গুন্ডামি করছে, নাম না করে পরেশকে বিঁধে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে তোপ সাধনের

।। কুমার মিত্র ।।

তৃণমূল রাজনীতিতে গোষ্ঠীকোন্দল নতুন কোনো ঘটনা নয়। বস্তুত দলটা যে বর্তমানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে একেবারে চুরমার হয়ে গিয়েছে তা ফের সামনে এল রবিবার। ছুটির দুপুরে মানিকতলার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সাধন পান্ডে তীব্র আক্রমণ করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক পরেশ পালকে। এদিন পরেশের খাসতালুক ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যা মানিকতলা বিধানসভার অন্তর্গত, সেখানে একটি কর্মসূচিতে এসে সাধন চাঁছাছোলা ভাষা আক্রমণ করলেন তাঁকে।

যা নিয়ে নতুন করে পূর্ব কলকাতার রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল। ৩১নম্বর ওয়ার্ডে এদিন একটি জনসংযোগ কর্মসূচিতে এসেছিলেন সাধন। এই ওয়ার্ড সাধনের বিধানসভা মানিকতলা কেন্দ্রের অন্তর্গত। যদিও এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পরেশ পালের অনুগামী। দীর্ঘদিন ধরে এই ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর ছিলেন পরেশ পাল। সাধন এদিন পরেশের পুরনো ওয়ার্ডে দলীয় কর্মসূচিতে এসে তাঁকে ব্যাপক আক্রমণ করেছেন নাম না করে।সাধনবাবু বলেন,” এখানে প্রোমোটারি রাজ চলছে। এলাকায় মাড়োয়ারিদের বাড়িতে গুন্ডা পাঠিয়ে তাদের চমকানো ধমকানো হচ্ছে।

এটা কি আমাদের বাঙালিদের সংস্কৃতি নাকি? যেভাবে মাঠের মধ্যে ইলিশ উৎসব হচ্ছে তাতে ইলিশ মাছের কাঁটা যত্রতত্র পড়ে থাকছে। এতে মানুষের প্রাতঃভ্রমণ করতে অসুবিধা হচ্ছে। যেখানে নিরামিষাশী মানুষের বেশি বাস, সেখানে কিভাবে ইলিশ ইলিশ উৎসব করা হচ্ছে? অবাঙালিদের থাপ্পড় মারা হচ্ছে। এটা বাঙালিদের মানায়?” এভাবেই এদিন নাম না করে পরেশ পালকে নিশানা করেছেন সাধন পান্ডে। তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও এক হাত নিয়েছেন রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী। সাধন বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বলেও লাভ নেই।

যা চলছে তা তো চলেই আসছে। তাতে তো মনে হচ্ছে, যে গুন্ডামি চলছে তাকে নেতৃত্ব প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এভাবেই এদিন বেলেঘাটার বিধায়ক পরেশ পাল তথা দলকে নিশানা করেছেন সাধন। যদিওথেমে নেই পরেশ পালও। তিনিও সাধনকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। পরেশ বলেন,” উনি একটা ফাটকাবাজ লোক। কোনো ভালো কাজ সহ্য করতে পারেন না। মিথ্যা কথা বলেন, নিজেকে বড় বেশি জাহির করতে চান। দিল্লিতে গিয়ে কোনো একটা জায়গায় বসে থেকে পরে কলকাতা ফিরে এসে বলতেন, ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে এলাম।

এইসব লোকের কথায় কি গুরুত্ব দেব? এখন বোধহয় অন্য কোনো দল থেকে কিছু অফার পেয়েছেন, তাই এমন বলছেন”। এদিকে সাধন পান্ডে যেভাবে অবাঙালিদের প্রসঙ্গ নিয়ে এসেছেন পরেশ পালকে আক্রমণ করতে গিয়ে, তাতে বিষয়টি যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ তা পরিষ্কার। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ফুলবাগান, কাঁকুরগাছির বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য হিন্দিভাষী মানুষ বসবাস করেন। ওই এলাকায় মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষজনের বাস রয়েছে দীর্ঘকাল ধরে। এক কথায় ওই ওয়ার্ডটিকে মিনি ভারত বললে অত্যুক্তি হবে না।

আর বিজেপিকে নিয়ে অনেকেই মনে করেন তারা অবাঙালি ঘেঁষা দল। গত লোকসভা নির্বাচনে অবাঙালি ভোটের সিংহভাগ বিজেপি পেয়েছে। তবে কি আগামী দিনে সাধন পান্ডে তৃণমূল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যাচ্ছেন? সেই কারণেই কি তিনি বেশ কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে তৃণমূল নেতৃত্বকে আক্রমণ করে চলেছে নানাভাবে? এ প্রশ্ন কিন্তু উঠছেই মানিকতলা, বেলেঘাটা সহ পূর্ব কলকাতা জুড়ে। এদিনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। ঘটনাটি তিনি শোনেননি, তাই কিছু বলতে পারবেন না।

