Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

যার মাথায় দিদির হাত, সে খাবে জেলের ভাত, তৃণমূলকে নিশানা সুজনের

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কেডি সিং গ্রেফতার হওয়ার পর তা নিয়ে আসরে নেমে পড়েছে তৃণমূল বিরোধীরা। বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিএম। এদিন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান এবং বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty) বিষয়টি নিয়ে যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখান থেকে তাঁরা সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মান্নান এবং সুজনের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সুজনবাবু বলেন,” এই সমস্ত চোর, প্রতারক, ঠগদের মাথায় রয়েছে তৃণমূল। শুধু গ্রেফতার করলে হবে না, সমস্ত টাকা ফেরত দিতে হবে গরিবদের।

একটা ছড়া শুনে রাখুন। সেটা সব জায়গায় শোনা যাচ্ছে। যার মাথায় দিদির হাত, সে খাবে জেলের ভাত। এরপরও তিনি বলবেন সততার প্রতীক? মানুষ সব দেখছে, বুঝতে পারছে। অন্য জায়গা থেকে বাংলায় নিয়ে এসে কেডি সিংকে তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ করেছে। কেন প্রয়োজন হয়েছিল? এর উত্তর জানতে চায় বাংলার মানুষ। প্রতারিতদের টাকা ফেরত দিতে হবে। সে ব্যাপারে কী পদক্ষেপ হচ্ছে, এটা জানাতে হবে। কোনো কিছু যেন লোকদেখানো না হয়।” একইভাবে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, দুটি দলের গড়াপেটা চলছে। নির্বাচনের আগে নাটক করা হচ্ছে। লোকদেখানো ভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তৃণমূল এবং বিজেপির গড়াপেটার নাটক মানুষ ধরে ফেলেছেন।

আরো পড়ুন : ভাইপো এবার স্বামী তোলানন্দ তীব্র কটাক্ষ লকেটের

শুধুমাত্র মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এই গড়াপেটার খেলা চলছে।” উল্লেখ্য এর আগে চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিতে বেশ কয়েকজন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জেলে যেতে হয়েছে। সেই বিচার পর্ব চলছে। সেই সূত্রেই এদিন ছড়া কেটে সুজন আক্রমণ করেছেন তৃণমূলকে। উল্লেখ্য বহুদিন ধরেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করতে দেখা যাচ্ছে আব্দুল মান্নান এবং সুজন চক্রবর্তীকে (Sujan Chakraborty)। বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং সিপিএম যৌথভাবে লড়াই করবে। তাই প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কেডি সিং গ্রেফতারের ঘটনায় দ্রুততার সঙ্গে আসরে নেমেছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য কেডি সিংয়ের বিরুদ্ধে বহু কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিদেশে টাকা পাচার করতেন বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে কানপুর, বিহার, আগ্রা প্রভৃতি জায়গায় এফআইআর করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। শনিবার পর্যন্ত ইডি হেফাজতে থাকবেন তিনি। এমনই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সব মিলিয়ে এদিন কেডি সিং ইস্যুতে তৃণমূল তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেছেন সুজন। সুজনের কথায়, “কেডি সিং অন্য রাজ্যের মানুষ। তিনি রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন তৃণমূলে আসার আগে। অথচ তৃণমূলে নিয়ে এসে তাঁকে নতুন করে সাংসদ করা হল। কেন এটা করা হয়েছিল?” সুজনের কথায়, তৃণমূলের সঙ্গে দুর্নীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। এভাবেই চিটফান্ড কেলেঙ্কারি ইস্যু নিয়ে তৃণমূলকে এদিন ব্যাপক নিশানা করেছেন সুজন।