Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

শোভন সক্রিয় হতেই প্রমাদ গুনছে তৃণমূল

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

রাজ্যের তৃণমূল সরকার কি নিরপেক্ষ নয়? এই প্রশ্ন নতুন করে তুলছে রাজ্য বিজেপি। অতীতের মতো এবারেও বিজেপি রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে চেয়ে পুলিশের অনুমতি চাইলেও প্রশাসন সেটা প্রথমে মঞ্জুর করেনি। যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় রাজ্য রাজনীতিতে। বিজেপি নেতারা এই ঘটনায় যথারীতি বেশ ক্ষুব্ধ। উল্লেখ্য আজ শোভন চট্টোপাধ্যায় ( Shovon Chatterjee) মোমিনপুর থেকে হুড খোলা জিপে মিছিল করে মুরলীধর লেনের বিজেপি অফিসে আসবেন বলে দলের তরফে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর আজ থেকেই শোভন সক্রিয়ভাবে রাজ্য বিজেপির হয়ে কর্মকাণ্ডে নেমে পড়েছেন। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভনকে ঘিরে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের উচ্ছ্বাস রয়েছে চোখে পড়ার মতো।

তখনই দল ঠিক করে শোভনকে মিছিল করে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে আসা হবে। সেই ভাবেই কর্মসূচি ঠিক করা হয়। বাইক মিছিলের জন্য অনুমতি চাওয়া হয় কলকাতা পুলিশের কাছে। কিন্তু যথারীতি মেলেনি অনুমতি। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে মিছিল বের হলে যানজট সমস্যা তৈরি হবে, এই অজুহাতে পুলিশ অনুমতি দেয়নি মিছিল করার। কিন্তু পরে পরিস্থিতির বদল হয়। বিকল্প রুটে পুলিশ মিছিল করার অনুমতি দেয়। সকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে রীতিমত নাটক চলতে থাকে। মিছিলের অন্যতম আয়োজক বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের সঙ্গে পুলিশ কর্তাদের দফায় দফায় কথা হয়। শেষ পর্যন্ত দুপুর ২:৩০ নাগাদ পুলিশ বিকল্প রুটে মিছিলের অনুমতি দেয়। জানানো হয় বাইক মিছিল করা যাবে না। বহুদিন ধরেই তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়ে গিয়েছে।

একের পর এক নেতা-মন্ত্রী বিধায়ক সাংসদরা দল ছাড়ছেন। বেসুরো গাইছেন রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়সহ (Rajiv Banerjee) অনেকেই। এই অবস্থায় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো সাংগঠনিক শক্তিধর নেতা সক্রিয়ভাবে বিজেপির হয়ে কাজ করতে নেমে পড়াটা তৃণমূলের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য তৃণমূলে থাকাকালীন কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তৃণমূল বরাবর দুটি জেলাতেই চোখে পড়ার মতো সাফল্য পেয়েছে। সেক্ষেত্রে শোভন বিজেপির হয়ে কলকাতা সাংগঠনিক জেলার হাত ধরলে তৃণমূলের চিন্তার কারণ নিশ্চিতভাবে আছে। এই সাংগঠনিক জেলার মধ্যে রয়েছে কলকাতার ১১টি আসনের পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমস্ত আসন। সেইসঙ্গে দমদম লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আসনগুলিও।

গত লোকসভা নির্বাচনের ফল বলছে এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বিজেপি ভোট বাড়ালেও অন্যান্য জেলার মত ভালো ফল করতে পারেনি। এরপরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে শোভন সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে শোভন বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় (Baishakhi Banerjee)। কিন্তু তারপর অজ্ঞাত কারণে দুজনেই বিজেপির সঙ্গ এড়িয়ে চলেন। অবস্থার পরিবর্তন হয় পুজোর পর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্য সফরে আসেন। তখন তিনি বৈঠক করেন শোভন, বৈশাখীর সঙ্গে। এরপরেই তাঁরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। দলের তরফে শোভনকে কলকাতা সাংগঠনিক জেলার পর্যবেক্ষক করা হয়। বৈশাখী পান সহকারি আহ্বায়কের দায়িত্ব।

আরো পড়ুন :মালদায় গুলি চালানোর ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি খগেন মুর্মুর

এরপরই ঠিক হয় আজ থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করে দেবেন তাঁরা। সেইমতো যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আর তাঁদের বরণ করে নেওয়া হবে বর্ণাঢ্য মিছিল সহযোগে। দেওয়া হবে সংবর্ধনা। দীর্ঘদিন ধরেই শোভনের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছিল বিজেপির। সেই সময় দেখা যায় তিনি দূরত্ব কমিয়েছেন তৃণমূলের সঙ্গে। এমনকি কালীঘাটে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ভাইফোঁটাও নেন। তিনি কি ফের তৃণমূলে যাচ্ছেন, এ ব্যাপারে জল্পনা শুরু হয়। কিন্তু শোভন সেটাও করেননি। অবশেষে নতুন বছরের গোড়াতেই বিজেপির হয়ে সক্রিয় হয়ে উঠলেন তিনি।

গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত গোলপার্কে শোভনের বাড়িতে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠক হয়। ছিলেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। কিভাবে শোভন কাজ শুরু করবেন সেই ব্যাপারে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়ে যায়। শোভনের অনুগামীরা জানাচ্ছেন, দাদার হোমওয়ার্ক মোটামুটি ভাবে করা হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার তৃণমূলের কয়েকজন বিদায়ী কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগদান করতে চলেছেন বলে খবর। অর্থাৎ খাস কলকাতাতেও এবার শোভনের হাত ধরে তৃণমূল ভাঙতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলের তরফে দীর্ঘদিন ধরে শোভন কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্ব সামলেছেন সফলভাবে। অর্থাৎ এই দুটি জেলার সাংগঠনিক বিষয়ে খুঁটিনাটি জানা আছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতা এবার বিজেপির হয়ে কাজে লাগাতে চাইছেন তিনি।

জানা গিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের বিভিন্ন ব্লক স্তরের নেতানেত্রীরা শোভনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আরে এতেই রীতিমতো প্রমাদ গুনছে তৃণমূল। কারণ দলের নীচুতলার কর্মীরাই ভোট বৈতরণী পার করিয়ে থাকেন। সেই কাজটাই এবার বিজেপির হয়ে দায়িত্ব নিয়ে করতে চান প্রাক্তন মন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি তাঁকেও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব খুবই গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ এই সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির ফল আশানুরূপ হয়নি। যেখানে তাঁদের লক্ষ্য ২০০ আসনে জেতা, সেখানে এতগুলি আসন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতেই হবে। রাজ্য বিজেপির যেসব নেতা নেত্রীরা এখানে দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের ওপর ভরসা করতে পারছে না দল। তাই রাজ্য বিজেপিতে শোভনের ভূমিকা এখন অপরিসীম হয়ে উঠেছে। শোভন কিভাবে দলের হাল ধরেন সেটাই এখন দেখার।