বানভাসী মিনাখাঁর মোহনপুর অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা।।

কোথাও কোথাও এক ফোঁটা জলের জন্য মানুষের হাহাকার করে। আবার কোথাও কোথাও মানুষ জলে ডুবে থেকে জল থেকে বাঁচার জন্য হাহাকার করে। হ্যাঁ এমনটাই দৃশ্য ফুটে উঠছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটের মিনাখাঁর মোহনপুর অঞ্চলের কালিবাড়ি, চন্ডি বাড়ি, সহ একাধিক গ্রামে।

গত ২০ মে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের দাপটে মিনাখাঁর চন্ডি বাড়ি গ্রামে বিদ্যাধরী নদী বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছিল বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রশাসন এলাকাবাসীদের যৌথ উদ্যোগে প্রায় তিন বারের প্রচেষ্টায় বাঁধ মেরামত হয়েছিল। সেই সময় প্রায় একমাস এলাকার মানুষেরা জলকে সঙ্গী করেই জলের মধ্যে বসবাস করেছেন। আস্তে আস্তে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছিল এই সমস্ত গ্রামের মানুষেরা। প্রায় সব কিছু হারিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে একটু একটু করে গুছিয়ে তুলছিল ভেঙে যাওয়া বাড়ি গুলোকে।কিন্তু আবারও কয়েক মাসের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার অমাবশ্যার ভরা কটাল এর নদীতে জলস্ফীতির কারণে আবারো ওই জায়গা ভেঙে প্লাবিত হলো বিস্তীর্ণ এলাকা।

জল যেন কিছুতেই ছাড়ছেনা পিছু। ঠিক এমনটাই অবস্থা এই মোহনপুর বাসীর।গত কয়েক মাস আগে প্রায় ৩০ দিন জলের সঙ্গে জলজ প্রাণীর মতো বসবাস করে উঠতে না উঠতেই আবারো জলমগ্ন হয়ে গেল এই সমস্ত এলাকা। সেই বৃহস্পতিবার থেকে এখনো পর্যন্ত জলমগ্ন এই মোহনপুর অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রচুর বাড়ি ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে।

ওই সমস্ত গৃহহীনরা রাস্তার উপরে কোন ভাবে অস্থায়ী তাবু তৈরি করে দিন কাটাচ্ছে। সন্ধ্যে হলেই এলাকাতেই বাড়ছে সাপের উপদ্রব। জল ও বিষধর সাপকে সঙ্গী করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে এলাকার শতাধিক পরিবার। খোলা আকাশের নিচে চলছে রান্নাবান্নার কাজ। এইভাবে আর কতদিন থাকতে হবে তাও তারা জানেনা।

কবে নদী বাঁধ মেরামতের কাজ সমাপ্ত হবে। সমাপ্ত হওয়ার পর আবারও যে ভেঙে যাবে না তারও কোনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না প্রশাসন। বাড়ির বৃদ্ধ,ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বিদ্যুৎহীন এলাকায় রাস্তার উপর অস্থায়ী ঘরে করণা আবহের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তারা। স্থানীয়দের দাবি প্রশাসন তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয় না, কেমন আছে তারা, কি অবস্থায় আছে তারা তাও জানতে আসেনা, প্রশাসনের উদ্যোগে নেই কোন সাহায্য। এমনই চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে এলাকাবাসীরা।

তবে এলাকাবাসীদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহনপুর অঞ্চলের প্রধান। প্রদানের দাবি এলাকাবাসীর শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।