Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

সবথেকে বুদ্ধিমান পাখি এর দুজন

||কলকাতা ডেস্ক||

পাখিরা বেশ বুদ্ধিমান। এই কথাটি মানুষ খুব সহজেই বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাস দীর্ঘদিনের। তবে এটি মানুষের মুখে মুখেই ছিল। এ বিষয়টির কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে নানা গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। তবে আশানুরূপ কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যতটা না ভাবা হয়, পাখিরা তারচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। তবে সব পাখিই কি বুদ্ধিমান? বেশি বুদ্ধিমান হিসেবে গবেষকরা কয়েকটি পাখির নাম বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে কবুতর, পেঁচা, এবং কাক গোত্রীয় কয়েকটি পাখি।

পাখিদের বুদ্ধিমত্তার ওপর একটি গবেষণা প্রকাশ হয়েছে সায়েন্স জার্নালে। গবেষণায় দেখা গেছে, পাখির মস্তিষ্কে মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী বুদ্ধিমান প্রাণীদের মতো সেরেব্রাল কর্টেক্স নেই। তবে এদের রয়েছে প্যালিয়াম, যা অনেকটা সেরেব্রাল কর্টেক্স এর মতোই কাজ করে। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, অনেক স্তন্যপায়ী বুদ্ধিমান প্রাণীর মতোই পাখিরা বিস্ময়কর বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ করে। পাখিদের মস্তিষ্কে রয়েছে নিউরনাল কমপিউটেশনের কাঠামো। পরিবেশ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য এদের মস্তিষ্ক বিবেচনা করতে পারে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে পারে।

পাখিদের মস্তিষ্কের প্যালিয়ামের টিস্যুর গঠন নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে সেরেব্রামের উপরিতলে গ্রে এবং হোয়াইট ম্যাটারের স্তরের উপস্থিতি রয়েছে। তাছাড়া রয়েছে ত্রিমাত্রিক সমবর্তিত লাইট ইমেজিং। এটি পাখিকে আশপাশের বিভিন্ন দৃশ্য, ছবি কিংবা প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত করে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, পাখিদের মস্তিষ্কের হাইপার প্যালিয়ামের নিউক্লিয়ার বাউন্ডারি এবং সেন্সরি ডর্সাল ভেন্ট্রিকুলার রিজে কলামের মতো নিউরনাল সার্কিট্রি (সংযোগ বা বর্তনী) রয়েছে। এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে পাখিদের মস্তিষ্কের বর্তনীগুলো স্তন্যপায়ীদের মতোই।

[ আরো পড়ুন : টাকা চাই ৬ হাজার, উপায় কী? সন্তানই বিক্রি করে দিলেন ]

পাখিদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একই দিন একই জার্নালে আরো একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণায় মূলত কাক গোত্রীয় পাখিদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই গবেষণায় দেখা গেছে বর্জ্যভোজী কাকেরা যখন উত্তেজিত হয় তখন এদের প্যালিয়াটিভ মস্তিষ্ক নিউরনাল সাড়া প্রদান করতে পারে। বলা যেতে পারে, কাক গোত্রীয় পাখিদের বুদ্ধিমত্তা বেশ সক্রিয়।

দুটি গবেষণা নতুন করে পথ দেখাচ্ছে। কারণ সেন্সরি কনশাসনেস বা বুদ্ধিমত্তা সম্ভবত সেরেব্রাল কর্টেক্স এর ওপর নির্ভর করে না। যদিও মানুষ এটি আগে বিশ্বাস করতো। অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও গবেষণাগুলো পথ দেখাবে। সামনে এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।