Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

৭ টি জেলা নিয়ে প্রথম কলকাতার সমীক্ষায় এগিয়ে কারা?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বিধানসভা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। অফিসে, পাড়ার রকে, চায়ের দোকানে, বাড়িতে বাড়িতে একটাই আলোচনা, কি হবে এবার। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার মানুষ অনেক বেশি রাজনীতি সচেতন। এখানে রাজনীতি নিয়ে অনেক বেশি আগ্রহ দেখা যায়। এখনো নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়নি। কিন্তু যে যার মতো করে ভেবে নিচ্ছেন নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল। বলাবাহুল্য এবারের নির্বাচনে পুরোপুরি মেরুকরণের ভোট হতে চলেছে। বেশিরভাগ আসনেই হয় বিজেপি, নয়ত তৃণমূল। যুযুধান দু’পক্ষের কেউ জিতবে, কেউ হারবে। ইতিমধ্যেই বাংলার নির্বাচন নিয়ে নানা জায়গায় সমীক্ষা হচ্ছে সংবাদ মাধ্যম বা বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে। এমনকি তৃণমূল এবং বিজেপি নিজেদের মতো করে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা করেছে। সেই সমীক্ষার ফল দেখে দু’পক্ষই নিশ্চিত তারাই ক্ষমতায় আসতে চলেছে। আপনাদের প্রিয় প্রথম কলকাতাও বিষয়টি নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছে।

এখানে বলে রাখা ভালো এই সমীক্ষা কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়নি। আর সবচেয়ে বড় কথা এটা কোনো ভোটের ফলাফল নয়। জাস্ট একটা ফলাফলের আভাস পাওয়ার চেষ্টা মাত্র। তিনটি পর্যায়ে আমরা এই সমীক্ষা আপনাদের সামনে তুলে ধরব। প্রথম পর্যায়ে আমরা সাতটি জেলার সমীক্ষা আজ প্রকাশ করছি। এই জেলাগুলি হল পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ। উল্লেখ্য প্রথম তিনটি জেলা অবিভক্ত মেদিনীপুরের মধ্যে পড়ছে। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর সেখানে কী হতে পারে তা নিয়ে জনমানসে কৌতুহল তুঙ্গে। উল্টোদিকে মুর্শিদাবাদ হচ্ছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা। সেখানে সংখ্যালঘু ভোট কতটা পেতে পারে তৃণমূল এবং কংগ্রেস, বাম জোট, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

আর অনুব্রত মণ্ডলের জেলা বীরভূম নিয়ে মানুষের আগ্রহের কথা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। রাঢ়বঙ্গের অন্যতম দুই জেলা পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার দিকেও সবার নজর থাকবে। প্রথম পর্যায়ে আমরা আপনাদের সামনে 89টি আসনে সম্ভাব্য ফলাফলের একটা আভাস দেওয়ার চেষ্টা করেছি। জেলায় জেলায় ছড়িয়ে থাকা আমাদের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি এসএমএস, ফোন কলসহ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা মতামত পেয়েছি 7 টি জেলার বহু মানুষের। আমরা মতামত পেয়েছি মুর্শিদাবাদের ২৬৮, পশ্চিম মেদিনীপুরের ২২০, পূর্ব মেদিনীপুরের ২৭২, বাঁকুড়ার ১৯২, পুরুলিয়ার ১৬৫, ঝাড়গ্রামের ৯৫ এবং বীরভূমের ২২৪ জনের মতামত সংগ্রহ করেছি। এই পর্যায়ে মোট ১৪৩৬ জনের মতামত নিয়ে আমরা সমীক্ষাটি করেছি। যেসব বিষয় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল সমীক্ষায় সেগুলি হল, আম্পান দুর্নীতি, কাটমানি ইস্যু, করোনা মোকাবিলা, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প, নির্বাচনের আগে দলবদল, বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক দলের মিছিলে মানুষের অংশগ্রহণের সংখ্যা, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বারবার রাজ্যে আগমন, আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এবং আব্বাস সিদ্দিকীর প্রভাব, টেট সহ বিভিন্ন চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এবং অচলাবস্থা।

পাশাপাশি অবশ্যই নজরে রয়েছে গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল। সামনের বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষ কোন দলকে চায় এই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। সেখানে 41 শতাংশ মানুষ তৃণমূলের পক্ষে কথা বলেছেন। 43 শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছেন বিজেপির পক্ষে। বাম কংগ্রেস জোটের পক্ষে রয়েছেন 3 শতাংশ। মতামত জানাতে চাননি 13 শতাংশ। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গ্রহণ যোগ্যতার নিরিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর পক্ষে রয়েছেন 46 শতাংশ মানুষ। উল্টোদিকে দিলীপ ঘোষের পক্ষে কথা বলেছেন 28 শতাংশ। অধীর চৌধুরীর পক্ষে রয়েছেন মাত্র 8 শতাংশ। মতামত দেননি 18 শতাংশ। এবারে আমরা সরাসরি চলে যাব জেলা ভিত্তিক আসনগুলির ফলাফলের একটা আভাস পেতে। প্রথমেই দেখা যাক পশ্চিম মেদিনীপুরে কি হতে পারে। এই জেলায় 15টি আসন রয়েছে। বিজেপির পক্ষে যেগুলি যেতে পারে সেই আসনগুলি হল দাঁতন, দাসপুর, ডেবরা, গরবেতা , কেশিয়াড়ি, খড়গপুর, খড়গপুর সদর ,মেদিনীপুর, নারায়ণগড় ,পিংলা। তৃণমূল পেতে পারে শালবনি, ঘাটাল এবং কেশপুর।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে চন্দ্রকোনা এবং সবং বিধানসভা কেন্দ্রে। অর্থাৎ জেলার 15 টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেতে পারে দশটি এবং তৃণমূল পেতে পারে তিনটি। দুটি আসনে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। চোখ রাখি পূর্ব মেদিনীপুরে। এখানে 16 টি আসন রয়েছে। বিজেপি পেতে পারে এগরা, হলদিয়া, কাঁথি, দক্ষিণ, কাঁথি উত্তর, খেজুরি, মহিষাদল, ময়না, পাঁশকুড়া পশ্চিম, পাঁশকুড়া পূর্ব ,রামনগর এবং তমলুক আসন। উল্টোদিকে তৃণমূল পেতে পারে চন্ডীপুর, ভগবানপুর এবং পটাশপুর আসন। নন্দকুমার এবং নন্দীগ্রাম আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সমীক্ষা অনুযায়ী। অর্থাৎ এই জেলায় বিজেপি পেতে পারে 11 টি এবং তৃণমূল পেতে পারে তিনটি আসন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে দুটি আসনে। এবার নজর দেওয়া যাক ঝাড়গ্রামে। এই জেলায় চারটি আসন রয়েছে। নয়াগ্রাম এবং বিনপুর আসনে তৃণমূল জিততে পারে।

