Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অভিষেকের উত্তরবঙ্গ সফরের কারণ কী কী? উত্তর জেনে নিন

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।

আগামীকালই উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আগামীকাল থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ সফরে থাকবেন তিনি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে উত্তরবঙ্গে একটু একটু করে পায়ের তলার জমি হারাচ্ছে তৃণমূল। গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলাতেই খুব খারাপ ফল করেছে তৃণমূল। বিশেষ করে কোচবিহার দার্জিলিং আলিপুরদুয়ার সহ উত্তরবঙ্গের ৫৪ টি বিধানসভা আসনেই খারাপ ফল করেছে তৃণমূল।

তার উপর ইদানীংকালে উত্তরবঙ্গ থেকে তৃণমূলে ভাঙনের স্রোতও প্রকট হয়ে উঠেছে। সেইসঙ্গে মাথা চাড়া দিয়েছে দলীয় বিভিন্ন স্তরে গোষ্ঠীকোন্দলও। সব মিলিয়ে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের সংগঠনকে চাঙ্গা করতেই অভিষেকের উত্তরবঙ্গ সফর বলে মনে করছেন রাজনৈতিকমহল। সাম্প্রতিককালে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং সহ কার্যত সর্বত্রই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভয়ঙ্কর আকার ধারন করতে চলেছে। সেই সংকট মেটাতে উত্তরবঙ্গের নেতা ও কর্মীদের নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ মেটাতে বৈঠকে বসতে পারেন অভিষেক।

পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের মাটিতে যেভাবে বিজেপি তাদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছে সেখানে দাঁড়িয়ে কীভাবে তৃণমূল তাদের হারানো জমি ফিরে পেতে পারে তা নিয়েও উত্তরবঙ্গের নেতাদের সঙ্গে বসে রণকৌশল ঠিক করতে পারেন তিনি। একইসঙ্গে সাম্প্রতিককালে উত্তরকন্যা অভিযানে যেভাবে বিজেপি শক্তি প্রদর্শন করেছে সেখানে দাঁড়িয়ে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের লড়াই ও আন্দোলনের শক্তি বাড়ানোর দাওয়াই বাতলে দিতে পারেন অভিষেক। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের অনেকটাই চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন বিমল গুরুং। আচমকা গোপন আস্তানা থেকে পাহাড়ে ফিরে এসে বিজেপি ত্যাগ করে যেভাবে তিনি তৃণমূলকে সমর্থন করার ঘোষনা করেছেন তাতে পাহাড়ের অনেক ছোট ছোট দলের পাশাপাশি আম আদমিও খুব বেশী সন্তুষ্ট নয়।

আরো পড়ুন :“লেবু কচলিয়ে লাভ নেই”অনুব্রত প্রসঙ্গ উঠতেই সিদ্দিকুল্লা পাশ কাটালেন?

ইতিউতি প্রশ্ন উঠছে, যে গুরুংয়ের বিরুদ্ধে তৃণমূল শাসিত রাজ্য সরকার কেসের পর কেস ঠুকেছিলো আজ সেই বিমল গুরুং তৃণমূলকে সমর্থন করতেই বিমল গুরুংকে স্কট করে নিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকারের পুলিশ? কেন? এর পিছনে কি ভোট রাজনীতিই শেষ কথা বলছে? ফলে বিমল গুরুংকে নিয়ে খানিকটা হলেও পাহাড়ে চাপে রয়েছে তৃণমূল। সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে উত্তরবঙ্গের সফরে অভিষেক এই বিষয়টি নিয়েও সেখানকার পোড় খাওয়া দলীয় নেতাদের সঙ্গে শলা পরামর্শে বসতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা।

অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর যেভাবে তোলাবাজ ভাইপো হঠাও ডাক দিয়ে রাজ্য থেকে সরকার উতখাত করার হুংকার দিয়েছেন সেই হুংকারের প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গেও। ইতিমধ্যেই কোচবিহারের এক তৃণমূল বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়ে দিয়েছেন। অনেকে থেকে থেকে বেসুরো বাজছেনও। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর হুংকারের পালটা জবাব দিয়ে দলের বেসুরোদের ক্ষোভ বিক্ষোভ মেটানোর পন্থা নিতে পারেন অভিষেক। ফলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা, ৪ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে সফরে গিয়ে একাধিক সভা সমাবেশ ও মিটিং মিছিলের মাধ্যমে কার্যত উত্তরবঙ্গের তৃণমূল সংগঠনকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়ে দিয়ে আসতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।