গণপতি মূর্তির গঠন বৈচিত্র‍্যের গুণাগুণ

।। রাজীব ঘোষ ।।

সিদ্ধিদাতা গণেশের নাম স্মরণে যাত্রা শুভ হয়। কার্যসিদ্ধি হয়। অঘটন রোধ করা সম্ভব হয়। গণপতি মূর্তির উপাদান গঠন বৈচিত্র ইত্যাদির সঙ্গে গুনাগুন যুক্ত থাকে। বাস্তু ও তন্ত্র মতে বামাবর্ত শুড়বিশিষ্ট গণপতি সবথেকে শুভ মূর্তি। এই মূর্তি বাড়িতে রাখলে সব কাজে সাফল্য আসে। পুরাণ অনুসারে গণেশের জন্ম হয়েছিল মা পার্বতীর নিজস্ব ইচ্ছায়।

তার জন্মে শিবের কোনো ভূমিকা ছিল না। পার্বতীর স্নান কক্ষে প্রবেশের পথে বাধা পেয়ে দ্বাররক্ষী গণেশের সঙ্গে যুদ্ধ করেন এবং তার মস্তক ছেদন করেন। পরে তার মস্তকে হস্তিমুন্ড স্থাপন করে পার্বতীর রোষ থেকে মুক্ত হন শিব। পুরাণ অনুযায়ী পার্বতী অন্নপূর্ণা আর শিব সংসারে উদাসীন এক পুরুষ। গণেশের মধ্যে দুই গুণ এর সমাহার ঘটেছে বলে মনে করা হয়। মূর্তিতত্ত্ব অনুসারে পার্বতীর স্থান শিবের বামদিকে।

গণেশের স্থান শিব ও পার্বতীর মধ্যস্থলে। তার শুড় যদি ডান দিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে সেই মূর্তির মধ্যে সংসার ঔদাসীন্য বর্তমান। তিনি সিদ্ধিবিনায়ক হলেও তার কাজ মোক্ষ প্রদান। তার শুড় যদি বামদিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে তাহলে তিনি মা পার্বতীর গুণাবলীর দিকে ধাবিত। তার কৃপায় গৃহে শান্তি এবং সমৃদ্ধি স্থায়ী হয়। তাই বামাবর্ত শুড়বিশিষ্ট গণেশ মূর্তি গৃহে রাখাই ঠিক বলে মনে করা হয়।