Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

২১১ র বেশি আসন নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসছে, প্রথম কলকাতার সাথে কথা বললেন সৌমেন মহাপাত্র

1 min read

।। শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত ।।

পূর্ব মেদিনীপুর এখন তৃণমূল রাজনীতির সবচেয়ে সমস্যাসঙ্কুল জেলা। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়েছেন। তৃণমূল ছেড়েছেন তাঁর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। তৃণমূল দল শিশির অধিকারীকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তাঁকে সরানো হয়েছে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকেও। এই অবস্থায় পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল সভাপতি করা হয়েছে সৌমেন মহাপাত্রকে। প্রথম কলকাতা থেকে এই প্রসঙ্গে সৌমেন মহাপাত্রের (Soumen Mohapatra) একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছি আমরা। তিনি কী বলেছেন, শুনবো।


প্র : আপনি যে সময় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব পেলেন সেটা কী আপনার কাজ করার পক্ষে উপযুক্ত সময় বলে আপনি মনে করেন? এখন তো পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পর এবং শিশির অধিকারীকে অপসারণের পর জেলা পার্টিতে ওলোটপালোট চলছে, কী করে সামলাবেন?


উঃ কোনও ব্যক্তি দল ছাড়তে পারেন।এটা তাঁর রাজনৈতিক অধিকার। কোনও ব্যক্তি তাঁর দল ছেড়ে অন্য দলে গেলেই যে তাঁর পুরোনো দলের ক্ষতিসাধন হয় তা নয়। কারণ দলটা সমষ্টিগতভাবে যারা দলের অনুগত সৈনিক তাঁদেরই আন্দোলনের ফসল। সেই জায়গায় আমাদের মাননীয়া নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্যদিয়ে দলকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন। তাই সেই জায়গা থেকে আমি মনে করি না বিশাল কিছু আমাদের ক্ষতি হয়ে গেছে। আর সেই সময় আমি দায়িত্ব পেয়েছি। আমি কৃতজ্ঞ যে আমার প্রতি আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আস্থা রেখেছেন। আমি তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাই।


প্র : শুভেন্দু অধিকারী, সৌমেন্দু অধিকারীর তৃণমূল ছাড়া। শিশির অধিকারীকে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ থেকে সরিয়ে দেওয়া শারীরিক কারণে। দল পরিচালনায় যেটা প্রয়োজন বলে তৃণমূলের ব্যাখ্যা, এর ফলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কি কোনো প্রভাব পড়েছে? কেননা শুভেন্দু অধিকারী এই জেলার প্রতিষ্ঠিত নেতা, এখন আপনাদের প্রতিপক্ষ বিজেপির সঙ্গে গিয়ে আপনাদের বিরুদ্ধে বলছেন, এর ফলে রাজনৈতিক যুদ্ধটা কী জটিল ও কঠিন হলো ?


উঃ সারা ভারতবর্ষের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যদি দেখেন, দেখবেন ভোটের ২/৩ মাস আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে পরিবর্তন হয়। আমাদের যারা বিরোধী পক্ষ তাঁরাও এই সাত দিন আগে পরিবর্তন হয়েছে। তাই সেই দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে গেলে যে দল যেমন ভাবে করার তা করবে। আমাদের দলের এই পরিবর্তনের ফলে ভোটার মুখে দল ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মনে করি না ।সংগঠনে থাকবেন তো সবাই।নেতা তো একজন হবেন।কর্মীরাই দলের সম্পদ হয়ে আছেন। তাতে তো কোনও পরিবর্তন হয়নি।

আরো পড়ুন : গুরুঙের দল ভাঙছে এবার পাহাড়ে তৃণমূল ভাঙবেঃ মনোজ দেওয়ান


প্র : আপনি কী শিশির অধিকারী তৃণমূলের এতো দিনের সাংসদ, বিধায়ক, জেলার সভাপতি, দল পরিচালনায় ওনার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা,পরামর্শ নেবেন?


উঃ একদম।আমি তো প্রথমেই বলেছি। আমি ওনাকে শ্রদ্ধা, প্রণাম জানিয়েই শুরু করেছি। উনিই তো চেয়ারম্যান। আমার মাথার ওপরে। ওনার পরামর্শেই তো চলবো। আমার মাথার ওপর তো উনিই আছেন । উনি যা নির্দেশ দেবেন সেটাকে মান্যতা দিয়েই কাজ করবো। আমি তো সভাপতি।


প্র : এই যে ভোটার মুখে বিজেপি-র এই উত্থান, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে, এর প্রভাব মানুষের ওপর কী পড়বে, না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন?


উঃ প্রথম কথা বলি লোকসভা নির্বাচন ও বিধানসভা নির্বাচন এক নয়। বিধানসভার নির্বাচন পর পর দুটো টার্ম দেখে এলেন। সব সময়ই আমাদের আসন সংখ্যার লেখচিত্র উর্ধমুখী। এবারও সেই জায়গাতেই যাবে। লোকসভার নির্বাচন একটা ব্যতিক্রমী ব্যাপার ছিল। সেখানে অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করেছে। সেই ফ্যাক্টরগুলো আমি বলতে চাই না। তাতে কেউ ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবিত , কেউ প্রভাবিত না হওয়ার বিষয় ছিল। তবে এর কোনও চাপ পড়বে না, এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি। আর তৃণমূল কিন্তু লোকসভায় ২/৪ টি আসন কম পেলেও ভোট পাওয়ার শতকরা হার বেড়েছে। তাই বিধানসভায় ২১১ আসন অতিক্রম করে এবার উর্ধমুখীই আসন প্রাপ্তির লেখচিত্র থাকবে।


প্র : চিটফান্ড কাণ্ডের কোনও প্রভাব ভোটে পড়বে ? কেননা এতে যাদের নামে অভিযোগ তাঁরা কেউ আপনাদের দল ছেড়ে এখন বিজেপিতে আবার কেউ আপনাদের দলেই আছেন, আপনার কি মত?


উঃ এই চিটফান্ডের ব্যাপার যারা ভারতের স্বয়ংক্রিয় প্রতিষ্ঠান তারা বিচার বিবেচনা করছে। মানুষের মনে প্রশ্ন এরা কী স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারছে? না কী বিজেপি নামক দল তাদের পরিচালিত করছে? সত্যি যদি সমাধানের ইচ্ছা থাকতো তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে যা বলেছিলেন চিটফান্ডের মালিকদের সম্পত্তি বিক্রি করে সেই টাকা কিছু কিছু করে ক্ষতিগ্রস্থদের দিতে পারতো। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছিলেন। তিনিই ক্ষতিপূরণের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল তৈরী করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ক্ষমতা থাকলে তিনি করে দিতেন। তা না করে কাকে জেল খাটানো যাবে, কাকে ভয় দেখানো যাবে সেসব করছে।