Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

আজ নদীয়া দেখল আগ্রাসী মমতাকে, হুঁশিয়ারি বক্তব্যের বেশিরভাগ জুড়েই

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

রাজ্যে প্রায় ১০ বছর ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল বেশ খারাপ ফল করে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তারা পশ্চিমবঙ্গে ৩৪টি আসনে জয় পেয়েছিল। সেটা গতবার নেমে এসেছে ২২টিতে। উল্টোদিকে রকেটের গতিতে উত্থান হয়েছে বিজেপির। তারা জিতে নেয় ১৮ টি আসন। এই অবস্থায় রাজ্যবাসীর কাছে আস্থা অর্জনে তৃণমূল বেশ কয়েকটি প্রকল্প ঘোষণা করেছে। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রাজ্যের প্রত্যেক মানুষকে স্বাস্থ্যসাথী হেলথ স্কিম- এর আওতায় নিয়ে আসা। বলাবাহুল্য মূলত স্বাস্থ্যসাথীর ওপর ভর করেই তৃণমূল সামনের বিধানসভা নির্বাচনে জেতার স্বপ্ন দেখছে।

কিন্তু সেখানে বাধ সেধেছে বেশ কয়েকটি নার্সিংহোম। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হোল্ডারদের বহু বেসরকারি হাসপাতাল ফিরিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী আজ চরম বার্তা দিলেন বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে একজন রোগীকেও ফেরানো যাবে না বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেছেন। যদি সেই অভিযোগ কারোর বিরুদ্ধে আসে, তবে রাজ্যর স্বাস্থ্য দপ্তর সেই বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স পর্যন্ত বাতিল করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার রানাঘাটে জনসভা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানে তিনি বলেন,” অভিযোগ পাচ্ছি অনেক নার্সিংহোম স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও রোগী ফেরাচ্ছেন। পরিষ্কার জানিয়ে রাখছি একজনকেও ফেরানো যাবে না। মনে রাখবেন সরকারের কিন্তু লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা আছে।

বিজেপি (bjp) যে আয়ুষ্মান ভারতের কথা বলছে তার সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথীর অনেক তফাৎ আছে। জেলার সমস্ত নার্সিংহোমকে বলছি, রোগী ফেরাবেন না।” উল্লেখ্য বেসরকারি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হোল্ডারদের যে টাকায় চিকিৎসা করতে বলা হয়েছে তাদের, সেটা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কারণ উন্নত মানের পরিষেবা দিতে গেলে বাড়তি অর্থ প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছে তারা। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সরকার ভেবে দেখবে। কিন্তু এখনই বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে যে টাকা বরাদ্দ করা আছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসার ভিত্তিতে, সেটা বাড়ানো হচ্ছে না বলেই খবর। তাই রোগী ফেরাচ্ছে বহু বেসরকারি হাসপাতাল। মুখ্যমন্ত্রী ভালো করেই জানেন, এটা ক্রমাগত চলতে থাকলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিষয়টি নিয়ে তীব্র আক্রমণ করবে রাজ্যকে।

আরো পড়ুন : ভারতীয় জনতা পার্টি সাম্প্রদায়িক নয়, মূল্যায়ন শুভেন্দুর

ইতিমধ্যেই বিজেপি সেই কথা বলা শুরু করে দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) প্রতিটি জনসভায় নিয়ম করে বলছেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে কেউ চিকিৎসা পাবেন না। দাঁত তুলতে বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র আড়াইশো টাকা। কিডনির চিকিৎসায় বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র ২৪০০ টাকা। এমনটাই অভিযোগ করছেন তিনি। সুতরাং তৃণমূল শিবির ভালো করেই জানে রোগী প্রত্যাখ্যান হলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাদের উদ্যোগ ডাহা ফেল করবে। ইতিমধ্যেই দুয়ারে সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম থেকে শহরে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পাওয়ার জন্য লম্বা লাইন পড়ছে। সকলেই চাইছেন বিনামূল্যে এই কার্ড রেখে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা করাতে বেসরকারি হাসপাতালে।

নিঃসন্দেহে এটা একটা অসাধারণ উদ্যোগ রাজ্যের। কিন্তু যদি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হোল্ডার কলকাতা শহর তথা জেলা শহরের অত্যন্ত নামী নার্সিংহোমে ভর্তি হতে না পারেন প্রয়োজনের সময়, তখন তার তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে। পরিষ্কার জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হোল্ডারদের ফেরানো যাবে না। সোমবার রানাঘাটের সভা থেকে সেই ব্যাপারে লাইসেন্স বাতিলের মতো বিষয়টি তুলে ধরে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় সবাইকে নিয়ে আসার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার, সেটাই তৃণমূলের কাছে তুরুপের তাস। কিন্তু বেসরকারি নার্সিংহোমের একাংশ রোগী ফেরানোয় ভুল বার্তা যাচ্ছে মানুষের কাছে।

যদিও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অসহায় অবস্থার কথা বলেছে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কলকাতার একটি অত্যন্ত নামী বেসরকারি হাসপাতালের অন্যতম কর্তা তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক কুণাল সরকার এ বিষয়ে বলেন, রাজ্য সরকারকে আমাদের দিকটাও ভেবে দেখতে হবে। কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, তাতে উন্নত মানের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের কর্মীদের মাইনে দিতে হয়, বিপুল অঙ্কের বিদ্যুতের বিল মেটাতে হয়। সবমিলিয়ে এস্টাবলিশমেন্ট খরচ প্রচুর। সেই টাকা তো আর রাজ্য সরকার দেবে না। তাহলে তো বহু নার্সিংহোম এবার বন্ধ হয়ে যাবে। এটা যাতে রাজ্য সরকার ভেবে দেখে, আমরা সেই অনুরোধ করছি। সবমিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে তরজা যে চলতেই থাকবে, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।