লক্ষ্য বিধানসভা নির্বাচন, রাজ‍্য বিজেপির জরুরি বৈঠক দিল্লিতে

।। রাজীব ঘোষ।।

দিল্লিতে রাজ্য বিজেপির বিশেষ বৈঠক শুরু হচ্ছে। বুধবার অর্থাৎ ২২ শে জুলাই থেকে দিল্লিতে এই বৈঠক শুরু হচ্ছে। বৈঠকের আগের দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জরুরি তলবে দিল্লিতে পৌঁছেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। সপ্তাহব্যাপী এই বৈঠক শুরুর আগে দলে বা সরকারে মুকুলের ভূমিকা সম্পর্কে অমিত শাহ কথা বলে নিতে চান বলে বিজেপির দাবি। রাজ্যের বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকে থাকছেন। বৈঠকে ডাকা হয়েছে বিজেপির বিভিন্ন জেলা কমিটির সভাপতিদের।

ডাক পেয়েছেন সাংসদরা। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এই বৈঠক চলতে পারে বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং বাকি ৫ সাধারণ সম্পাদক এর মধ্যে চারজন সায়ন্তন বসু, রথীন্দ্রনাথ বসু এবং জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বাংলার দায়িত্ব যে তিনজন নেতার হাতে রয়েছে সেই শিব প্রকাশ, কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং অরবিন্দ মেনন দলের রাজ্য এবং জেলা নেতৃত্ব কে নিয়ে বসবেন।

বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষ এবং দলের প্রাক্তন সভাপতি তথা দেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৈঠকে যোগ দেবেন বলে সূত্রের খবর। বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে রাজ্য বিজেপির নেতারা কিছু বলেননি। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেছেন রুটিন বৈঠক। দলের কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হবে। বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়াতে শুরু করেছিল। তিনি দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাননি, মোদির ক্যাবিনেটে স্থান হয়নি, সেই কারণে বিজেপি ছেড়ে তিনি তৃণমূলের ফিরে যেতে চান বলে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছিল।

জানা যাচ্ছিল একুশে জুলাই এর মঞ্চে তৃণমূলে ফিরতে পারেন মুকুল রায়। তার ছেলে বীজপুর এর বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় তৃণমূলে ফিরতে পারেন। এই বিষয়ে মুকুল রায় বলেছিলেন সবই অপপ্রচার। তারপরেই জানা যায় মুকুল রায় দিল্লি থেকে জরুরি তলব পেয়েছেন। তলব করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মুকুল রায়ের দায়িত্ব বাড়তে চলেছে বলে বিজেপির সূত্রের খবর। দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বা মোদী ক্যাবিনেটে মুকুল রায় দায়িত্ব পেতে পারেন বলেই জানা যাচ্ছে।

সেই কারণেই মুকুলকে দিল্লিতে কথা বলার জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন অমিত শাহ। তবে ঠিক কী কারণে মুকুলকে ডাকলেন তিনি, তাদের মধ্যে কি নিয়ে আলোচনা হবে, সেই বিষয়ে মুকুল ঘনিষ্ঠরা কিছু বলতে পারেননি। হেমতাবাদ এর বিজেপি বিধায়কের রহস্যমৃত্যুর পরে বিজেপির প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি করে এসেছেন।

রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন এর সম্ভাবনার কথা শুরু হবার পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কি প্রতিক্রিয়া আসছে সেই বিষয়টিও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের কাছ থেকে জানতে পারেন দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব। বৈঠক কয়েকঘন্টার বা একদিনের নয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাংলা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ২২ শে জুলাই থেকে বৈঠক শুরু হয়ে ২৭ শে জুলাই পর্যন্ত চলতে পারে। প্রয়োজনে সময়সীমা আরো বাড়ানো হতে পারে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জেলা ধরে আলোচনা করতে চাইছেন।

তাই দিলীপ ঘোষ, সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে জেলা সভাপতিদের ডাকা হয়েছে। যে জেলাকে নিয়ে আলোচনা হবে সেই জেলার সভাপতি কে বৈঠকে থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে নির্বাচিত সাংসদদের উপস্থিত থাকতে হবে। রাজ্যে দলের সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে যার হাতে জেলার দায়িত্ব সেই সব জেলাকে নিয়ে আলোচনার সময়ে তাকেও বৈঠকে থাকতে হবে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা দখল একমাত্র লক্ষ্য বিজেপির।

সেই দিকে লক্ষ্য রেখে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব জেলা ধরে ধরে কোনও কোনও ক্ষেত্রে লোকসভা আসন ভিত্তিক ভাবে আলোচনা করা হবে। দলের শক্তি কোথায় কতখানি, সাংগঠনিক পরিস্থিতি কিরকম, সমস্ত কিছু বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে এই বৈঠকে। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। সাংগঠনিক পরিস্থিতির পাশাপাশি রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতারা। সপ্তাহব্যাপী রাজ্য বিজেপির এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।