উইকএন্ডের ছুটিতে ঘুরে আসুন ঘাটশিলা

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

অনুচ্চ পাহাড়, টিলা, সুবর্ণরেখা নদী, মন্দির ও কালজয়ী সাহিত্যিক, প্রকৃতিপ্রেমিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিধন্য ঘাটশিলা। সুবর্ণরেখা নদীর ঘাটের সঙ্গে শত শত শায়িত শিলা। সেই থেকেই নামকরণ হয়েছে ঘাটশিলা।

উইকএন্ডে ছুটি কাটাতে সকলে মিলে পৌঁছে যেতেই পারেন ঘাটশিলাতে। কলকাতা থেকে খুব কাছে, দূরত্ব মাত্র ২১৫ কিলোমিটার। সুবর্ণরেখা নদীর তীরে বনভূমি এলাকায় অবস্থিত ঘাটশিলা।

জানা যায়, রাজস্থানের ঢোলপুর থেকে এসে খাতড়ার সুপুর পরগনার রাজা চিন্তামনি ধোপাকে পরাস্ত করে ‘জগন্নাথ শাহাজাদা ধবলদেব’ নাম গ্রহণ করে ধবলভূমের রাজা হন রাজপুত যুবক জগন্নাথ দেব। সেই ধবলভূমের রাজধানী হিসেবে ‘সুপুর’কেই নির্বাচিত করেন তিনি। সেদিনের সেই ধবলভূমই এখন ঘাটশিলা নামে পরিচিত।

সুপুরের রাজধানী প্রতিষ্ঠার প্রায় বত্রিশ পুরুষ পর বিবাদ বাধে রাজ পরিবারের ছোট-বড় দুই পক্ষের মধ্যে। জানা যায়, তারপরই রাজপ্রাসাদের কূলদেবতা কালাচাঁদ জিউকে নিয়ে খাতড়া চলে যান তৎকালীন রাজা টেঁকচন্দ্র। সেখানে গিয়ে নতুন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। অন্যদিকে, অম্বিকানগরে গিয়ে নিজের রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন খড়্গেশ্বর ধবলদেব। বিগ্রহ শূন্য হয়ে পড়ে কালাচাঁদ জিউ-এর মন্দিরটিও।

যদিও, গ্রামবাসীরা আজও মনে করেন রাজপরিবারের তৈরি ‘কালাচাঁদ জিউ’-এর মন্দিরটি তাদের গ্রামের গর্ব।ঘাটশিলা অতীতে ধলভূম বা ধবলভূমের রাজ্যের সদর দফতর থাকার কারনে এখানকার তামার খনিটি বহু পুরোনো। ব্রিটিশ আমলে তৈরি হিন্দুস্তান কপার। জায়গাটির নাম মৌভাণ্ডার।

সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে ডান দিকে এক কিলোমিটার গেলে রাতমোহনা।সেখানে পাহাড়ি টিলা থেকে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা অসাধারণ।রেল স্টেশনের পূর্বদিকে থানা লাগোয়া পশ্চিমে রয়েছে আদিবাসীদের দেবী উগ্ররূপা রণকিনির মন্দির। দহিজোড়ায় রয়েছে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের আশ্রম তথা মন্দির। ঘাটশিলা থেকে দহিজোড়া মৌভাণ্ডার পেরিয়ে ঘণ্টা পাঁচেক গেলেই সিদ্ধেশ্বর পাহাড়ে রয়েছে শিব ও পার্বতীর মন্দির।টিলার পাশ দিয়ে প্রায় ৯ কিলোমিটার পথ গেলে পৌঁছে যাওয়া যাবে বুরুডি বাঁধে।

গ্রীষ্মকাল ছাড়া বর্ষাকাল ও শীতকাল দুটি সময়েই ঘাটশিলা তার ভিন্ন রূপে অপরূপ।ঘাটশিলায় রাত্রিবাসের জন্য রয়েছে নামী দামি বিভিন্ন হোটেল। সুবর্ণরেখা নদীর পাশে রয়েছে নিরিবিলিতে থাকার সুব্যবস্থা।তাই আর দেরি না করে নিরিবিলিতে উইকএন্ড কাটাতে অবশ্যই পৌঁছে যেতে পারেন ঘাটশিলাতে।

এম/বি