কোরবানির ঈদেও বন্ধ রয়েছে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলো

1 min read

।। মনির ফয়সাল ।।

পাহাড়ের চোখজুড়ানো সৌন্দর্য ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কারণে ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের জায়গা বান্দরবান। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই বন্ধ রয়েছে দেশের অন্যতম এ পর্যটনকেন্দ্র। দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকলেও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খোলা হবে এমনটাই অনেকের প্রত্যাশা ছিল।কিন্তু ঈদেও বন্ধ ছিল বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র।

বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্র নীলাচল, নীলগিরি, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক পাহাড়, নবদিগন্ত, প্রান্তিক লেকসহ সব পর্যটন স্পটগুলোতে এবারের ঈদে পর্যটকদের আনাগোনা নেই। এদিকে পর্যটনস্পট বন্ধ থাকায় এর সঙ্গে জড়িত পর্যটকবাহী যান এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে গেল চারমাস ধরে, এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বান্দরবানের আবাসিক হোটেল হিলটনের স্বত্বাধিকারী অমল কান্তি দাশ বলেন, করোনার কারণে গেল ৩ মাস ব্যবসা বন্ধ রয়েছে, আর এর ফলে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিবছর ঈদের বন্ধে বান্দরবানে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটলে ও এবার চিত্রটা ব্যতিক্রম। এবারে করোনার কারণে আমাদের সবার ব্যবসা একেবারেই ক্ষতি হয়ে গেল।

দেখা যায়, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মূল ফটকে লাগানো হয়েছে তালা আর কর্মচারীরা পার করছেন অলস সময়। পর্যটক না থাকায় বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা।

এদিকে, পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র নীলাচল চত্বর ঢেকেছে সবুজ ঘাসে। দীর্ঘদিন ঘাস না কাটায় ইট বিছানো সড়ক ও মাঠ হয়ে উঠেছে জঙ্গলাকীর্ণ। এতে নষ্ট হচ্ছে নীলাচলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। নীলাচলের অবস্থান বান্দরবান শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। এখান থেকে দেখা যায় গোটা বান্দরবান শহর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭০০ ফুট উচ্চতার এ পাহাড়ের চূড়ায় উঠে ছোঁয়া যায় মেঘও। সারা বছর পর্যটক ও স্থানীয়দের ভিড়ে সরগরম থাকা নীলাচল এখন বুনো লতা ও ঘাসে ভরা।

নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের কর্মচারী উলাফো চাকমা জানান, চত্বরের ঘাস লম্বা হচ্ছে। বারবার কাটতে হয়। জঙ্গলের মত হয়ে আছে নীলাচল চত্বর। পর্যটক থাকলে এই পরিবেশ হতো না। করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকায় এ অবস্থা হয়েছে।

পর্যটনকেন্দ্র নীলাচলের তত্ত্বাবধায়ক আদিব বড়ুয়া বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাই এবারে সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ। আমাদের এই পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে প্রতিদিনই অনেকে মূল ফটকের সামনে আসেন। কিন্তু অনুমতি না থাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

নীলাচলের মতো অবস্থা জেলার অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেরও। চার মাসের বেশি সময় পর্যটকশূন্য হয়ে আছে মেঘলা, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরি।

মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রের হলিডে ইন রিসোর্টের পরিচালক জাকির হোসেন জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে মার্চ থেকে রিসোর্টটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে প্রতিদিন লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এ লোকসান কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।

এ ব্যাপারে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শামীম হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদে বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হলেও শিগগিরই বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ও সব আবাসিক হোটেল-মোটেল খোলা হবে। বান্দরবানে দীর্ঘদিন লকডাউন ছিল আর বন্ধ ছিল যানবাহন চলাচল। তবে এখন শুধু পর্যটনকেন্দ্র ও আবাসিক হোটেল-মোটেল বন্ধ।

তিনি আরও বলেন, বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এই বন্ধে আরও নিত্যনতুন কাজ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে এবং দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটকের আগমন ঘটবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ থেকে বান্দরবানের সব আবাসিক হোটেল-মোটেল ও পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় বান্দরবান জেলা প্রশাসন। আর সেই থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে বান্দরবানের সব আবাসিক হোটেল-মোটেল ও পর্যটনকেন্দ্র।