এই শীত আপনাকে কাবু করবে মৌসুমী জ্বরে, সতর্ক হন

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

দিনে গরম লাগে , আবার রাতের দিকে বেশ শীত শীত ভাব। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই গরম ঠান্ডার মধ্যে প্রায় প্রতিটি পরিবারে মৌসুমি জ্বরের প্রকোপ দেখা দেয়। এই জ্বর ভাইরাস দ্বারা দ্রুত একজনের মাধ্যমে আরেকজনে সংক্রামিত হয়। তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে এমন ভাইরাল জ্বরের প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ভাইরাস জীবাণুর সংক্রমনের ফলে এই সর্দি-জ্বর ৭দিন স্থায়ী হতে পারে। ঔষধ ও পুষ্টিকর খাবার খেলে এই সময়ের মধ্যে জ্বর ভালো হয়ে যায়, ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

মৌসুমি ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ : হঠাৎ জ্বর আসে এবং ৭ দিন ধরে চলতে থাকে। ১০২-১০৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর হয়। শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এই জ্বরের সঙ্গে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা থাকে। গায়ে, হাত, পায়ে তথা শরীরের পেশীতে অসহ্য ব্যথা করে।

বেশির ভাগ সময় শরীরে জ্বরের সঙ্গে সর্দি, কাশি থাকে। প্রকৃতির হাওয়া বদলে নাক বন্ধ থাকে; নাক দিয়ে পানি পড়ে। মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে খিদে কমে যায় ও বমি বমি ভাব থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে মুখ লাল হয়ে যায়।

মৌসুমি জ্বরের চিকিৎসা ও সাবধানতা : জ্বর কখনোই বাড়তে দেয়া যাবে না। জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো শরীর নরম কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে মুছে ফেলতে হবে।

জ্বর – শরীর ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শে জ্বর ও ব্যথা কমার ঔষধ খেতে হবে। এজন্য বাসায় প্যারাসিটামল ট্যাবলেট রেখে দিতে পারেন। জ্বর জ্বর অনুভব আর জ্বর এক কথা নয়। আপনাকে আগে তাপমাত্রা মাপতে হবে। মানে যখন আপনি জ্বর অনুভব করবেন তখন থার্মোমিটার দিয়ে মাপবেন। এই জ্বর জ্বর অনুভব হওয়াতে আবার ফার্মেসি থেকে এন্টিবায়োটিক কিনে খাওয়া শুরু করবেন না। জ্বর ১০২ ডিগ্রী বা তার বেশি হলে প্যারাসিটামল সাপোজিটরী পায়ুপথে দিবেন। আর নাক বন্ধ থাকলে নাকের ড্রপ ব্যবহার করা লাগতে পারে।

দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক রাখতে হবে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় পুষ্টিকর খাবার, সেজন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। শীতের এই সময়ে আদা-লেবুর সংমিশ্রণে রং চা খেতে পারেন।

অসুস্থ ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। শীতকালে অনেকেরই পানির পিপাসা সেভাবে অনুভূত হয় না। আর এ কারণে পানি পানের পরিমাণও কমে যায়। যদিও রোগ প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুস্থ থাকার জন্য শীতকালে পিপাসা না লাগলেও পর্যাপ্ত পানি পান করুন। বাহিরের খাবার খাওয়া থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকতে হবে।

এদিকে বলা হচ্ছে শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, যে তাপমাত্রায় এই ভাইরাসটি বাড়ে, সহজে সংক্রমিত করতে পারে বা নিজের দ্রুত বিস্তার ঘটাতে পারে, শীতকাল সেটার জন্য আদর্শ। এ কারণেই ধারণা করা হচ্ছে যে, শীতকালে এই ভাইরাসের বিস্তার বেশি হতে পারে। কিন্তু শীতকালে করোনাভাইরাসের বিস্তার বেশি হয়, এমন কোন বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

অনেক সময় দেখা যায়, সাধারণ সর্দিকাশির মতো অনেক রোগ শীতকালে বেড়ে যায়। তাই এবারের শীতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমাদের উচিত ব্যক্তিগত সুরক্ষা মেনে চলা। বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।

Categories