চেনা পুরুলিয়ার অচেনা রূপ

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

রুক্ষতার মধ্যেও অনন্ত রঙীন রাঢ় বাংলার রূপ অতুলনীয়। আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরব চেনা পুরুলিয়ার অচেনা রূপ।

রাত ১১টা ৫ মিনিটের আদ্রা-চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জারে করে বরাভূম। কিংবা ধর্মতলা থেকে ছেড়ে যাওয়া নাইট কুইনে চড়ে দুয়ারসিনির মোড়ে নেমে কুকুবুরু পাহাড়ের কোলে টেন্টে রাত কাটাতে পারেন আপনারা। হোটেল বা হোমস্টে থাকলেও প্রকৃতির কোলে টেন্টে বা ট্রি হাউসে কয়েকটি দিন কাটাতে পছন্দ করেন অনেকেই। চেনা পুরুলিয়ার অল্পচেনা কিছু গন্তব্য আর বিশেষ কিছু উৎসব তুলে ধরব আপনাদের সামনে।

টুসু পরব

পাতলা রংদার কাগজ আর সালমায় সাজানো ঠাকরুনের সিংহাসন। একে ঘিরেই এই টুসু পরব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নতুন জামাকাপড়ে সেজে আনন্দে মেতে ওঠে আদিবাসী সমাজ। টুসু উৎসবকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে মেলাও।

পাহাড় দেবতার মেলা

গোটা শীত জুড়ে নানান উৎসবে মেতে ওঠে পুরুলিয়ার আদিবাসী সমাজ। পুরুলিয়ার পাহাড় বা টাঁড় হলেন তাদের দেবতা।টুসু পরব বা টুসু উৎসবের পাশাপাশি রয়েছে পাহাড় দেবতার মেলাও।

আদিবাসীদের মঙ্গলকামনায়, সংসারে সুখশান্তি, সাচ্ছন্দ্যের কামনায় প্রবল শীতকে উপেক্ষা করে পাহাড়ের শিখরে চড়েন পুরোহিত। সাদা মোরগ হাতে নিয়ে পাহাড়ে চড়েন রাঢ় বাংলার মানুষও। পুজো উপলক্ষ্যে সেই মোরগের গলা চিরে রক্ত ছড়িয়ে দেন পাথরের থানে। তারপর অযোধ্যা পাহাড়ের শীর্ষে উড়িয়ে দেন একটি পতাকা। সারাটা দিন ধরে চলে বুরু ঠাকুরের পুজো। পাহাড়ের নীচে চলে মেলা। মেলাকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে অযোধ্যা পাহাড় চত্ত্বর।নানান উজ্জ্বল রঙের জামাকাপড় পরে গ্রামের মেয়েরা ভিড় জমান মেলা প্রাঙ্গনে। খাওয়া দেওয়া থেকে শুরু কেনাকাটি সবই চলে সারাদিন ধরে। সব মিলিয়ে এ যেন এক অন্য ভুবন।

সন্ধে নামতেই মেলা ভেঙে গেলেও সোনকুপি, ভচুংডি, দুয়ারসিনি সমেত পুরুলিয়ার নানান গ্রামে বাঁশের বেড়ার ঘেরাটোপের মধ্যে বসে ঝুমুর গানের আসর।না কোন বিখ্যাত শিল্পী নয়, গ্রামের সাধারণ পুরুষ ও মহিলারাই এই গানে অংশগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, বাঘমুন্ডির চড়িদা গ্রাম হল প্রবাদপ্রতিম ছৌ শিল্পী গম্ভীর সিংহ মুড়ার গ্রাম। এই গ্রামের খ্যাতি জগৎজোড়া। আজও অনেকেই ছো নাচের প্রশিক্ষণ নেন এখানে। গ্রামের খোলা ময়দানে চড়া হ্যালোজেনের আলোয় চলে  ‘মহিষাসুরমর্দিনী পালা’। রাতের অন্ধকারে যা এক অজানা অনুভূতির জন্ম দেয়।

পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু ঝর্ণা। আপার ড্যাম পেরিয়ে এক আঁকাবাঁকা, সংকীর্ণ পথে খানিকটা নীচে নামলেই সামনে দেখতে পাবেন একটি সুন্দর ঝর্ণা। নাম বামনি ঝোরা। বামনি থেকে দেড় কিমি দূরে পাথরের খাঁজ বেয়ে নেমে আসছে তুরগা ঝর্ণা।

চারদিকে অনুচ্চ পাহাড় আর তার মাঝ বরাবর সরু রাস্তা পেরিয়ে চলে আসলেই দেখতে পাবেন বিশাল পাথরের চাতাল বেয়ে বয়ে আসা আরও এক ঝর্ণা নাম ঘাঘকোঁচা। কাছেই রয়েছে লহরিয়া শিবমন্দির। সব মিলিয়ে এক অপরূপ রূপে আপনাকে কাছে টেনে নেবে পুরুলিয়া।তাই উইকএন্ডের ছুটি কাটাতে পৌঁছে যেতেই পারেন চেনা পুরুলিয়ার অচেনা রূপে মুগ্ধ হতে।