স্মৃতিতে চিরভাস্বর মহানায়ক উত্তম কুমার

।। প্রথম কলকাতা ।।

শাওন ও রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে, বাহিরে ঝড় বহে, নয়নে বারি ঝরে, দেবদাস ছবিতে উত্তম কুমারের লিপে এই গানের কলি টায় হয়ে পড়ে মহানায়কের এপিটাফ। কারণ সত্যি শ্রাবণ মাস এলেই উত্তম কুমারের কথা স্মরণে আসে আমাদের। আজ 24 শে জুলাই তার মৃত্যু দিন। প্রায় 40 বছরের উপরে একটু একটু করে মৃত্যু ঘটে চলেছে তার অভিনয়ের ইতিহাসের।

হাজার 1980 সালের 24 শে জুলাই মারা যান প্রবাদপ্রতিম এই অভিনেতা। তার প্রয়াণ এর পর কেটে গেছে প্রায় চার দশক। তবু বাঙালির কাছে আজও হারায়নি উত্তম ম্যাজিক। আজ তার মৃত্যু দিবস।এই মৃত্যুদিনে বাংলার সংস্কৃতি জগত আজও বিনম্র চিত্তে স্মরণ করে তাকে। তবে শুধু অভিনয় নয় পরিচালনা থেকে শুরু করে প্রযোজনা সুরকার প্রতিটি ভূমিকাতেই তিনি পারদর্শী।বাংলা চলচ্চিত্র জগতে মোট 211 টি ছবি তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছিলেন।

যার মধ্যে তিনটি ছবিতে পরিচালনার কাজও তিনি করেছিলেন। ছবির নাম কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী, বনপলাশীর পদাবলী, শুধু একটি বছর। বাংলা চলচ্চিত্র জগতে অভিনয়ের জন্য প্রথম জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন উত্তম কুমার। এন্টনি ফিরিঙ্গি, চিড়িয়াখানা ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য 1967 সালে ভারত সরকারের দ্বারা এই পুরস্কার পান তিনি। উত্তম কুমারের চিরকালীন জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ তার বাঙালিয়ানার প্রতীক।

বাঙালিয়ানার প্রতীক বলতে যে তার সুদর্শন চেহারা, ধুতি পাঞ্জাবি পরা নজরকাড়া ব্যক্তিত্ব শুধু তাই নয়, উত্তম কুমার ছিলেন বাঙালিসত্ত্বার এক সম্পূর্ণ প্যাকেজ।তবে একথা সত্যি যে ক্যারিয়ারের মধ্যগগণে থাকতে থাকতেই তার প্রয়াণ মানুষের মনে তার ভাবমূর্তিকে এক অমরত্ব দান করেছে যার জন্য তার জনপ্রিয়তা আজও আকাশচুম্বী।