Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

নতুন দল না করে বিজেপিতে গেলেন কেন শুভেন্দু?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

তিনি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা রাজ্যের মন্ত্রী। অবিভক্ত মেদিনীপুরের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় তাঁর নিজের হাতে তৈরি করা সংগঠন রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়ে। তিনি শুভেন্দু অধিকারী, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রধান কান্ডারী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বেসুরো ছিলেন তৃণমূলে। একের পর এক অরাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সামিল হয়ে দলবিরোধী বহু মন্তব্য করেন। তখনই বোঝা গিয়েছিল তিনি তৃণমূলে বেশিদিন থাকবেন না। তার পরিবর্তে নতুন দল তৈরি করবেন, নাকি বিজেপিতে যাবেন সেটা নিয়ে চর্চা শুরু হয়। অবশেষে গত ১৯ ডিসেম্বর শুভেন্দু বিজেপিতে যোগদান করেন।

নতুন দল তৈরি না করে কেন তিনি এখানে এলেন? শনিবার নিজের মুখে সেই কারণ জানালেন তিনি। এদিন পূর্ব মেদিনীপুরের দাড়িবেরিয়ায় বিজেপির সভা মঞ্চে হাজির ছিলেন তিনি। ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সেখানে শুভেন্দু বলেন,” আমি নতুন দল তৈরি করতেই পারতাম। এই জেলার কিরণময় নন্দ তৈরি করেছিলেন সোস্যালিস্ট পার্টি, অজয় মুখোপাধ্যায় করেছিলেন বাংলা কংগ্রেস। তৈরি হয়েছিল নতুন দল ডিএসপি। আমি নতুন দল করলে কিছু ভোটও পেতাম। কিন্তু সেটা আমি চাইনি। বিশ্বের বৃহত্তম দল বিজেপিতে যোগদান করেছি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে।

সেই দল আমাকে আদর করে বরণ করেছে”। নতুন দল তৈরি প্রসঙ্গে এদিন এটুকু বললেও, গতকাল কাঁথির সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ভাইপোরা চেয়েছিলেন আমি নতুন দল গড়ি। তাতে খুব সুবিধা হতো। আমি হয়ত ৪-৫ শতাংশ ভোট কাটতাম। তাতে তৃণমূল সুবিধা পেয়ে যেত। তাই সেই রাস্তায় আমি হাঁটতে চাইনি। অর্থাৎ অত্যন্ত অংক কষেই শুভেন্দু যে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা পরিষ্কার। রাজ্যের বহু বিধানসভা আসনে কমবেশি আড়াই লক্ষের কাছাকাছি ভোটার আছে। তার ৪ শতাংশ হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার।

গত বিধানসভা নির্বাচনে দেখা গেছে বহু আসনে জয় পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে ১০ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে। এমনকি বহু আসনে তৃণমূলের নেতা,মন্ত্রীদের জয়ের ব্যবধান ছিল ৫-৬ হাজারের মধ্যে। তাই শুভেন্দু ভালো করেই জানেন নতুন দল তৈরি করলে তিনি যে ভোট পাবেন, তাতে জিততে পারবেন না। উল্টে অসংখ্য আসনে তৃণমূল ভোটের আগেই বাড়তি সুবিধা পেয়ে যাবে। অর্থাৎ শুভেন্দু নতুন দল তৈরি করলে সেটা একেবারেই ‘ভোটকাটুয়া’ হিসেবে চিহ্নিত হতো।

মূলত এই কারণেই যে শুভেন্দু নতুন দল তৈরির দিকে হাঁটেননি, তা পরিষ্কার। এদিকে বিজেপি এরাজ্যে ক্ষমতায় আসলে বাংলার সার্বিক উন্নয়ন হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে শুভেন্দু অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প নাম বদলে রাজ্য এখানে চালু করছে। তৃণমূল থাকলে চপ শিল্পও হবে না। ওদের যা জমি নীতি, সেখানে শিল্প সম্ভব নয়। এভাবেই বিভিন্ন ইস্যুতে এদিন নিজের পুরনো দল তৃণমূলকে নিশানা করেছেন তিনি।