বাংলাদেশের সববৃহৎ পাইকারি বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে

1 min read

.।।মনির ফয়সাল (চট্টগ্রাম প্রতিনিধি) বাংলাদেশ।।

বাংলাদেশের সববৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বড় পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধস নেমেছে। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ঘিরে সরগরম থাকে এই পাইকারি বাজার। কিন্তু গত ঈদের পর থেকে বেচাকেনায় মন্দাভাব বিরাজ করছে। পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম কমছে। ঈদুল আজহায় মসলাজাতীয় পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। দামও বাড়তি থাকে। কিন্তু এ বছরে তার চিত্র বিপরীত দেখা মিলছে। ক্রেতা সংকটের কারণে মসলাজাতীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত কমতির দিকে রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বেচাকেনা ৬০-৭০ শতাংশ কমে গেছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের দামেও ভাটা পড়েছে। চরম দুঃসময় পার করছে বলে জানান ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা। ব্যাংক ঋণ ও দেনা পরিশোধ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউন তুলে নেয়ার পর দেশে আমদানি পণ্য বেড়ে গেছে। রোজায় বুকিং দেয়া পণ্য পর্যন্ত এখন আসছে।

কিন্তু দেশে বিয়ে, মেজবান, হোটেল-রেস্তোরাঁ এখনো বন্ধ রয়েছে। পণ্যের আমদানি বাড়লেও সরবরাহ বাড়েনি। কর্মহীন হয়ে পড়ায় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো যাচ্ছে না। এসবের প্রভাব পড়েছে ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে। বেচাকেনা কমেছে ৬০ শতাংশ। অপরদিকে কমছে পণ্যের দাম। ক্রমাগত লোকসান আর বেচাকেনা কমে যাওয়ায় শঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লডডাউন তুলে নেয়ার পর ভোগ্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে। এমনকি রোজায় বুকিং দেয়া পণ্যও এখন আসছে। এতে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বেড়ে গেছে। অপরদিকে, ঈদের পর থেকে বাজারে মন্দাভাব চলছে। বেচাকেনা কমে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক মন্দা যাচ্ছে। কর্মহীন লোকজনের সংখ্যা বাড়ছে। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসবের প্রভাব পড়েছে বাজারে।

মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে বাজার ঘুরে দেখা যায়, ১৫-২০ দিনের ব্যবধানে জিরার দাম কেজিতে তিনশ টাকা থেকে কমে ২০৫-২০৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রোজায় এ পণ্যটি ৪৫০টাকা বিক্রি হয়েছিল। ভারতে লকডাউন শিথিল করার পর পণ্যটির আমদানি বেড়েছে। তাই দামও কমতে শুরু করেছে। এলাচি কেজিতে ২৬৫০ টাকা ছিল এখন ২৪৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। রোজায় তা ২৮শ টাকা বিক্রি হয়েছিল। দারুচিনি ৩১০ টাকা থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা দরে।

চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ছোলা, চিনি, সয়াবিন, পাম তেল ডাল, চাল, মটরসহ অনেক ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তি ছিল। করোনা সংকটের কারণে ত্রাণ বিতরণে এসব পণ্যের দাম ক্রমান্বয়ে সূচক ঊর্ধ্বগতি ছিল। কিন্তু ঈদের সপ্তাহখানেক পর ধস নামতে শুরু করে। তেল জাতীয় পণ্যের দাম অনেকটা স্থিতিশীল থাকলেও কমছে চিনি ও ডাল জাতীয় পণ্যের দাম।

রমজানের জন্য আমদানি করা ছোলার দাম বেশি কমেছে। গত রমজানে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা উন্নতমানের ছোলা বিক্রি হয়েছিল কেজিতে ৭০-৭৫ টাকা দরে। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা দরে। কিছুদিন আগেও তা ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মসুর ও খেশারি ডালের দাম কমেছে। মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ২৭ টাকা দরে। কিছুদিন আগে তা ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। রমজান মাসে বিক্রি হয়েছিল ৪০ টাকা দরে। মটর বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগে তা বিক্রি হয়েছিল ৩৪ টাকায়। খেশারির ডাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

১৫-২০ দিন আগে তা ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। রোজায় বিক্রি হয়েছিল ১০০ টাকার বেশি দরে। মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। কিছুদিন আগে তা ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মুগ ডাল ১১৫ টাকা থেকে কমে ৯৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।দেখা যায়, চিনি কেজিপ্রতি ৫৪ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে ৭০ টাকায় ঠেকেছিল। ১৫দিন আগেও চিনি মণপ্রতি ২০৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে চিনি বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ১৯৮০ টাকা।তবে ঈদের পর থেকে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে।

পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ২৩৪০-২৩৫০ টাকা দরে। সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৩২শ টাকা দরে।বাজেটে পেঁয়াজ আমদানির উপর ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তার প্রভাব পড়েনি বাজারে। লকডাউনের কারণে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমে যাওয়ার রোজার মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল। তবে ঈদের পর থেকে পেঁয়াজের দামও কমতে শুরু করেছে।বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ২১-২৩ টাকা দরে। মধ্যমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫-১৬ টাকা দরে। রোজার মাসে তা বিক্রি হয়েছিল ৪৫-৫০ টাকা দরে।

বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৪০ টাকা দরে। আদা ১২০-১২৫ টাকা ও রসুন কেজিতে ৬২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘করোনায় বিশ্ববাজারে মন্দা চলছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ক্ষতির প্রভাব পড়েছে। বিশ্ববাজারে বাণিজ্যে কিছুটা স্থবিরতা বিরাজ করছে। তার প্রভাব এখানেও পড়ছে। বিশ্ববাজারের চেয়েও কম দামে পণ্য বেচাকেনা করতে হচ্ছে। এতে লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে’।