Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বিনয় বেপাত্তা, এবার তাঁর ভাই বিকাশকে সিবিআই-র তলব

1 min read

।। শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত ।।

বিনয় মিশ্র। এখন তাঁকে তৃণমূল চিনছে না। বলছে তাঁর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু গরু পাচারের তদন্তে নেমে সিবিআই জেনেছে বিনয় মিশ্র যুব তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক। বিনয় মিশ্রের বাড়ি ও দফতরে ইতিমধ্যেই তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই আধিকারিকরা । ওই তল্লাশি এবং তার আগের বেশ কিছু তল্লাশিতে পাওয়া নথিপত্র ঘেঁটে সিবিআই-র দাবি, গরু পাচারের এলাকার মধ্যে পরে এমন উল্লেখযোগ্য কিছু জেলার কয়েকটি থানায় পুলিশ কর্তাদের পোস্টিং দেওয়ার নামেও বড় অংকের টাকা তুলতেন বিনয় মিশ্র।এই কাজে বড় ভূমিকা ছিল গরু ও কয়লা পাচার কাণ্ডের প্রধান দুই অভিযুক্ত এনামুল হক ও অনুপ মাঝি ওরফে লালার।

বিনয় এবং লালা বর্তমানে দেশছাড়া বলে সিবিআই জানিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘এ রকম কিছু জানি না। তা ছাড়া, সরকারের দৈনন্দিন কাজে দল হস্তক্ষেপ করে না। সরকার যেখানে যেমন ভাল মনে করে, তেমন করে।’’ এদিকে সিবিআই-র দাবি, লালার বাড়ি-অফিস থেকে বাজেয়াপ্ত করা নথি থেকে এবং গরু পাচার কাণ্ডে এনামুলকে দফায় দফায় জেরা করে তাঁরা জানতে পেরেছেন, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, বর্ধমান, আসানসোল, দুর্গাপুর, বীরভূম ও পুরুলিয়ায় বেশ কিছু থানা এলাকায় ‘প্রভাব’ ছিল বিনয় মিশ্রর । গরু ও কয়লা পাচারের তদন্তে এ যাবৎ পাওয়া নথি থেকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ‘পাচারে জড়িত’ প্রায় ১০০ পুলিশ অফিসারের নাম জানতে পেরেছে বলেও দাবি করেছে সিবিআই আধিকারিকরা ।

আরো পড়ুন :ডাং হাতে নিয়ে ঠ্যাং ভেঙে দিন” নিদান অবশ্যই অনুব্রতর, পাল্টা দিল বিজেপি

সিবিআই আধিকারিকদের আরও দাবি, স্থানীয় পুলিশের একাংশের ‘সাহায্য’ ছাড়া পাচারের কাজ চালানো কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। আর এই কাজে সাহায্যের বিনিময়ে মোটা আর্থিক সুবিধা পেতেন সাহায্যকারীর। ফলে ওই সব এলাকায় যাওয়ার জন্য পুলিশ মহলের কেউ কেউ আগাম মোটা টাকা দিতেও পিছপা ছিলেন না। সিবিআইয়ের দাবি, ওই সব থানা এলাকায় ‘পোস্টিং’ পাইয়ে দেওয়ার নামে বিনয় যে টাকা তুলতেন বলে অভিযোগ, তার একাংশ এক ‘প্রভাবশালী’ নেতার কাছে যেত। ২০১৬-র ফেব্রুয়ারিতে জেলায় জেলায় পুলিশে কিছু রদবদলের পিছনে এমন কোনও কারণ আছে কি না, তা-ও সিবিআই দেখছে বলে দাবি করেছে। এদিকে ৪ জানুয়ারির পর ১২ জন্যরিও বিনয় মিশ্র সিবিআই-র নিজাম প্যালেস দপ্তরে হাজিরা না দেওয়ায় তাঁর ভাই বিকাশ মিশ্রকে ১৫ এবং ১৬ জানুয়ারী নিজাম প্যালেস তলব করা হয়েছে। বিনয়ের ওপর চাপ বাড়াতেই সিবিআই-র এই কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। এনামুল হককে নাগালে পেলেও কয়লা পাচারের ছাইড়া এখনও সিবিআই-র নাগালের বাইরে রয়েছে।