Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

“আপাতত” , লক্ষ্মীরতন শুক্লার এই শব্দটুকুতেই তোলপাড় রাজনীতি

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

সদ্য মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা (Lakshmiratan Shukla)। এখন শুধু তিনি একজন বিধায়ক হিসেবে কাজ করতে চান। দল এবং মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরে তাঁকে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে রাজ্য রাজনীতিতে। তবে তিনিও কি বিজেপিতে যাচ্ছেন? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে বঙ্গ রাজনীতিতে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার। আর রাজনীতি প্রসঙ্গে যেটা জানালেন তাতে তাঁকে নিয়ে জল্পনা বহুগুণ বেড়ে গেল। তিনি বললেন, আপাতত কিছু দিনের জন্য রাজনীতি থেকে দূরে থাকছি। তাই এখন অন্য দলে যাওয়ার প্রশ্ন উঠছে কেন? সেই প্রশ্নই ওঠে না। একথা বললেও লক্ষ্মীরতন কেন আপাতত শব্দ ব্যবহার করলেন তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

এদিন সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) বারবার শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী আমাকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি সাধ্যমত কাজ করেছি। এখনো বিধায়ক পদ ছাড়িনি। মানুষের পাশে থাকব। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। তৃণমূলে এসে বহু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। একসঙ্গে কাজ করেছি। সেসব মনে থাকবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যথেষ্ট সম্মান দিলেও তৃণমূল আবার বিধানসভা নির্বাচনে জিতে রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে পারবে কিনা সে বিষয়ে কোনো ইতিবাচক উত্তর তাঁকে দিতে দেখা যায়নি। এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি পাশ কাটিয়ে বলেন, ময়দানে যখন দুটি দল খেলে তখন যারা ভালো পারফরমেন্স করে, তারাই জেতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) মানুষ জিতিয়েছিলেন।

আরো পড়ুন : আপনি কী করছিলেন ধৃতরাষ্ট্র হয়ে বসেছিলেন, কাকে বললেন দিলীপ ঘোষ

কর্মফলই মানুষকে সাফল্য এনে দেয়। সব দলের প্রতি শুভেচ্ছা রইল। লক্ষীর এই কথাতে জল্পনা আরো তুঙ্গে উঠেছে। তিনি একবারের জন্যেও বলতে চাননি তৃণমূল ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে। উল্টে বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল এবং বিজেপি ( bjp) দুপক্ষেরই জেতার সম্ভাবনা আছে। যদিও মুখে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব ভালো থাকবে। সেইসঙ্গে বলেন, আমি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। এর পাশাপাশি বলেছেন, আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি একজন খেলোয়াড়। আগামীদিনে ক্রীড়া জগতের সঙ্গে বেশি করে যুক্ত থাকতে চাই। লক্ষ্মীরতন এমন দাবি করলেও তিনি যেভাবে বলেছেন রাজনীতি থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়াচ্ছেন, তাতে সামনের দিনে অনেক কিছুই যে ঘটতে পারে, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

হাওড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ হচ্ছিল বিভিন্ন ইস্যুতে। তাঁকে তৃণমূলের হাওড়া জেলা শহরের সভাপতি করেছিল দল। তবে কি সেখানে যেসব ইয়র্কার পেয়েছেন সেগুলি সামলাতে অসুবিধা হয়েছে আপনার? এ প্রশ্নের উত্তরেও তৃণমূলের স্বস্তিতে থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, ইয়র্কার বলে মহেন্দ্র সিং ধোনি খুব ভালো ছয় মারত। খেলোয়াড় জীবনে আমরাও ওইরকম বলে ছয় মেরেছি। এভাবেই সপাটে জবাব দিয়েছেন বাউন্সার প্রশ্নের। এর পাশাপাশি বালির বেসুরো তৃণমূল বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া সম্পর্কে বলেছেন, তিনি আমার দিদির মতো। সবমিলিয়ে লক্ষ্মীকে নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি যে রয়েই গেল, সেটা জলের মতো পরিষ্কার। খেলোয়াড় হিসেবে বাংলায় লক্ষ্মীরতনের একটা উজ্জ্বল ভাবমূর্তি রয়েছে। তাই আগামীদিনে তিনি অন্য দলে গেলে তৃণমূলের সমস্যা যে অনেকটাই বাড়বে, তা নিশ্চিত। সামনের দিনে লক্ষ্মীরতন শুক্লা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেন কিনা সেটাই এখন দেখার।