বাংলা ও বিহারে কেন ছড়িয়ে পড়ছে গেরুয়া রঙের ছটা !

1 min read


।। ময়ুখ বসু।।


বাংলা এবং বিহার জুড়ে গেরুয়া ঝড়ের মেঘ জমেছে। আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষা বলছে বিজেপি-নীতিশ জোট ক্ষমতায় আসতে চলেছে। অন্যদিকে, বাংলার মাটিতে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রীতিমতো দাপাতে শুরু করেছে বিজেপি। বঙ্গ এবং বিহারকে জয় করার লক্ষ্যমাত্রা অনেক আগে থেকেই ছিলো বিজেপির। কিন্ত তথাকথিত সাম্প্রদায়িক তকমা লাগানো বিজেপি বিগত কয়েক বছরে এই দুই রাজ্যে সেই অর্থে কামড় বসাতে পারেনি।

একটা সময়ে বাম দুর্গ বলে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গে যেমন বিজেপি তাদের জনবল বাড়াতে পারেনি, তেমনি একটা সময়ে বিহারে লালু প্রসাদের আরজেডি পার্টির জমানাতেও বিজেপি সেখানে খাপ খুলতে পারেনি। তবে সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটে এই দুই রাজ্যে। বাংলা থেকে বামেরা এবং বিহার থেকে লালুর আরজেডি ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আর তারপর থেকেই নানা ঘটনাপ্রবাহের ফাঁক গলে গেরুয়া রঙ ছড়াতে শুরু করে বাংলা ও বিহারে।

তবে এই দুই প্রতিবেশী রাজ্যে বিজেপি আজ ক্ষমতার অলিন্দে আসার যে সুযোগ পেয়ে গিয়েছে তার জন্য মূল কারন কি? আসলে একটা সময় কার্যত এই দুই রাজ্যে প্রায় অস্তিত্ববিহীন বিজেপি মাত্র বেশ কিছু বছরের ব্যাবধানে আজ ক্ষমতায় আসার হুঙ্কার ছাড়ছে। কি করে সম্ভব হলো রাজনীতির ময়দানে এই কাঁটা ঘুরে যাওয়ার খেলা? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মূলত বাংলা এবং বিহারে দুর্নীতি নামক শব্দটার ফাঁক গলে বাড়বাড়ন্ত ঘটিয়েছে বিজেপি।

সেইসঙ্গে বিরোধী রাজনীতি নিকেশ করার যে নীতি সেই নীতির অগোচরে ফুটেছে পদ্ম।রাজনীতিবিদদের পর্যবেক্ষনে, বাংলার ক্ষেত্রে শাসকের বিরুদ্ধে সারদা, নারদা এবং রেশন বা আম্ফান দুর্নীতির আওয়াজ যতো তীব্র হয়েছে ততোই ধাপে ধাপে শক্তি বেড়েছে বিজেপির। পাশাপাশি, বিহারের ক্ষেত্রেও লালু যাদবের পশুখাদ্য কেলেংকারি থেকে শুরু করে আরজেডি পার্টির বিভিন্ন নেতা নেত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বহর যতোই বেড়েছে ততোই নীতিশ কুমারকে অবলম্বন করে বিহারের রাশ নিজেদের তালুবন্দি করার ক্ষেত্রে অ্যাডভান্টেজ বাড়িয়েছে বিজেপি।

আসলে এই দুই রাজ্যে আনকোরা গেরুয়া শিবিরকে এখনও সেই অর্থে রাজনৈতিক কষ্টিপাথরে ঘষে তেমন পরীক্ষা দিতে হয়নি। যারফলে গেরুয়া শিবিরের নেতা নেত্রীরা খুব সহজে নিজেদের রক্ষনার্থ পিচে রেখেই সপাটে শাসকের বিরুদ্ধে বা পূর্বের ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চার ছক্কা হাকাতে পারছেন। রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন, আসলে বিজেপি একবার ক্ষমতায় এলেই তবে এই দুই রাজ্যে রাজনৈতিক তুল্য মূল্যের হিসাবটা সঠিকভাবে নিক্তিতে তোলা যাবে।

ফলে আপাতত ক্ষমতায় না আসা বিজেপি রাজনৈতিক পরিসরের প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার মাপকাঠিতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি, এই দুই রাজ্যের জনগণের একটা অংশও চাইছেন, অনেক তো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় এনে দেখা গেলো, একবার না হয় বিজেপিকেই এনে দেখা যাক। তারা কি করে। আর এই মনোভার ক্রমশ বাংলা বিহারের একটা বড়ো অংশের ভোটারদের মধ্যে অনেকটা প্যানিক সৃষ্টি করেছে। যার উপর দাঁড়িয়ে মোদি অমিত শাহেরা সামান্য বাতাস লাগিয়েই গেরুয়া রঙ্গের চ্ছটায় সহজেই বাংলা ও বিহারের আকাশকে রাঙ্গিয়ে দিতে পারছেন।