টুনটুনি রাজভবনের ইলেকট্রিকের তারে বসে গান গাইছেন

1 min read

।। শ্রীপর্ণা মুখোপাধ্যায় ।।

শিরোনাম পড়ে নিশ্চয়ই ভাবছেন টুনটুনি টা কে? আসলে টুনটুনি টা কোনও ব্যক্তি নয় প্রশাসন।(এটা আগেই বলে রাখলাম নয়তো ভাবনা আসতে পারে অনেক কিছু)। রাজ্যপাল পদে কে বা কারা ছিলেন আপনি খুব বেশি দিনের স্মৃতি মনে করতে পারবেন? কিন্তু আপনি পারবেন প্রধানমন্ত্রীর পদে কারা কারা ছিলেন বা রাষ্ট্রপতি কে কে ছিলেন, আসলে রাজ্যপাল পদ টা নিয়েই আমাদের সেই ভাবে ভাবানো হয় না বা ওতোটাও গুরুত্ব সহকারে আমাদের কাছে প্রকাশ করাই হয় না। এই তো দেখুন না দুদিন ছাড়াই রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী সংঘাত শিরোনামে এই শিরোনাম দেখতে দেখতে কোথাও গিয়ে রাজ্যপাল পদ টার সম্মান খোয়াচ্ছে(কেউ হয়তো সেটা দায়িত্ব নিয়ে করাচ্ছেন বা করাচ্ছে)।


রাজ্যপাল হয়ে আসা এ যাবৎ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর সাথে রাজ্যপালের সংঘাত বিশ্লেষকদের মতে “সীমা “ছাড়িয়েছে/ছাড়াচ্ছে, এক নয় একাধিক বার। কথায় আছে না, কেউ বনে সুন্দর কেউ বা মায়ের কোলে!তেমনি রাজ্যপাল জগদীপ ধানখর বিজেপিতেই সুন্দর!শাসকদল অন্তত তেমনটাই মনে করে। রাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান, তাঁর কার্যকলাপে মান্যতা থাকা বা দেওয়া জরুরী, কিন্তু তেমন টা যে হচ্ছে না তা তো সব চোখের সামনে দেখাই যাচ্ছে। কেন এমন টা হচ্ছে? জগদীপ ধানখর বিজেপির ঘর থেকে এসেছেন বলেই কি এমন টা হচ্ছে?

শাসকদল “স্বৈরাচারী, অগণতান্ত্রিক “, কাজে বাংলার সরকার, “অদক্ষ, অসাংবিধানিক “এই ধরণের বাক্যবান চালাতেই থাকেন রাজ্যপাল, অন্য দিকে একচুল ছেড়ে কথা বলেন না রাজ্যের শাসকদলের প্রধান এবং তাঁর ডান-বামের লোকেরাও, কিন্তু এমন টা কি কাম্য? থেকে যায় প্রশ্ন। দুদিন ছাড়াই চিঠি চালাচালি ফের কয়েক দিনের বিশ্রাম আবার কথা কাটাকাটি আবার বহু চর্চায় রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী সৌজন্য -সম্পর্ক!


রাজ্যপাল পছন্দের মানুষ না হলে রাজ্যের শাসকদল বেজায় চোটে যান এটা আজকের নয় বহু দিনের রীতি(সে নিয়ে অন্য একদিন আলোচনা করা যাবে না হয়), বর্তমান শাসকদল ও যে রাজ্যপাল কে নিয়ে খুশি নয় তা হাবেভাবে স্পষ্ট। বর্তমান অবস্থা খানিক এমন, রাজা যত রাগছেন টুনটুনি ততো রাজভবনের ইলেকট্রিকের তারে বসে গান গাইছেন।” রাজার ঘরে যে ক্ষমতা আছে, আমার ঘরেও সে ক্ষমতা আছে “এই এখন চলছে!তবে একটু চেষ্টা করলেই কিন্তু রাজ্যপালের সাথে মানিয়ে চলা যায়, উল্টোদিকেরও অবশ্য দরকার হয় সহযোগিতার।


করোনা পরিস্থিতির কারণে যদি নির্বাচন ঠিক সময়ে না হয় তখন কিন্তু জারি হতে পারে রাষ্ট্রপতি শাসন তখন রাজ্যপালের হাতে কিন্তু থাকবে সব ক্ষমতা তখন তৃণমূল সুপ্রিমো-মুখ্যমন্ত্রী সামাল দিতে পারবেন তো? নাহলে কিন্তু লাভ হবে বিরোধীদলেরই এটা বোধ হয় ভুলে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী!