Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দলে আছে ‘গদ্দার’ নিজের বক্তব্যেই যেন আভাস মমতার

।। ময়ুখ বসু ।।


‘গদ্দার’ আতঙ্কে কার্যত এখন ঘুম ছুটেছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। গদ্দাররা আগামী দিনে তৃণমূলের কাছে যে নয়া বিপদ হয়ে উঠতে পারেন সেই সম্ভাবনাকে উস্কে দিয়ে তিনি এবারের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে চাইছেন রাজ্যজুড়ে। তৃণমূলের অন্দরে যে গদ্দাররা এখনও ঘাপটি মেরে রয়েছে সেই আশঙ্কার কথা এর আগে প্রকাশ্যেই বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকাতেও গদ্দাররা রয়েছেন। এদিন উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের বানেশ্বরের সভা থেকে সেই একই আশঙ্কার কথা ফের ব্যক্ত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের ২০০ টি সিট জিততেই হবে। কারণ, ২০০ টি সিট জিততে না পারলে বিজেপি টাকা খাইয়ে আমাদের দলের বেশ কিছু গদ্দারকে তাদের দলে নিয়ে নিতে পারে। ফলে আগামী দিনে সমস্যায় পড়তে হতে পারে আমাদের। মমতা বলেন, এর আগে কিছু গদ্দাররা তৃণমূল ছেড়ে চলে গিয়েছে। তারা বিজেপিতে গিয়ে তৃণমূলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লড়াই করছে। আর এই সমস্ত গদ্দারদের পথ ধরে ভোটের পর দলের অনেকে বিজেপির কাছে বিক্রি হয়ে যেতে পারেন।

আরো পড়ুন : কোনটা খিস্তি? মোদী মমতার কাছে প্রশ্ন অধীরের

তাই আমাদের এখন থেকেই সতর্ক থাকতে হবে, যে ভাবেই হোক এবারের নির্বাচনে ২০০ টি বেশি আসনে আমাদের জয় নিশ্চিত করতে হবে। যাতে কিছু গদ্দার আগামী দিনে কাছে বিক্রি হয়ে গেলেও আমাদের দলের কোনও ক্ষতি না হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি যেভাবে বাংলা দখলের ক্ষেত্রে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে তাতে ভোট ফলাফলের পর তারা প্রয়োজনে ঘোড়া কেনাবেচার দিকে হাত বাড়াতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন অনেকেই। আর সেই একই আশঙ্কা এখন রাতের ঘুম ছুটিয়েছে তৃণমূল নেত্রীরও।

ভোটের আগে যেভাবে তাঁর আস্থাভাজন একের পর হেভিওয়েট নেতারা বিজেপি শিবিরে যোগ দিয়েছেন তাতে ভোটের পরেও যে সেই ধারা অব্যাহত থাকবে না তার গ্যারান্টি নেই। যে কারণে দলের অন্দরে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি ভোট প্রচারে বারবার গদ্দারদের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। যাতে আগামীতে কেউ দলের সঙ্গে গদ্দারির পথে না হাঁটে সেইজন্য এখন থেকেই সতর্কভাবে পা বাড়াতে চলেছেন তিনি। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত নিয়ম করে প্রতিটি সভা থেকেই নাম না করে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া গদ্দারদের তীব্র আক্রমণ করতেও ছাড়ছেন না।

পিসিসি