মুকুলকে নিয়ে কী পরিকল্পনা গেরুয়া শিবিরের

1 min read

।। রাজীব ঘোষ ।।

সম্প্রতি নারদ কান্ডে অভিযুক্তদের এনফর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে নোটিশ দিয়ে সাত বছরের আয় ব্যয় এবং সম্পত্তির হিসাব জানতে চাওয়া হয়েছে। তৃণমূলের একাধিক সাংসদ, বিধায়ক, নেতাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিজেপি নেতা মুকুল রায় কেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদান করার পরে তার হাত ধরে একাধিক তৃণমূল সাংসদ, বিধায়ক, নেতা-নেত্রীদের যোগদান করতে দেখা গিয়েছে বিজেপিতে।

তাদের মধ্যে অনেকেই সাংসদ হয়েছেন আবার অনেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে এসেছেন। তবে মুকুল রায় এখনো পর্যন্ত দলীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ পাননি। তাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো পর্যন্ত কিছু হয়নি। এরইমধ্যে মুকুল রায় রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরে না গিয়ে পৃথক অফিস খোলার বন্দোবস্ত করেছেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা চললেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে মুকুলের আলাদা অফিস করার বিষয়টিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মুকুল রায়কে আলাদা কোনো পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে শাসক তৃণমূলের একাধিক সাংসদ, বিধায়ক, নেতা-নেত্রীদের ভাঙিয়ে নিয়ে এসে বিজেপিতে যোগদান করানোর কৌশল থাকতে পারে। সেই লক্ষ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এগোচ্ছেন। তবে এর মধ্যেই ইডির পক্ষ থেকে বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে নোটিশ দেওয়ায় অন্য জল্পনা শুরু হয়েছে।

রাজ্য রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে মুকুল রায়কে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব যদি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে থাকেন সেখানে ইডির নোটিশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে নাতো? বেশ কিছুদিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লি থেকে বৈঠক করে ফিরেছেন মুকুল রায়। তবে তাকে এই মুহূর্তে দলের পক্ষ থেকে কোনো সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায় না। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই একটা ভার্চুয়াল সভায় ভাষণ দেওয়া ছাড়া এই মুহুর্তে তাকে কোনো গুরুত্ব ভূমিকা গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না।

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাবে কোন বক্তব্য পেশ করতেও দেখা যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি মুকুল নিজে থেকেই কিছুটা নীরব থাকছেন? অনেকের মতে, মুকুল রায় কে নোটিশ দেওয়ার মধ্যে দিয়ে আলাদা কিছু নেই। মুকুল ক্লিনচিট পেয়ে এসে রাজনীতিতে বড় দায়িত্ব পালন করবেন। সেক্ষেত্রে তদন্তে নিরপেক্ষ তাও দেখানো যাবে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মুকুলকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিতে পারেন। আবার অন্যান্য মত রয়েছে।

মুকুল রায় দলে যোগদান করার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে তাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। একাধিকবার এই বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আলোচনাও হয়েছে। তার মধ্যে ইডির এই নোটিশ অন্য বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপির বহু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে মুকুল রায়কে সেভাবে সামনে দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্বাচনের লক্ষ্যে দলীয় কৌশল তৈরি করার ক্ষেত্রে দেরি হচ্ছে মুকুল রায়ের। এই পরিস্থিতিতে মুকুলকে নিয়ে কি পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সেটাই দেখার বিষয়।