Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

এ কোন রাজনৈতিক ভাষা

1 min read


।। সাগর দাশগুপ্ত ।।


শিল্প-সংস্কৃতির তীর্থক্ষেত্র আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু বেশ কয়েক বছর যাবত বাংলার রাজনৈতিক ভাষা ও সংস্কৃতি অনেকটাই বদলে গেছে। এই বিষয়ে বিজেপি এবং তৃণমূল যেন পরস্পরকে টেক্কা দিতে সদাব্যস্ত। রাজনৈতিক নেতারা রোজই তাঁদের বক্তব্যে কুকথার মালা গাঁথছেন। এই রাজনৈতিক ভাষণে কেন আলুর দাম ৫০ টাকা প্রতি কিলো হয়েছিল, কেন গ্যাসের দাম ক্রমেই বেড়ে চলেছে তার বিরুদ্ধে কোনও বক্তব্য নেই। শুধু কুৎসিত ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রতিআক্রমণ চলছে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলায় এসে বলছেন, তৃণমূল সরকারকে তুলে বাংলা থেকে ছুড়ে ফেলে দেব। দিলীপ ঘোষ বলছেন, ভাইপো ( পড়ুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) চোর।

সদ্য তৃণমূল দল ছেড়ে ২১ বছরের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে জনসভায় গলা ফাঁটিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) বলছেন, তোলাবাজ ভাইপো হঠাও। এখানেই শেষ নয়। তৃণমূল নেতা ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় বলছেন, অমিত শাহ বহিরাগত, কৈলাশ বিজয়বর্গীয় গুন্ডা, তাঁর ছেলে গুন্ডা, দিলীপ ঘোষ গুন্ডা। তাঁর বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীর তোলাবাজির অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গারামপুরের জনসভায় শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে বলোছেন, টেলিভিশানে টাকা নিতে কাকে দেখা গেছে? আমাকে? নাকি আমাকে যে তোলাবাজ বলছে তাঁকে? আমি বলছি, আমার নামে কোনও দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে আপনারা একটা ফাঁসির মঞ্চ বানাবেন, আমি সেখানে এসে নিজেই ফাঁসিতে ঝুলব।

আরো পড়ুন : মুকুল বড় চাণ্যক , ছোট চাণক্য শুভেন্দু জানিয়ে দিলেন কৈলাস


এর পর আছে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের রাজ্য সরকারকে সমালোচনা ও তার উত্তরে শাসক দলের নেতামন্ত্রীদের যাচ্ছেতাই ভাষায় রাজ্যপালকে গালাগাল। এক সময় বামফ্রন্ট সরকারকে তৎকালীন রাজ্যের বিরোধীনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যে ভাষায় সমালোচনা করতেন, সিঙ্গুর ইস্যুতে যে ভাবে রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীকে সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে সমালোচনা করতেন। সেই সমালোচনার চাইতে আরও তীব্র ভাষায় আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) বিরোধী বিজেপি ও রাজ্যপালের সমালোচনা শুনতে ও সহ্য করতে হচ্ছে। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করতেন বিরোধী দলনেত্রী হয়ে আজ সরকারে থেকে বিরোধীদের সেই কাজের তীব্র বিরোধীতা করছেন।

আর তাঁর দলের নেতাকর্মীরা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ভাষায় বিজেপি ও রাজ্যপালের সমালোচনা করছেন। তবে এর থেকে নিজেদের অনেকটাই আলাদা রাখতে পেরেছে বাম তথা সিপিএম। তাঁদের রাজনৈতিক ভাষণে এখনও কেন্দ্রীয় নীতির বিরোধীতা, বেকার সমস্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন বাতিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, নোটবন্দি, মহামারির আবহে পরিযায়ী শ্রমিকদের অসহায়তার কথা ধ্বনিত হয়। কেন্দ্রের নীতি বা রাজ্য সরকারের নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে সার্বিকভাবে বাম-কংগ্রেস কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলের নেতামন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাপন টেনে আনেন না। তাই বাম-কংগ্রেস এখনও মানুষের দাবি আদায়ের কথা আন্দোলনে তুলে ধরলেও বিজেপি ও তৃণমূল পারস্পরিক কটুকথায় পরস্পরকে আক্রমণ করে চলেছে। এখন প্রশ্ব একটাই, এই রাজনীতির শেষ কোথায়?