Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বাংলার যুব সমাজের মন জয়ে কে শেষ কথা বলবেন? অভিষেক না শুভেন্দু?

।। ময়ুখ বসু ।।

তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি পারবেন বাংলার যুব সমাজের মন জয় করে একুশের নির্বাচনে বাজিমাত করতে? রাজনৈতিক মহলে এখন এই জল্পনা তুঙ্গে। রাজ্যজুড়ে ভোটের হাওয়া যতোই চড়ছে ততোই শক্তি পরীক্ষার নিরিখে কে কাকে টেক্কা দিতে পারে তা নিয়ে চর্চাও বাড়ছে। একটা সময়ে তৃণমূলের যুব সংগঠনের দুই অন্যতম নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং সৌমিত্র খাঁ আজ বিজেপি শিবিরে।

পাশাপাশি বিজেপি শিবিরে চলে গিয়েছেন অনুপম হাজরা, শঙ্কুদেব পন্ডা, সব্যাসাচী দত্ত এবং বিশ্বজিত দাসের মতো একটা সময়ের তৃণমূল নেতারাও। যাদের উপর কম বেশী ভর করে তৃণমূলের যুব সংগঠন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিলো। আজ তৃণমূলের সেই সমস্ত যুব সংগঠনের নেতারা গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। ফলে যুব সমাজকে এককাট্টা করতে এখন কার্যত অভিষেকেই ভরসা তৃণমূলের। একুশের নির্বাচন যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে তা স্পষ্ট। এবারের নির্বাচনে একটা বড়ো নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে বাংলার যুব সমাজ।

ফলে এখন থেকেই বাংলার যুব সমাজকে টার্গেট করতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি। একদিকে কর্ম সংস্থান আর অন্যদিকে আধুনিক জীবন যাপনের স্বপ্ন কাজল চোখে দিয়ে মূলত যুব সমাজের মন জয় করতে হবে। সেক্ষেত্রে বাংলায় এগিয়ে থাকবে কে? মূল দুই যুযুধান তৃণমূল না বিজেপি? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই দেবাংশু বাংলার যুব সমাজের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে আরম্ভ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে তার ‘বন্ধু এসো খেলা হবে’ প্যারোডি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

ওই প্যারোডিতে উদ্বেল হতে আরম্ভ করেছে বাংলার যুব সমাজ থেকে ছাত্র সমাজ। ফলে এখনও পর্যন্ত রাজনীতির যে চালচিত্র সেখানে দাঁড়িয়ে যুব সমাজের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহনযোগ্যতা বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে শেষ বেলায় বিজেপি কি খেলা দেখাবে সেদিকে তাকিয়ে অনেকেই। তৃণমূলের গত ৯ বছরের বেশী শাসনামলে রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীদের কতোটা কর্মসংস্থান হয়েছে এবং তারা কতোটা খুশী হয়েছে তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

[ আরো পড়ুন :তারামায়ের মন্দিরের উদ্বোধন থেকে সনাতন ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর ]

বিরোধী এবং শাসকের মধ্যে অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের বহর যতোই থাকুক না কেন, আসলে তাদের নিয়ে শেষ কথা বলবেন বাংলার যুব সমাজই। সেক্ষেত্রে গত ৯ বছর ধরে রাজ্যের শাসক দলের কর্মকান্ড দেখে ফের তাদের দিকে যুব সমাজ হেলবে নাকি বিজেপির প্রতিশ্রুতি এবং আশ্বাসে ভরসা রাখবেন তারা? যুক্তি তর্কো আর বাস্তবতাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে ততপর রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার নেতারাও। পক্ষান্তরে উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে আসল সত্যিকে প্রতিষ্ঠা করতেও ততপর তৃণমূল। একটা সময়ে তৃণমূলের দুই যুব নেতা অভিষেক এবং শুভেন্দু এখন সম্মুখ সমরে।

দুই দলের দুই ঝান্ডা হাতে একে অপরের বিরুদ্ধে চলছে বিষোদগরণ। সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বাংলার যুব সমাজের কাছে কার গ্রহনযোগ্যতা থাকবে? স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নিরিখে শুভেন্দু এবং অভিষেক কেউই নিপাট একথা জোর দিয়ে বলা যাবে না। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও যেমন আর্থিক কেলেংকারির অভিযোগ উঠেছে তেমনি অভিষেকের বিরুদ্ধেও উঠেছে নানা দুর্নীতির অভিযোগ। ফলে শুধুমাত্র তাদের মুখ নিঃসৃত বাক্যবাণে বাংলার যুব সমাজ কার প্রতি ভরসা রাখবে সেটাই এখন দেখার।