমস্যায় পড়তে হতে পারে তৃণমূলকে তা মেনে নিচ্ছেন অনেক রাজনীতিবিদরাই। এদিকে বিস্ময়ের বিষয় হলো, বৈশালী ডালমিয়াকে তৃণমূল থেকে বহিস্কার করার পরেই বৈশাখী তাঁর প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, তিনি খুশী। এই বৈশালীই অভিযোগ তুলেছিলেন, তৃণমূলস্তরে একাংশ দলটাকে উইপোকার মতো কুরে কুরে খাচ্ছে।পুরনো কর্মীদের দলে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

নতুন কর্মীদের দলে জায়গা দেওয়া হচ্ছে না।কয়েকজন মানুষ দলটাকে নষ্ট করছে। ফলে এটা স্পষ্ট যে, যারা দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন তারা সর্বান্তকরনে তৃণমূল ছাড়ার মনোবৃত্তি নিয়েই মুখ খুলছেন।আর দলে এই সংখ্যাটা যে ঠিক কতোজন সেটা জানাই এখন তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে দায় হয়ে উঠেছে। দলে ইতিউতি বিদ্রোহী হয়ে ওঠা নেতা নেত্রীদের মধ্যে কার সঙ্গে কার গাঁটছড়া রয়েছে তা বোঝাই এখন মুশকিল।যেভাবে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বৈশালী ডালমিয়ার পক্ষ নিয়ে মুখ খুলেছেন তাতে রাজীবের পথ ধরে বৈশালী আগামী দিনে হাঁটবেন কি না তা বোঝা দায়। আর এই তৃণমূলের অন্দরে থাকা গাঁটছড়া বাধা নেতা নেত্রীদের সংখ্যা ঠিক কতোজন আর তারা আগামীদিনে কী করবেন, কোন পথে হাঁটবেন সেটাই এখন তৃণমূলের সবথেকে বড়ো দুঃশ্চিন্তার কারন হয়ে দেখা দিয়েছে।