বিজেপি জিততে পারে গোপীবল্লভপুরে। ঝাড়গ্রাম আসনে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। অর্থাৎ এই জেলায় চারটি আসনের মধ্যে তৃণমূল দুটি এবং বিজেপি একটি পেতে পারে। একটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা। এবার নজর দেওয়া যাক মুর্শিদাবাদ জেলার দিকে। এই জেলায় মোট 22 টি আসন রয়েছে। সেখানে সরাসরি লড়াই হচ্ছে তৃণমূলের সঙ্গে বাম-কংগ্রেস জোটের। তৃণমূল যেগুলো জিততে পারে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে সেগুলি হল ভরতপুর, জঙ্গিপুর, খরগ্রাম, মুর্শিদাবাদ, নবগ্রাম, রঘুনাথগঞ্জ, রেজিনগর, সাগরদিঘি, সুতি। উল্টোদিকে জোট যে আসনগুলিতে জিততে পারে সেগুলি হল বহরমপুর, বড়ঞা, ডোমকল, ফারাক্কা, হরিহরপাড়া ,জলঙ্গি, কান্দি, লালগোলা, রানিনগর,সামশেরগঞ্জ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা বেলডাঙা, ভগবানগোলা এবং নওদায়। অর্থাৎ এই জেলা থেকে তৃণমূল ৯টি এবং বাম কংগ্রেস জোট 10 টি আসনে জিততে পারে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। তিনটি আসনে হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। মুর্শিদাবাদের পরে তাকানো যাক বাঁকুড়ার দিকে।

এখানে বারোটি আসন রয়েছে। বিজেপি যে আসনগুলিতে জিততে পারে সেগুলি হল বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, ছাতনা, ইন্দাস ,ওন্দা, রানিবাঁধ ,শালতোড়া, সোনামুখী এবং তালডাংরা। উল্টোদিকে তৃণমূল জিততে পারে রাইপুর আসনে। বরজোড়া এবং কোতুলপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ এই জেলায় তৃণমূল একটি এবং বিজেপি নটি আসনে জিততে পারে। দুটিতে হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বাঁকুড়ার পর নজরে পুরুলিয়া। এই জেলায় মোট আসন রয়েছে ৯টি। বিজেপি জিততে পারে বলরামপুর, জয়পুর, কাশিপুর, পারা, পুরুলিয়া এবং রঘুনাথপুরে। তৃণমূল জিততে পারে মানবাজার এবং বান্দোয়ান আসনে। একটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। সেটি হচ্ছে বাগমুন্ডি। সেখানে জোট প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বিজেপির। এই জেলায় তৃণমূল পেতে পারে দুটি এবং বিজেপি পেতে পারে 6 টি আসন। একটিতে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

সবশেষে আলোচনায় উঠে আসছে বীরভূম। এই জেলায় মোট 11 টি আসন রয়েছে। তৃণমূল যেগুলি জিততে পারে সেগুলি হল হাঁসন, লাভপুর ,মুরারই, নলহাটি এবং নানুর। উল্টোদিকে বিজেপি জিততে পারে ময়ূরেশ্বর, দুবরাজপুর ,রামপুরহাট এবং সিউড়িতে। দুটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। সেগুলি হল সাঁইথিয়া এবং বোলপুর। অর্থাৎ জেলার 11 টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেতে পারে চারটি এবং তৃণমূল পেতে পারে পাঁচটি আসন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে দুটি আসনে। অর্থাৎ যে 89 টি আসনের কথা বললাম সেখানে সমীক্ষার ভিত্তিতে বিজেপি এগিয়ে থাকতে পারে 40টিতে। উল্টোদিকে তৃণমূল এগিয়ে থাকতে পারে 24 টিতে। বাম কংগ্রেস জোট 10 টিতে এগিয়ে থাকতে পারে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে 15 টি কেন্দ্রে। আবারও বলছি এটা কোনো ভোটের ফলাফল নয়। যে যে কারণের কথা প্রথমেই বলেছি ,সেগুলির পাশাপাশি বিধানসভা ভিত্তিক মানুষের মতামত নিয়ে নির্বাচনে কি হতে পারে তার একটা আভাস পাওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র। এরপর আমরা সামনে আনব গোটা উত্তরবঙ্গ জেলার প্রত্যেকটি আসনের সমীক্ষার পাশাপাশি আরো কয়েকটি জেলার বিধানসভা কেন্দ্রের আভাস।