ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকে এই মাছ!

।।প্রথম কলকাতা।।

‘ফ্ল্যাটফিশ’। রহস্যে মোড়া আজব এই প্রাণী। অগভীর সমুদ্রের তলদেশে এদের বাস। দেখতে চাঁদা মাছের মত হলেও এদের বৈশিষ্ট্য কিন্তু একেবারেই ভিন্ন। এদের দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
১. ক্যামোফ্লেজ বা ছদ্মবেশ ধারণ। পরিনত প্ল্যাটফিশ বেশীরভাগ সময় সমুদ্রের তলদেশের মাটিতে শুয়ে থাকে। এ সময়ে শত্রু থেকে আত্মরক্ষা ও শিকার ধরার প্রয়োজনে এটি যেখানে শুয়ে থাকে অল্প সময়ের ভিতরেই সেই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে শরীরের রং পরিবর্তন করে ফেলে।
২. চোখের অবস্থান পরিবর্তন – সদ্য জন্ম নেওয়া ফ্ল্যাটফিশের দুইটি চোঁখ শরীরের দুই পাশে থাকলেও পরিনত ফ্ল্যাটফিশের দুইটি চোঁখই শরীরের একদিকে পাশাপাশি অবস্থান নেয়। প্রথমাবস্থায় যখন এটি সমুদ্রতলে শুয়ে থাকে তখন এর একটি চোঁখ উপরের দিকে এবং আরেকটি চোঁখ নীচে মাটির দিকে থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে এর নীচের চোঁখটি অবস্থান পরিবর্তণ করে উপরের অন্য চোঁখটির পাশে চলে আসে।
আটলান্টিক ও প্যাসিফিক মহাসাগরে ফ্ল্যাটফিশ সহজলভ্য। বড় প্রজাতির ফ্ল্যাটফিশগুলো জনপ্রিয় খাবার হিসেবে বিবেচিত উপকুলীয় দেশগুলোতে।
ফ্ল্যাটফিশের পূর্বসূরী হিসেবে ৫০ মিলিয়ন আগে সমুদ্রে বিচরণ করা এ্যাম্ফিস্টিয়াম কে ধরা হয়। প্রাপ্ত এই ফসিল থেকে দেখা যায় এর দুটি চোঁখ শরীরের একই দিকে না থাকলেও এর একটি চোঁখ মাথার উপরে চলে এসেছে।