করোনা আতংকের মাঝেই অজানা রোগ, মৃত ৩ শিশু

।। হিমাদ্রি মণ্ডল, বীরভূম ।।

দেশ তথা রাজ্যজুড়ে বেড়ে চলেছে করোনাতঙ্ক। আর এই করোনাতঙ্কের মাঝেই আবার অজানা এক রোগের আবির্ভাব। যে রোগে ইতিমধ্যেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত আরও ছয় জন। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাটের ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত মাড়গ্রামের ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের এঁটেলপাড়ায়। যদিও এই অজানা রোগ কি, এর উপসর্গ কি ইত্যাদি বের করতে তদন্ত শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

বীরভূমের ওই এলাকায় দিন দশক ধরে এই রোগের দেখা মিলেছে। আর এই দিন দশেকের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে তিন শিশুর। গতকাল রাতেই চার বছরের এক শিশু সাহিল শেখ বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শিশুরা ছাড়া বর্তমানে আর কাউকে এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়নি। আর এমন ঘটনায় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা থেকে ছোট ছোট শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

রোগের উপসর্গ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগাম সেরকম কিছু টের পাওয়া যাচ্ছে না এই রোগের ক্ষেত্রে। হঠাৎ করে শিশুদের শুরু হচ্ছে পেটে ব্যথা আর তারপর মাত্র ৫ থেকে ৬ বার বমি হওয়ার পরেই শিশুটি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। যদিও আশার আলো এটাই যে বাকি আরও যে ৬ জনের এই অজানা রোগে আক্রান্তের খবর মিলেছে তারা বর্তমানে বাড়িতেই রয়েছে এবং আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ।

রবিবার এই ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামে যান এলাকার বিডিও, বিএমওএইচ এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা। সেখানে তারা এদিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে খোঁজ নেন এবং শিশুদের শারীরিক পরীক্ষা করে দেখেন। তাদের তরফ থেকে জানানো হয় মৃত তিন শিশু হলেন আসাদুল শেখ, যার বয়স ১৪ বছর। নাঈম শেখ, যার বয়স ৬ বছর এবং সাহিল শেখ, যার বয়স ৪ বছর।

এদের প্রত্যেক জনের ক্ষেত্রেই একই উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা জানান, “সঠিক কী কারণে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে তার সম্পর্কে এখনো আমরা কিছু জানতে পারিনি। তবে আমরা সমস্ত রকম সর্তকতা অবলম্বন করছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের পুকুরের জল ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যান্য যেসকল জলের উৎস রয়েছে সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে এবং জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে।”

অন্যদিকে, যে সকল শিশুরা মারা গেছেন তাদের ডেথ সার্টিফিকেট চিকিৎসকদের তরফ থেকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে লেখা হয়েছে ‘সেপসিস’। যার অর্থ হলো অসুস্থতা যা ব্যাকটেরিয়া (জীবাণু) দ্বারা রক্তের কার্য ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ ভাবে পরাজিত করা। এই রোগে সংক্রমণ ঘটতে পারে অন্ত্র, কিডনি, ঘিলুর ভাঁজ, যকৃত, পিত্তথলি, ফুসফুস (ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া) ও ত্বকে।

এম/বি