Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বিরোধীদের প্রচারে লাগাতার বাধা, জায়গা হারাচ্ছে তৃণমূল

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বৃহস্পতিবার বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে মিঠুন চক্রবর্তীর রোড শো কর্মসূচি ছিল। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি বাতিল হয়। ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মিঠুন-শ্রাবন্তীসহ বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। এদিনই বিকেলে ডোমজুড়ে বিজেপি প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে রোড শো করেন মিঠুন। অভিযোগ ইট ছুঁড়ে শান্তিপূর্ণ মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকড়া অঞ্চলে। বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ আক্রান্ত হয়েছেন কোচবিহারে।

এক মাস আগে পূর্ব কলকাতার ফুলবাগানের কাছে প্রচারে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই ঘটনা ঘটেছে মধ্য কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট অঞ্চলেও। তালিকা শেষ হওয়ার নয়। বিজেপির অভিযোগ তৃণমূলের মদতে দুষ্কৃতীরা এই কাজ করছে। এছাড়া রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের মদতে চোরাগোপ্তা আক্রমণ চলছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। শাসকদলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ কেন বারবার উঠবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আরও চার রাজ্যে ভোটগ্রহণ হয়ে গিয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। বলার মতো অশান্তির ঘটনা ঘটেনি কোথাও। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তিন দফার নির্বাচনেই প্রচুর রক্ত ঝরেছে। বিজেপি এবং তৃণমূল, উভয় দলের সমর্থক বা নেতার মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন চলাকালীন এই ঘটনায় তৃণমূলের ‘ফেস লস’ হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন বারবার এমন অভিযোগ কেন উঠবে তাদের বিরুদ্ধে? তৃণমূলের দাবি গত দশ বছরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে বাংলায়। তৃণমূলের মজবুত সংগঠন নিয়ে গর্ব করেন দলের নেতারা। এই নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসা তো দূরের কথা, একশো আসনের গণ্ডি পার হতে পারবে না বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের ভোট ম্যানেজার প্রশান্ত কিশোর। তা সত্ত্বেও তৃণমূল এত ভয় পাচ্ছে কেন? এই প্রশ্ন করছেন বিরোধী দলের নেতারা।

আরো পড়ুন : ‘দুবাইতে সম্পত্তি আছে, গদ্দারকে জব্দ করুন’, রাজীবকে বেনজির আক্রমণ মমতার

মজার কথা হচ্ছে বিরোধীদের ওপর যত আক্রমণ বাড়বে, ততই তাদের পক্ষে সহানুভূতির হাওয়া বইবে। দশ বছর আগে তৃণমূল যখন বামেদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল, সেখানে অবশ্যই বড় ভূমিকা নিয়েছিল তাদের পক্ষে বিশাল ভাবে থাকা সহানুভূতির হাওয়া। যে সমস্ত অঞ্চলে বিজেপির সংগঠন নেই বললেই চলে, যেখানে লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে তৃণমূল দু’বছর আগেও ভালো লিড পেয়েছে, সেখানেও কেন ঝামেলা করা হচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলছেন সবাই।

উল্লেখ্য ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে প্রচারের সময় আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার। তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় বলে পরিচিত জায়গাটি। গত লোকসভার ফলের ভিত্তিতে এই জেলার ৩১টি আসনেই এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। কিন্তু তাতেও তৃণমূল ভয় পাচ্ছ। আর তাতেই অন্য অঙ্ক দেখছেন রাজনীতি সচেতন মানুষজন। তবে কী তৃণমূল জায়গা হাতছাড়া হওয়া বা ভোটে হারার ভয় থেকেই এমনটা করছে? এই প্রশ্ন উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচন চলাকালীন বিরোধীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের তরফে, অথবা অন্য কোনও ভাবে।

এমন ঘটনা বারবার সামনে আসছে। বৃহস্পতিবার বেহালায় পুলিশ জানিয়েছে সেখানে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থাকায় বিজেপিকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিজেপি প্রার্থী শ্রাবন্তীর দাবি পুলিশ এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য জানাতে পারেননি তাঁদের। তাই সবকিছুতেই বেশ ধোঁয়াশা থাকছে। এই ধরনের ঘটনা পরোক্ষে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেবে বিজেপিকেই, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পিসিসি