নিজের হৃদস্পন্দন শুনতে চান? যেতে হবে আপনাকে এখানে..

1 min read

।। স্বর্ণালী তালুকদার ।।

দার্জিলিং জেলার পাহাড়ি গ্রামগুলি থেকে হিমালয়ের সৌন্দর্য্য আপনাকে ছোটবেলার পাহাড় আঁকার কথা মনে করিয়ে দেব। ঠিক যেভাবে অপটু হস্তে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে পাইন, বার্চ, ফার গাছগুলো নেমে আসত, তেমন করেই লাভার পাকদন্ডী বেয়ে হিমালয়ের অ্যালপাইন আপনাকে মেঘের দেশে স্বাগত জানাবে। কালিম্পং এর এই ছোট্ট জনবসতির বুক চিড়ে চলে গিয়েছে তিব্বতের সিল্ক রুট।

ঘুম ভাঙবে অচেনা পাখির ডাকে। লাভার নিস্তব্ধ উপত্যকায় নিজের হৃদস্পন্দনের আওয়াজে মুগ্ধ হওয়ার পালা শেষ হতে না হতেই গরম চায়ের ধোঁয়া এসে হাজির হবে। রংবেরং পাহাড়ি ফুলের আবেশে আপনিও একজন চিত্রকর হয়ে উঠবেন। হয়ত উদাত্ত কন্ঠে গেয়েও উঠবেন ‘দেখো হে নয়ন মেলে, জগতের বাহার!’নাম না জানা পাখি এবং একঝাঁক প্রজাপতির দল আপনাকে নিয়ে যাবে নেওড়া ভ্যালি জাতীয় উদ্যানের অভিমুখে। আকাশছোঁয়া গাছের জঙ্গলের মায়াবি পরিবেশে গা ছমছম করবেই।

সঙ্গী রেঞ্জার আধিকারিক মহাশয় শোনাবেন জঙ্গলের নানান রোহমর্শক কাহিনী। কখনও চিতা বাঘের হানা, কখনও ভাল্লুক বাবাজির কেরামতি আবার বিরল প্রজাতির পাখির আগমন, হাঁটতে হাঁটতে কখন স্লিপিং বুদ্ধার দর্শন করে ফেলবেন, বুঝতেই পারবেন না। সোনাালী আলোয় মোড়া বুদ্ধদেব তখন শয়নে মগ্ন, আর আপনি ছবির আতিশায্যে মুগ্ধ।হিমাঙ্কের নীচে থাকা আবহাওয়া আপনাকে বারে বারে নিয়ে যাবে মেঘের দেশে।

রোদ ঝলমলে দিন নিমেষে বিষন্ন কুয়াশায় ঘেরা সন্ধ্যে কখন হয়ে যাবে, টেরও পাবেন না। গরম গরম মোমো, থুকপা সহযোগে নৈশভোজ সেরে বনফায়ারের আঁচে সেঁকে নিতে নিতে মনে পড়বে, জাভেদ আকতারের লেখা ইয়ে হম আ গয়ে হ্যায় কাঁহা!গ্রামের সরল সহজ জীবনযাপনের কাছে উচ্চ ইমারতের ঝাঁ চকচকে জীবনের সিম্ফোনি ম্লান মনে হবে। যখন সূর্যাস্তের লালচে আভা শতাব্দী পুরোনো লাভা মনেস্ট্রির চূড়ায় এসে ঠেকবে, প্রার্থনা গৃহে অবিরাম ছন্দে ঢং ঢং করে বড় ঘন্টা টা বেজেই চলবে,

সঙ্গের সারমেয়টিও তখন চুপ করে প্রকৃতির স্তব্ধ সঙ্গীত শুনবে। তার আদুরেপনা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতেই পারবেন না।তিন চারটে দিন এমন নির্বিঘ্নে ছোটবেলার ছবিগুলো ফিরে দেখতে চাইলে লাভা আপনাকে নিরাশ করবে না। বরং আলো-আঁধারিতে মাখা ভালোবাসায় মোড়া ঘনিষ্ট সঙ্গোপনে ফিরে পাবেন সেই পুরোনো দিনগুলো, যেটা ডায়রি আর চিঠির ভাঁজে মুড়ে রাখা রয়েছে।