এমন কথাই জানিয়েছেন তৃণমূলের মহাসচিব। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দুই নেতার কাজিয়া থামানো যে তৃণমূলের কাছে দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে তা এদিন ফের প্রমাণিত হল। নিজস্ব প্রতিনিধি: তৃণমূল রাজনীতিতে গোষ্ঠীকোন্দল নতুন কোনো ঘটনা নয়। বস্তুত দলটা যে বর্তমানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে একেবারে চুরমার হয়ে গিয়েছে তা ফের সামনে এল রবিবার। ছুটির দুপুরে মানিকতলার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সাধন পান্ডে তীব্র আক্রমণ করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক পরেশ পালকে। এদিন পরেশের খাসতালুক ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যা মানিকতলা বিধানসভার অন্তর্গত, সেখানে একটি কর্মসূচিতে এসে সাধন চাঁছাছোলা ভাষা আক্রমণ করলেন তাঁকে।

আরো পড়ুন : বিজেপির উদ্যোগে জগদ্ধাত্রী পুজোয় বাধার অভিযোগ

যা নিয়ে নতুন করে পূর্ব কলকাতার রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল। ৩১নম্বর ওয়ার্ডে এদিন একটি জনসংযোগ কর্মসূচিতে এসেছিলেন সাধন। এই ওয়ার্ড সাধনের বিধানসভা মানিকতলা কেন্দ্রের অন্তর্গত। যদিও এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পরেশ পালের অনুগামী। দীর্ঘদিন ধরে এই ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর ছিলেন পরেশ পাল। সাধন এদিন পরেশের পুরনো ওয়ার্ডে দলীয় কর্মসূচিতে এসে তাঁকে ব্যাপক আক্রমণ করেছেন নাম না করে। সাধনবাবু বলেন,” এখানে প্রোমোটারি রাজ চলছে। এলাকায় মাড়োয়ারিদের বাড়িতে গুন্ডা পাঠিয়ে তাদের চমকানো ধমকানো হচ্ছে।

এটা কি আমাদের বাঙালিদের সংস্কৃতি নাকি? যেভাবে মাঠের মধ্যে ইলিশ উৎসব হচ্ছে তাতে ইলিশ মাছের কাঁটা যত্রতত্র পড়ে থাকছে। এতে মানুষের প্রাতঃভ্রমণ করতে অসুবিধা হচ্ছে। যেখানে নিরামিষাশী মানুষের বেশি বাস, সেখানে কিভাবে ইলিশ ইলিশ উৎসব করা হচ্ছে? অবাঙালিদের থাপ্পড় মারা হচ্ছে। এটা বাঙালিদের মানায়?” এভাবেই এদিন নাম না করে পরেশ পালকে নিশানা করেছেন সাধন পান্ডে। তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও এক হাত নিয়েছেন রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী।

সাধন বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বলেও লাভ নেই। যা চলছে তা তো চলেই আসছে। তাতে তো মনে হচ্ছে, যে গুন্ডামি চলছে তাকে নেতৃত্ব প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এভাবেই এদিন বেলেঘাটার বিধায়ক পরেশ পাল তথা দলকে নিশানা করেছেন সাধন। যদিওথেমে নেই পরেশ পালও। তিনিও সাধনকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। পরেশ বলেন,” উনি একটা ফাটকাবাজ লোক। কোনো ভালো কাজ সহ্য করতে পারেন না। মিথ্যা কথা বলেন, নিজেকে বড় বেশি জাহির করতে চান। দিল্লিতে গিয়ে কোনো একটা জায়গায় বসে থেকে পরে কলকাতা ফিরে এসে বলতেন, ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে এলাম।

এইসব লোকের কথায় কি গুরুত্ব দেব? এখন বোধহয় অন্য কোনো দল থেকে কিছু অফার পেয়েছেন, তাই এমন বলছেন”। এদিকে সাধন পান্ডে যেভাবে অবাঙালিদের প্রসঙ্গ নিয়ে এসেছেন পরেশ পালকে আক্রমণ করতে গিয়ে, তাতে বিষয়টি যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ তা পরিষ্কার। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ফুলবাগান, কাঁকুরগাছির বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য হিন্দিভাষী মানুষ বসবাস করেন। ওই এলাকায় মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষজনের বাস রয়েছে দীর্ঘকাল ধরে।

এক কথায় ওই ওয়ার্ডটিকে মিনি ভারত বললে অত্যুক্তি হবে না। আর বিজেপিকে নিয়ে অনেকেই মনে করেন তারা অবাঙালি ঘেঁষা দল। গত লোকসভা নির্বাচনে অবাঙালি ভোটের সিংহভাগ বিজেপি পেয়েছে। তবে কি আগামী দিনে সাধন পান্ডে তৃণমূল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যাচ্ছেন? সেই কারণেই কি তিনি বেশ কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে তৃণমূল নেতৃত্বকে আক্রমণ করে চলেছে নানাভাবে? এ প্রশ্ন কিন্তু উঠছেই মানিকতলা, বেলেঘাটা সহ পূর্ব কলকাতা জুড়ে। এদিনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। ঘটনাটি তিনি শোনেননি, তাই কিছু বলতে পারবেন না। এমন কথাই জানিয়েছেন তৃণমূলের মহাসচিব। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দুই নেতার কাজিয়া থামানো যে তৃণমূলের কাছে দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে তা এদিন ফের প্রমাণিত হল।

Categories