সুজাপুর বিস্ফোরণের ত্রুটি কোথায়? ফরেন্সিক দিল তথ্য

।। শর্মিলা মিত্র ।।

মালদার সুজাপুরে বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনও বিস্ফোরকজাত পদার্থের নমুনা পাওয়া যায়নি। মেশিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। সুজাপুর কাণ্ডে নমুনা সংগ্রহের পর এমনটাই প্রাথমিক অনুমান ফরেন্সিক দলের।  শুক্রবার গভীর রাতে সুজাপুর এলাকায় প্লাস্টিক কারখানায় প্রথম দফায় নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিক দল। শনিবার সকালে দ্বিতীয় দফায় আবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ফরেন্সিক দলের সদস্যরা।

বিস্ফোরণস্থল ঘুরে দেখে নমুনা সংগ্রহ করেন তারা। এরপরই, মেশিনের যান্ত্রিক ক্রটির কারনেই মালদার কালিয়াচকের সুজাপুরে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে তাদের প্রাথমিক অনুমান বলে জানান ফরেন্সিক আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, সংগৃহীত নমুনা কলকাতার পরীক্ষাগারে পরীক্ষাগ্রহণের পরই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ মালদার কালিয়াচকের সুজাপুরে প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৫ শ্রমিকের। পরে কলকাতায় নিয়ে আসার পথে সন্ধ্যায় মৃত্যু হয় কারাখানা মালিকের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৪ জন শ্রমিক। এদের মধ্যে ৩ জন মহিলাও রয়েছেন। বিস্ফোরণের পর লাল ফিতে দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এলাকা।

আরো পড়ুন : কলকাতা থেকে অদূরে তেলের খনি, এবার লাভের মুখ দেখবে বাংলা

তদন্তে নামে পুলিশ। পুলিশ সুপার অলক রাজোরিয়াসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর, সেদিনই বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে হেলিকপ্টারে মালদায় এসে পৌঁছান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। মৃত এবং আহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন তিনি। মৃতদের পরিজনদের ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয় রাজ্যের তরফে।

এরপর, শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিভিশনাল কমিশনার সৈয়দ আহমেদ বাবা শেখ, জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র,সদর মহকুমা শাসক সুরেশচন্দ্র রানো সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। আর তারপরই শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফরেন্সিক দল। শুক্রবারের পর শনিবার সকালেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেন্সিক আধিকারিকরা।

Categories