Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অনলাইন ক্লাসের জন্য ১০ কিলোমিটার পাড়ি!

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

অনলাইন পাঠদানের জন্য ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার ঘটনা ভাবা যায়? হ্যাঁ, সত্যিই এমনটিই ঘটেছে।

মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ব জুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। বিকল্প হিসেবে চালু করা হয় অনলাইন ক্লাস। অনলাইন ক্লাসের জন্য পাহাড় পেরুনোর গল্প, নেটওয়ার্কের জন্য গাছে ওঠার কথা এত দিন শোনা গেছে। এবার অনলাইন ক্লাসের জন্য ১০ কিলোমিটার পথ পেরুনোর কথা জানা গেল।

ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, স্পেন, যুক্তরাজ্যের পাশে ইউরোপে আছে কয়েকটি দেশ। এর একটি জর্জিয়া। সেই দেশের ১১ বছর বয়সী শিশু আলেকসান্দ্রে তিসোকলারি অনলাইন ক্লাসের জন্য পাড়ি দেয় ১০ কিলোমিটার পথ। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল আখমেতা এলাকা এই শিশু করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগেও প্রতিদিনই স্কুলে যেত।

করোনার সংক্রমণের কারণে সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করে। নিজ গ্রামে ইন্টারনেটে সংযোগ না পাওয়ায় প্রতিদিন ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে একটি কুঁড়েঘরে গিয়ে অনলাইনে ক্লাস করছে এই খুদে শিক্ষার্থী। দেশটির এমতিসামবেবি নিউ এজেন্সি নামের একটি গণমাধ্যম আলেকসান্দ্রে তিসোকলারির ক্লাসের যাওয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে।

আলেকসান্দ্রে তিসোকলারির বাড়ি আখমেতা এলাকার খেভিসচালা গ্রামে। স্কুলের ক্লাসের জন্য সকাল বেলায় রওনা হয় সে। ৯টা ৫০ মিনিটে স্কুলের ক্লাস শুরু হয়।

যেখানে নেটওয়ার্ক মেলে, বাড়ি থেকে সেই ১০ কিলোমিটার দূরের জায়গায় আলেকসান্দ্রে তিসোকলারির বাবা ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর বানিয়ে দিয়েছেন। এ পথ পাড়ি দিতে কয়েকটি ছোট নদী পেরুতে হয় আলেকসান্দ্রেকে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে আলেকসান্দ্রে জানিয়েছে, প্রতিদিন সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আমার স্কুল শুরু হয়। আগে দিনে দুই ঘণ্টা ক্লাস হতো। এখন ক্লাসের সময় বেড়েছে। বাবা আমাকে ক্লাস করার জন্য ১০ কিলোমিটার দূরে ছোট কুঁড়েঘর করে দিয়েছেন। বাড়ি থেকে কুঁড়েঘরে পৌঁছাতে কয়েকটা ছোট ছোট নদী পার হতে হয় তাকে।

১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এখানেই অনলাইন ক্লাস করে আলেকসান্দ্রে তিসোকলারি
১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এখানেই অনলাইন ক্লাস করে আলেকসান্দ্রে তিসোকলারিছবি: সংগৃহীত
১১ বছরের খুদে শিক্ষার্থী জানায়, ‘প্রথমে কুঁড়েঘরে ছোট দরজা ছিল, পরে সেটিকে সরিয়ে ফেলা হয়। কারণ, ইন্টারনেটের সিগন্যাল পেতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল দরজাটি। কয়েক দিন আগে আমার কম্পিউটারটিও নষ্ট হয়ে যায়। এখন অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার একমাত্র ভরসা মোবাইল। মোবাইল ব্যবহার করেও ক্লাসে যোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে মাঝেমধ্যে।’

আলেকসান্দ্রের মা জানান, তিনি কয়েকবার তাঁর ছেলেকে স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তির চেষ্টা করেছিলেন, তবে মূল প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে তার পরিবারের কারও নিজস্ব গাড়ি নেই। বাড়ির আশপাশে স্কুল নেই। জর্জিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে তিনি পরিবহন সমস্যার কথা উল্লেখ করে চিঠিও পাঠিয়েছিলেন। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো এ সমস্যা সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আলেক্সান্দ্রের গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বসয়সের ভারে ন্যুব্জ বা প্রবীণ। এই গ্রামের মধ্যে আলেকসান্দ্রই একমাত্র শিক্ষার্থী যে স্কুলে যায়। এ কারণে সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা উন্নত করার তেমন উদ্যোগ নেই বলে তার মা জানান।

আলেকজান্দ্রে আরও বলে, ‘আমার গ্রাম ও পরিবারকে ভালোবাসি। আমি কেবল অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার জন্য নিজের গ্রাম কিংবা বাবা-মাকে ছেড়ে দূরের শহরে যেতে চাই না। অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে প্রতিদিন আমাকে সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠতে হয়, হেঁটে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া সত্যি অনেক দুঃসাধ্য একটি কাজ। কেউ আমাকে এ সময়ে একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দিলে আমার খুব ভালো হতো।’

আখমেতা এলাকার অধিকাংশ মানুষই বয়স্ক। আর সেখানকার একমাত্র শিশু আলেকসান্দ্র স্কুলে যায়
আখমেতা এলাকার অধিকাংশ মানুষই বয়স্ক। আর সেখানকার একমাত্র শিশু আলেকসান্দ্র স্কুলে যায়।

দেশটির সর্বত্র এখনো উন্নত অবকাঠামো না থাকায় এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটির একটি বড় অংশের মানুষের কাছে এখনো ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছায়নি।

স্থানীয় গণামধ্যম এমটিসামবেবি এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে জর্জিয়াতে ৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৬ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ শিশু বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। এদের মাঝে প্রায় ৫০ হাজার ৪০০ শিশু এখনো ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত। এদের অনেকের নিজস্ব কম্পিউটারও নেই।