Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

তোলাবাজি, কয়লা পাচারের টাকা কীভাবে গিয়েছে কলকাতায়? জানালেন শুভেন্দু

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

তোলাবাজি, কাটমানি, কয়লা পাচার, গরু পাচার প্রভৃতি দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব হয়েছে রাজ্য বিজেপি। রাজ্য বিজেপির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা (JP Nadda) রাজ্যে এসে এই ইস্যুতে বারবার সরব হয়েছেন। এ ব্যাপারে তাঁদের অভিযোগের তির তৃণমূলের এক শীর্ষস্থানীয় যুবনেতার দিকে। প্রতিটি ইস্যুতে তাঁকে নিশানা করেন তাঁরা। সরাসরি নাম না করে ভাইপো বলে তাঁর বিরুদ্ধে একরাশ দুর্নীতির অভিযোগ করে চলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। সম্প্রতি কয়লা, গরু পাচার নিয়ে সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই এবং ইডি।

সেই অভিযোগে উঠে এসেছে তৃণমূলের এক যুব নেতা তথা ব্যবসায়ী বিনয় মিশ্রের নাম। সেই প্রসঙ্গে বিনয়ের নাম করে আজ পুরুলিয়ায় কাশীপুরের জনসভা থেকে সোচ্চার হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari)। তিনি সরাসরি এই দুর্নীতিতে জেলার পুলিশ আধিকারিকদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন। এমনকি এই অভিযোগ করার সময় কয়েকজন পুলিশ অফিসারের নাম তিনি প্রকাশ্যে জানান সভামঞ্চ থেকে। তাঁরা প্রত্যেকেই জেলার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক বলে পরিচিত। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের নাম যেভাবে শুভেন্দু উচ্চারণ করেছেন, তাতে বিষয়টি নিয়ে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। শুভেন্দু অভিযোগ করে বলেন,” পুরুলিয়া জেলায় অনেক খনিজ সম্পদ রয়েছে।

সেই কারণে এখানে নজর পড়েছে ভাইপোর। বারবার আসতে দেখা গিয়েছে বিনয় মিশ্রকে। এখানে বিলাসবহুল আকাশ হোটেলে উঠত। ডেকে পাঠানো হতো প্রবীণ তৃণমূল নেতাদের। তাঁদের অপমান করত। ওঠবোস করানো হতো। সবচেয়ে বড় কথা বিনয় মিশ্রকে পুলিশ সুপার পর্যন্ত স্যালুট করতেন। বিনয় মিশ্র গাড়ির আগে এবং পেছনে থাকত পুলিশের গাড়ি। বাঁকুড়া জেলার এক আইসি টাকা পৌঁছে দিত কলকাতায়। সেই আইসির নাম সিবিআই কম্পিউটারে উঠে গেছে। সবাই এখন ভয়ে কাঁপছে। পুলিশের সাহায্যে বস্তা বস্তা টাকা গাড়িতে করে পৌঁছে দেওয়া হতো কলকাতায়।” এভাবেই বিনয় মিশ্রর নাম করে শুভেন্দু অধিকারী এদিন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দুর্নীতি ইস্যুতে নিশানা করেছেন।

আরো পড়ুন : ওদের ফাঁদে পা দেবেন না, গাড়িটাকে ছেড়ে দিন, কেন বললেন শুভেন্দু?

এর পাশাপাশি শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয় নিয়েও তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, বাম আমলে জেলা থেকে শিক্ষক, শিক্ষিকা পদে নিয়োগ হতো। ব্রাত্য বসু যতদিন শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ততদিন সেটা বজায় ছিল। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Perth Chatterjee) শিল্প দপ্তরকে ডকে তোলার পর শিক্ষা দপ্তর নিয়ে হেলাফেলা করছেন। সব নিয়োগ-প্রক্রিয়া তুলে দেওয়া হয়েছে জেলা থেকে। বিকাশ ভবন থেকে সব কিছু হচ্ছে। আমি ভেতরের খবর সব জানি। পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের এক নেতা আছে। লক্ষ লক্ষ টাকা তুলছে চাকরি দেওয়ার নাম করে। সেই টাকার ভাগ চলে যাচ্ছে কলকাতায়। সেই নেতার নাম করছি না, আইনের গেরোয় পড়ব।

বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হোক। তখন প্রচারে এসে আরো অনেক কিছু বলব। পুরুলিয়া জেলা বিজেপি (bjp) সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর অকুণ্ঠ প্রশংসা করে শুভেন্দু বলেন, আপনারা বিজেপিকে দাঁড় করিয়েছেন। জোর করে গণনায় কারচুপি করে জেলা পরিষদে আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি বিজেপিকে জেতানোর জন্য আসিনি, আমি এসেছি বিজেপিকে হৃষ্টপুষ্ট, বলিষ্ঠ করতে। আপনারা আগেই বিজেপিকে জিতিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এদিন নানা প্রসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু। শুভেন্দুর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে বুথে বুথে তৃণমূল পোলিং এজেন্ট দিতে পারবে না। উন্নয়নের নিরিখে রাজ্যে পুরুলিয়া কতটা অবহেলিত তৃণমূল সরকারের আমলে, সেই অভিযোগও করেছেন তিনি।