Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

হাজার টাকার কুপন নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ, কিন্তু উঠছে অনেক প্রশ্ন

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বিধানসভা বা লোকসভা, ভোট পেতে নির্বাচনে টাকা ছড়ানো হচ্ছে এমন অভিযোগে বহুবার সরব হয়েছে শাসক এবং বিরোধী। পশ্চিমবঙ্গে একুশের নির্বাচনে সেই বিষয়টি আবার সামনে চলে এল। বুধবার তৃণমূল অভিযোগ করেছে, বিজেপি নাকি ১০০০ টাকার কুপন চালু করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি সহযোগে। জনসভায় আসলে সেই কুপন মিলবে, পরে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীর কাছে সেই কুপন জমা দিলে পাওয়া যাবে এক হাজার টাকা। এই অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল।

বিষয়টি নিয়ে তারা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ পর্যন্ত করেছে। কিন্তু তৃণমূলের এই অভিযোগ নিয়ে উঠছে কিছু প্রশ্ন। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এমন ভিডিও কী দেখা গিয়েছে যাতে দেখা যাচ্ছে ওই কুপন প্রদান করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে? এটা হলে কয়েক মুহুর্তের মধ্যে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যেত। কিন্তু এক্ষেত্রে এমন কোনও ভিডিও দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়েছেন, তথ্য প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

তবে কী তৃণমূলের তরফেই এই কুপন ছাপিয়ে বিজেপির ‘ ফেস লস’ করার চেষ্টা হয়েছে? এই যুক্তি তুলে ধরছেন তৃণমূল বিরোধীরা। প্রতিটি নির্বাচনের আগে শাসক এবং বিরোধী পরস্পরের বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ করে থাকে। সম্প্রতি বাঁকুড়ার তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের দিন টাকা ছড়াচ্ছেন এমন ভিডিও দেখা গিয়েছে। যদিও সেই বিষয়টি নিয়ে উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়নি তৃণমূলকে।

ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, কুপনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি থাকা মানেই সেটি বিজেপি করেছে, এই যুক্তি ধোপে টিকবে না। নির্বাচনের সময় এরকম অনেক কিছু দেখা যায়। যেমন ধরা যাক আরামবাগ মহকুমার কথা। সেখানকার তৃণমূল প্রার্থীরা ভোটে জিতছেন, নামী সংবাদমাধ্যমের নাম তুলে ধরে সমীক্ষার আকারে সেটি প্রচার করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টি দেখা গিয়েছে। কারা সেটা করেছে, সেটি জানা যায়নি।

অর্থাৎ কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বিষয়টি নিয়ে। ১০০০ টাকার কুপন নিয়েও একই যুক্তি উঠে আসছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা সেটা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। ইতিমধ্যেই প্রচারের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের হিসেব রাখার জন্য কমিশন একজন পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করেছে। তাই তৃণমূল টাকা ছড়ানোর ব্যাপারে যে অভিযোগ করেছে বিজেপির বিরুদ্ধে, সেই বিষয়টি আগামীদিনে কোন দিকে মোড় নেবে সেটাই এখন দেখার।